না ফেরার দেশে অভিনেত্রী দিতি

না ফেরার দেশে অভিনেত্রী দিতি

না ফেরার দেশে অভিনেত্রী দিতিদীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন নন্দিত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতি। রোববার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে দিতির বয়স হয়েছিল ৫০ বছর।

ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এই অভিনেত্রী। দিতির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের চিফ কমিউনিকেশনস অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডা. সাগুতা আনোয়ার। দিতি দীর্ঘদিন ধরে নিউরোসার্জারি পরামর্শক সৈয়দ সায়ীদ আহমেদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইইউ) রাখা হয়েছিল দিতিকে। মৃত্যুর সময় তার পাশে ছিলেন মেয়ে লামিয়া চৌধুরী ও ছেলে দীপ্ত চৌধুরী।

ডা. সাগুফতা বলেন, ‘মৃত্যুর আগমুহূর্তে দিতির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কৃত্রিম পর্যায়েও শ্বাস নিতে পারছিলেন না তিনি। একপর্যায়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’

গত বছরের ২৫ জুলাই থেকে ভারতের মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজি (এমআইওটি) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন দফা চিকিৎসা শেষে রেডিয়েশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ‘পারকিনসন’ রোগে আক্রান্ত হন দিতি।

বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৮ জানুয়ারি এ অভিনেত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পরপরই তাঁকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে।

এদিকে দিতির মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে।

শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার।

তিনি বলেন, ‘দিতি আমাদের চলচ্চিত্রের একজন গুণী অভিনেত্রী। অসংখ্য সুপারহিট ছবি তিনি উপহার দিয়েছেন। তার চলে যাওয়াটা বড় অকালেই হয়ে গেল। দিতির বিদেহি আত্মার জন্য দোয়া করবেন সবাই।’

অসুস্থ হওয়ার আগে দিতি দুটি নতুন ধারাবাহিক নাটকে কাজ করছিলেন। একটি ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’, অন্যটি ‘মেঘে ঢাকা শহর’। পাশাপাশি তিনি বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘রাজা বাবু’ ছবির কাজও করছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রে দিতির সম্পৃক্ততা ঘটে। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ‘ডাক দিয়ে যাই’। কিন্তু ছবিটি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। দিতি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ‘আমিই ওস্তাদ’। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন আজমল হুদা মিঠু। এরপর দিতি প্রায় দুই শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন। সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘স্বামী স্ত্রী’ ছবিতে দিতি আলমগীরের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ছবিতেই অভিনয় করে দিতি প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

দিতি অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে হীরামতি, দুই জীবন, ভাই বন্ধু, উছিলা, লেডি ইন্সপেক্টর, খুনের বদলা, আজকের হাঙ্গামা, স্নেহের প্রতিদান, শেষ উপহার, চরম আঘাত, স্বামী-স্ত্রী, অপরাধী, কালিয়া, কাল সকালে, মেঘের কোলে রোদ, আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা, মুক্তি, কঠিন প্রতিশোধ, জোনাকির আলো, তবুও ভালোবাসি, পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী, হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ, মাটির ঠিকানা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত ও দূর্জয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *