রাজধানীতে নারী পুলিশ সদস্যকে গণধর্ষণ

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া এলাকায় একটি বাসায় এক নারী পুলিশ সদস্যকে সাবেক স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা ও তার তিন বন্ধু মিলে গণধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া এলাকায় একটি বাসায় এক নারী পুলিশ সদস্যকে সাবেক স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা ও তার তিন বন্ধু মিলে গণধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া এলাকায় একটি বাসায় এক নারী পুলিশ সদস্যকে সাবেক স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা ও তার তিন বন্ধু মিলে গণধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ওই নারী পুলিশ সদস্যের বড় বোনের জানান, ধর্ষণের শিকার ওই নারী সদস্য তুরাগ থানায় কর্মরত। গাইনি সমস্যার কারণে গত ১০ জুন রাজারবাগ পুলিশ লাইনে তিনি চিকিৎসা নিতে যান। তখন তার সাবেক স্বামী পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শকের পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা কৌশলে তাকে হাসপাতাল থেকে তিলপাপাড়ার ৮৬ / ৩ নম্বর বাসায় নিয়ে যান। এরপর রাতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও তার তিন বন্ধু মিলে তাকে রাতভর গণধর্ষণ করেন।

ওই নারী পুলিশ সদস্যের বড় বোনের দাবি, গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ওই বাড়ির মালিকের সহায়তার ১১ জুন তিনি বেরিয়ে আসেন। এরপর পরিবারের সবার কাছে বিষয়টি জানান। এর মধ্যে কী করা যায়, তা ভাবতে একদিন চলে যায়। পরে আজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই নারী পুলিশ সদস্যের বড় বোন আরও জানান, চার বছর আগে পুলিশের ওই কর্মকর্তার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দুই বছর আগে তাদের এক সন্তান হয়। কিন্তু পারিবারিক কলহের জেরে বছরখানেক আগে স্বামী তাকে তালাক দেন। এরপর তিনি তার ওই সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাই, মামলার জেরেই তাকে গণধর্ষণ করা হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-১ এ পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোজাম্মেল হক ওই নারী পুলিশ সদস্যের হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ধর্ষণের শিকার নারী পুলিশ সদস্যের মামলা নেয়া নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তার পরিবারের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, খিলগাঁও থানা তাদের মামলা নেয়নি। আর পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কেউ মামলা করতে থানায় যায়নি।

তুরাগ থানায় কর্মরত পুলিশের ওই নারী সদস্যকে তার সাবেক স্বামী সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কয়েকজন সহযোগীসহ ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলা না নেয়ার অভিযোগটি শনিবার বিকালে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন ধর্ষণের শিকার পুলিশ সদস্যের একজন ভাই। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ২০১১ সালে তার বোনের বিয়ে হয় খিলগাঁও থানায় কর্মরত ওই এএসআইয়ের সঙ্গে। ২০১৪ সালে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তাদের ঘরে একটি সন্তানও রয়েছে। গত বুধবার (১০ জুন) বিকাল চারটার দিকে এএসআই ফোন করে তার বোনকে সব ঝামেলা মিটিয়ে নতুন করে সংসার করার কথা বলেন। পরে তার বোন কথামতো সেদিনই বাসায় গেলে এএসআই এবং তার কয়েকজন সহযোগী মিলে বোনকে ধর্ষণ করেন। এর পরদিন (বৃহস্পতিবার) ১১ জুন এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।

শুক্রবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি হলে ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য ওই নারী পুলিশকে শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলা না নেয়া প্রসঙ্গে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এমন অভিযোগ শুনে আমি আশ্চর্য হয়েছি। আমার পরিবারের কেউ নির্যাতনের শিকার হয়ে থানায় মামলা করতে এলে আমি সেই মামলা নেব না, এটা হতে পারে না।”

তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে সব সময় মানসিক চাপে রাখেন বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক স্বামীর ধর্ষণের শিকার পুলিশের নারী কনস্টেবল। তিনি বলেছেন, তুরাগ থানায় তিনি থাকতে চান না।

সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের ফটকে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি।

সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে হাসপাতালের কক্ষ থেকে বের হয়ে ওই নারী পুলিশ সদস্য বলেন, “আমি তুরাগ থানায় থাকি। ওখানকার ওসি, আমাকে সব সময় একটা মানসিক চাপের মধ্যে রাখে। ওখানে মমিন নামে এক মুন্সি আছে, এএসআই আছে, যে আমাকে সব সময় প্রেসারে রাখে…। আমি ওই থানায় থাকব না।”

ওই নারী পুলিশ সদস্যকে মানসিক চাপে রাখার অভিযোগের বিষয়ে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব এ খুদার কাছে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “এই অভিযোগ একেবারে মিথ্যা। আমি কেন মানসিক চাপে রাখব। সে আসে, ডিউটি করে আবার চলে যায়। আমি কীভাবে ঝামেলা করব?”

মমিন নামে এক ‘মুন্সির’ ব্যাপারে ওসি বলেন, “একজন কনস্টেবল আছেন মমিন নামে। কিন্তু তার ব্যাপারেও কখনো এ ধরনের অভিযোগ আসে নাই। অভিযোগ আসলে অবশ্যই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।”

তুরাগ থানায় কর্মরত ওই নারী পুলিশ সদস্যকে তার সাবেক স্বামী খিলগাঁও থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চারজন সহযোগী নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নারী পুলিশ সদস্যের ভাই জানান, ২০১১ সালে তার বোনের বিয়ে হয় ওই এএসআইয়ের সঙ্গে। ২০১৪ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। তাদের ঘরে এক সন্তানও রয়েছে। গত ১০ জুন বিকাল ৪টার দিকে এএসআই ফোন করে তার বোনকে সব ঝামেলা মিটিয়ে নতুন করে সংসার করার কথা বলেন। পরে তার বোন কথামতো সেদিনই সাবেক স্বামীর বাসায় গেলে তিনি ও তার চার সহযোগী মিলে তাকে ধর্ষণ করেন।

নারী পুলিশ সদস্যের ভাই আরো জানান, এর পরের দিন উদ্ধার হয়ে খিলগাঁও থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি পুলিশ। এরপর ১২ জুন রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি হলে ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য তাকে শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক ওই নারী পুলিশ সদস্যের হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *