Nawaz-Sharif-steps-down-as-PM

নওয়াজ শরিফের পদত্যাগ

সর্বোচ্চ আদালতে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।

শুক্রবার পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির রায়ে সুপ্রিমকোর্ট নওয়াজকে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করে।

রায় ঘোষণার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সুপ্রিমকোর্টের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নওয়াজ শরীফ পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

পানামা পেপারসে ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা যায়, নওয়াজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। এ অভিযোগের তদন্ত করতে আদালতের নির্দেশে যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়। জেআইটির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নওয়াজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদের উৎস জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল আসতার আউসাফ বলেন, নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী পদে আজীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

তবে নওয়াজ পদ ছাড়লে তার স্থলে কে দায়িত্ব নেবেন সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে দেশটিতে ২০১৮ সালে নির্বাচনের কথা রয়েছে।

পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্টের এ রায়ের মধ্য দিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসা নওয়াজকে শাসনামল পূর্ণ করার আগেই পদ হারাতে হলো।

২০১৩ সালে সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন নওয়াজ। এর আগের দুইবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি তিনি। এর মধ্যে ১৯৯৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান নওয়াজ। প্রথমবার ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ এবং দ্বিতীয়বার ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা ছিলেন তিনি। ১৯৯৩ সালেও দুর্নীতির দায়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয় নওয়াজকে।

এদিকে মামলার রায়কে ঘিরে ইসলামাবাদের আদালত প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ এবং আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

আদালত নওয়াজ পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে দুর্নীতির তথ্য উপস্থাপনের জন্য তদন্ত দলকে ছয় সপ্তাহের সময় দিয়েছেন। এসময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরেরও নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

আদালত নওয়াজের পাশাপাশি দুর্নীতির দায়ে তার মন্ত্রীসভার অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার ও সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন সফদারকে পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণা দিয়েছেন।

পাঁচ বিচারপতি আসিফ সায়্যিদ খোসা, গুলজার আহমেদ, এজাজ আফজাল খান, আজমত সায়্যিদ ও ইজাজুল আহসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে ওই বেঞ্চের বিচারপতি খোসা ও গুলজার নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। বাকি তিন বিচারপতি যৌথ তদন্ত দল গঠনের পক্ষে রায় দেন। আর সেই দলের তদন্তের পর এবার নতুন রায় ঘোষিত হলো নওয়াজের বিরুদ্ধে।

এর আগে পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রীই মেয়াদের নির্ধারিত পাঁচ বছর পূর্ণ করতে পারেননি। মুসলিম লীগ সরকারের প্রধান নওয়াজের ভাগ্যেও তা-ই জুটল।

সুপ্রিম কোর্টের এক নম্বর কক্ষে রায় ঘোষণা করা হয়। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার আবেদনকারী আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রধান শেখ রাশিদ ও জামায়াত-ই-ইসলামীর প্রধান শেখ সিরাজুল হক।

আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণাকালে সুপ্রিম কোর্ট ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা নেওয়া হয়। মোতায়েন করা হয় ইসলামাবাদ পুলিশ ও পাঞ্জাব রেঞ্জার্সের প্রায় তিন হাজার সদস্যকে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *