ঢাবিতে নারী নিপীড়কদের গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভ

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ষবরণে আসা নারীদের ওপর যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রগতিশীল সংগঠনগুলো।

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ষবরণে আসা নারীদের ওপর যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রগতিশীল সংগঠনগুলো।পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে বর্ষবরণে আসা নারীদের ওপর যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রগতিশীল সংগঠনগুলো।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম জিলানী।

ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে বুধবার দুপুর ১টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এ দাবি জানান।

একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সার্বিক নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে প্রগতিশীল ছাত্রজোট বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যৌন নির্যাতন ও দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার সেখানে গিয়ে শেষ হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জি এম জিলানী অভিযোগ করেন, টিএসসি ও মিলন চত্বরে পুলিশের অবস্থানের কাছাকাছি জায়গায় নারীদের ওপর ওই ন্যক্কারজনক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেখানে পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও সিসি ক্যামেরা ছিল। কিন্তু ঘটনার সময় পুলিশ কোনো ভূমিকা পালন করেনি। দায়িদের গ্রেফতারেও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে তারা নানা টালবাহানা করেছে।

তিনি আর বলেন, সমগ্র জাতি যখন আনন্দমুখর পরিবেশে নববর্ষকে বরণ করে নিচ্ছিল, তখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে ১৫-২০ জন নারীকে সভ্যতা বিবর্জিতভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ একে অপরের ওপর দায়ভার চাপানোর চেষ্টা করছে দায়সারা বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি হাসান তারেক, সহ-সভাপতি মারুফ বিল্লাহ তম্ময়, দফতর সম্পাদক আল-আমিন, ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুমন সেন গুপ্ত, ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দী ও সাধারণ সম্পাদক তুহিন কান্তি দাশ প্রমুখ।

এদিকে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক এ এম আমজাদ বলেন, পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম, ওইদিন যেন ক্যাম্পাসের ফুটপথে কোনো দোকান না থাকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবাধে গাড়ি চলাচল না করে এবং টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ওই গেটটি যেন বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু পুলিশ তা করেনি, এর ফলেই এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।

এ সব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পুলিশের ওপর নির্ভর করা ছাড়া বিশেষ কিছু করার নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা পুলিশকে আমাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা হয়নি।

ঢাবি প্রক্টর জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার জন্য পুলিশকে আমরা বলেছি।

শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, পয়লা বৈশাখে প্রতি বছরই অনেক মানুষের সমাগম হয়। কয়েকজন নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে তা আমরা শুনেছি। তবে থানায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। কেউ মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধী শনাক্তকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদর দফতরে ভিডিও ফুটেজ পাঠানোর জন্য বলেছি। কিন্তু এখনো পাঠানো হয়নি।

মঙ্গলবার বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে এসে যৌন হয়রানির শিকার হন কয়েকজন নারী। এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে এবং তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে একদল যুবকের হামলায় হাত ভেঙে যায় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দীর।

১ thought on “ঢাবিতে নারী নিপীড়কদের গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *