situation-of-fine-arts-dept-of-public-university

দেশের চারুকলা কলেজের চলমান প্রশাসন ও শিক্ষাব্যবস্থা

শিক্ষা সংস্কৃতি একটি জাতিকে উন্নত শিখরে নিয়ে যেতে সক্ষম তেমনি একটি জাতি কত উন্নত তা তার সংস্কৃতির মধ্যেই পরিচয় পাওয়া যায়। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে শিক্ষার হার উন্নত দেশের তুলনায় কম। যদিও স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু শিক্ষার মানের উন্নয়ন ঘটেনি সেই হারে। তবুও মানুষের জীবন যাপনের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। সেই সাথে রুচিবোধের পাশাপাশি আমাদের সামাজিক রীতিনীতি, কৃষ্টি কালচারের চর্চাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এসবের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে চারুকলা চর্চার প্রয়োজনীয়তা লক্ষনীয় ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের চারুকলার প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা দেরিতে হলেও প্রায় সত্তর বছর হতে চলেছে। এর মধ্যে স্বাধীনতার পর চারুকলার প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। এদেশের সরকারিসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে চারুকলা পাঠ্য বিষয় হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্হান দখল করে নিয়েছে। এখনও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিষয়টিকে অর্ন্তভূক্ত করার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপর দিকে প্রতিটি জেলায় একটি করে চারুকলা কলেজ খোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সরকার। কিন্তু এই প্রয়োজনীয় শিক্ষালয়ে কম্পিউটার গ্রাফিক্স সংযোজন ঘটিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশকে আর এক ধাপ উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। সুতরাং পাঠ্য সিলেবাসের সঙ্গে কম্পিউটার গ্রাফিক্স আশু প্রয়োজন। এমন প্রয়োজনীয়তার জন্য চারুকলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সঠিক ভাবে কাজ করছেন না। এক সময় চারুকলার পথ সুগম না হলেও বর্তমানে চারুকলার পথ প্রসারিত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরাও এ বিষয়ে পড়ার অাগ্রহী হয়ে উঠেছে। যার ফলে সামাজিক প্রয়োজনীয়তার উপর লক্ষ্য রেখে সামাজিক বাধাও কমে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্হানরত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চারুকলা বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। প্রতি শিক্ষাবর্ষে চারুকলা বিষয়ে ভর্তির আসন সংখ্যা (আনুমানিক) যেমন: ১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (চারুকলা অনুষদ)- ১৩৫টি, ২. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (চারুকলা অনুষদ)- ১২০টি, ৩. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চারুকলা অনুষদ)- ১২০টি, ৪. খুলনা চারুকলা ইন্সটিটিউট ১২০টি, ৫. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (চারুকলা বিভাগ)- ২০০টি, ৬. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (চারুকলা বিভাগ)- ১০০টি, ৭. কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-ত্রিশাল (চারুকলা বিভাগ)- ১০০টি, ৮. ইউডা বিশ্ববিদ্যালয় (চারুকলা বিভাগ)- ২০০টি ও শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে ৪৩০টি।

এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সরকারি ও বেসরকারি চারুকলা বিষয়ে সর্বমোট প্রায় ১৪২৫ জন ভর্তি হয়ে থাকে। ফলে প্রতি বছর পাশ করে বের হচ্ছে অন্তত ১৪০০ জন। এছাড়াও আসন সংখ্যা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। অপরদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ন্তভূক্ত কলেজ গুলোতে প্রতি শিক্ষাবর্ষে কলেজ প্রতি ৪০টি আসনে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায় এদেশে প্রতি বছর ১৭০০ শিক্ষার্থী চারুকলা বিষয়ে পাশ করে বের হচ্ছে। আবার সরকারি বেসরকারি স্কুল, কলেজে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে চারুকলা বিষয়টি পাঠ্যক্রমে অর্ন্তভূক্ত রয়েছে। এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত বেশ কয়েকটি কলেজে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। অন্যান্য কলেজ গুলোতে অনার্স কোর্স চালু করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশে চারুকলার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পর্যালোচনায় দেখা যায় চারুকলার শাখা-প্রশাখা বিস্তৃতির সাথে সাথেই শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চারুকলা এখন আর অখন্ড কোন বিষয় নয়। যা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে জড়িয়ে আছে। বর্তমানে চারুকলার চাহিদা পুরনের লক্ষে জাতিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ন্তভূক্ত এম.পিও, এবং নন এম.পিও ৭টি চারুকলার প্রাতিষ্ঠান রয়েছে। যা কিনা শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের নীতিমালা অনুসারে পরিচালিত হয়ে আসছে। আমরা জানি চারুকলা প্রতিষ্ঠানের মত বিশেষায়িত যত প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ধরন অনুযায়ী জনবল কাঠামো রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম ও পাঠদানের প্রক্রিয়া সাধারণ প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে ভিন্ন যা অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে একেবারেই মেলে না। ফলে এখানকার প্রশাসনিক পদগুলো চারুকলায় ডিগ্রীধারীদের রাখা হয়। যা সঙ্গীত কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পলিটেকনিক, মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কারিগরি, ভোকেশনাল সহ এই রূপ নানা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের মতোই (সংযুক্ত জনবল কাঠামো)। চারুকলায় সহায়ক বিষয় হিসেবে পাঠ্যক্রমে তত্ত্বীয় বিষয় পড়ানো হলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ডিগ্রী ধারীদের রাখা হয়। চারুকলা শিক্ষা প্রসারের সাথে সাথে বাইরের দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে বর্তমানে চারুকলার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নানা বৈচিত্রময় বিষয় অর্ন্তভূক্ত হয়েছে। ফলে আগামীতে চারুকলা কলেজ গুলোতে এই সকল বিষয়ের শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হবে। উদাহরন সরূপ একজন সঙ্গীত শিক্ষককে যদি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ করা হলে অকার্যকর অবস্থার সৃষ্টি হবে। তাই সঠিক জায়গায় সঠিক ব্যক্তি না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে যা সঠিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *