ধর্ষক তুষারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী

চলন্ত মাইক্রোবাসে গারো তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার আশরাফ খান ওরফে তুষার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

চলন্ত মাইক্রোবাসে গারো তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার আশরাফ খান ওরফে তুষার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।চলন্ত মাইক্রোবাসে গারো তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার আশরাফ খান ওরফে তুষার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম আশিকুর রহমানের আদালতে বৃহস্পতিবার দুপুরে তুষারকে হাজির করেন ভাটারা থানার পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) সাজ্জাদ হোসেন। তিনি আদালতে তুষারের জবানবন্দী গ্রহণের আবেদন জানান।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬৪ ধারায় তুষারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণ করেন আদালত।

গত ২৮ মে গণধর্ষণের মামলায় আশরাফ খান ওরফে তুষার ও ড্রাইভার লাভলুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে আসামিদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে ওই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ভাটারা থানার ওসি (তদন্ত) সাজ্জাদ হোসেন আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনেরই রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ আসামিদের রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন।

এদিকে মামলাটির প্রত্যক্ষদর্শী ৩ জন সাক্ষি আদালতে মাজিস্ট্রেটের কাছে সাক্ষি হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। এরা হলেন- নুরুল আলম, মাহবুব হোসেন এবং খোকন সরদার। ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হোসেন, হাসিবুল হক এবং মাসুদ জামান এদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার আশরাফ খান ওরফে তুষারকে পটুয়াখালী কলাপাড়ার কুয়াকাটা থেকে এবং চালক লাভলুকে রাজধানীর গুলশান-১ নম্বর থেকে আটক করা হয়।

যমুনা ফিউচার পার্ক শপিং মলের টেক্সমার্ট নামক প্রতিষ্ঠানের সেলসম্যন হিসেবে চাকরজীবী ওই তরুণী মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, গত ২১ মে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টেক্সমার্ট নামক প্রতিষ্ঠানে ডিউটি করার পর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন দলিপাড়ার বর্তমান ঠিকানার বাসায় যওয়ার জন্য ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে ভাটারা থানাধীন কুড়িলস্থ সিনহা সিএনজি মটরস অ্যান্ড স্টিল টেকনো নামক দোকানের সামনে বাসে ওঠার জন্য আসেন। বাসে প্রচণ্ড ভিড় থাকায় বাসে উঠতে পারছিলেন না।

বাসের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় রাত সোড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ দিক থেকে অ্যাশকালারের একটি মাইক্রোবাস তার সামনে এসে দাঁড়ায় এবং দু’জন ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্রের মুখে গাড়িতে জোর করে ওঠায়। গাড়িতে পাঁচজন ছিল। দু’জন ফর্সা এবং তিনজন শ্যামলা বর্ণের। একজনের হাতে কালো বেসলেট ছিল। সবাই স্বাস্থ্যবান এবং ড্রাইভারের মাথার চুল কিছুটা লম্বা এবং একজনের মুখে খোচা খোচা দাঁড়ি ছিল। যাদের পুনরায় দেখলে তিনি চিনবেন। গাড়িতে তোলার পর ড্রাইভার মাইক্রোবাস এক ঘণ্টা যাবৎ ধীরে ধীরে চালিয়ে এদিক সেদিক ঘুরতে থাকেন। ওই সময়ের মধ্যে ড্রাইভার ছাড়া বাকি চার জন গাড়ির পেছনের সিটে জোর করে পলাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। সর্বশেষ ড্রাইভার একটি নির্জন স্থানে গাড়ি থামিয়ে সেও ওই তরুণীকে জোর করে ধর্ষণ করে এবং রাত পৌনে ১০টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানাধীন জসিম উদ্দিন রোডের মাথায় এই তরুণীকে নামিয়ে দেয়।

তবে পাঁচজন কর্তৃক ধর্ষণের কথা বললেও রিমান্ডে যাওয়া তুষার ও লাভলু গ্রেফতারের পর র‌্যাবের কাছে দাবি করেছে মাইক্রোবাসে তারা দুইজনই ছিল এবং তারা দুইজনই ধর্ষণ করেন।

ধর্ষক আশরাফ খান ওরফে তুষার বলেছেন, গত ১৭ মে দুই বিদেশি ক্রেতাকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কের টেক্স মার্ট শো-রুমে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় ধর্ষণের শিকার ওই গারো তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তুষার ওই তরুণীকে জানান যে, তিনি সিগমা বায়িং হাউজে চাকরি করেন।

তরুণীটি জানতে চান, সেখানে কোনো লোক নিয়োগ হবে কি না। নিয়োগ করা হবে এ ফাঁদ পেতে তুষার ওই তরুণীর কাছ থেকে কৌশলে মোবাইল নম্বর নেন এবং মোবাইলে বেশ কয়েকবার তাদের মধ্যে কথাও হয়। পরে পরিকল্পিতভাবে গত ২১ মে মাইক্রোবাসে তুলে এই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *