ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রী নিতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ঢুকেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে আন্তঃনগর ট্রেন মহানগর প্রভাতী।
সারাদেশ

দুর্ঘটনার কবলে মহানগর প্রভাতী

ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রী নিতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ঢুকেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে আন্তঃনগর ট্রেন মহানগর প্রভাতী।ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রী নিতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ঢুকেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে আন্তঃনগর ট্রেন মহানগর প্রভাতী।

বুধবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে ৫ নম্বর ফ্লাটফর্মে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

রেলের ট্র্যাক থেকে দুই-আড়াই ফুট উপরে উঠে প্রায় ২০ গজ পূর্ব দিকে যাত্রীদের প্রবেশপথ পর্যন্ত চলে যায় প্রভাতীর ইঞ্জিন ও দু’টি বগি। তবে খুব ভোরে এ দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ায় এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পরপরই স্বাভাবিক হয় চট্টগ্রাম স্টেশনের কার্যক্রম।

এদিকে এ ঘটনায় চালক ও গার্ডকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার কাজ শুরুর পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তবে টানা দুই দিন ডিউটি করায় ঘুমের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন ট্রেনটির চালক জহিরুল হক।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পাহাড়তলী ওয়াশড শেড থেকে ফ্রেশ হয়ে চট্টগ্রাম স্টেশনের পাঁচ নম্বর ফ্লাটফর্মে যাত্রী নেয়ার জন্য আসছিল মহানগর প্রভাতী। কিন্তু ট্রেনটি ফ্লাটফর্মের নির্দিষ্ট স্থান অর্থ্যাৎ রেলওয়ে ট্রাকে না থেমে দুই থেকে আড়াই ফুট উপরে ফ্ল্যাটফর্মে উঠে যায় এর ইঞ্জিন ও দু’টি বগি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলেরর বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফিরোজ ইফতেখার বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর ইঞ্জিন পাল্টিয়ে বাকি বগিগুলো নিয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহানগর প্রভাতী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দুর্ঘটনার ফলে ট্রেনটির যাত্রা আধাঘণ্টা বিলম্বিত হলেও সকাল থেকে স্টেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। উদ্ধার কাজ চলছে।’

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে চালকের সাথে কথা বলা না গেলেও ফ্লাটফর্মে উঠার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, ট্রেনটি ফ্লাটফর্মের লাইনে এসেও অনেক বেশি গতিতে চলছিল। চালক ঘুমের ঘোরে থাকায় সেটি থামাতে ব্যর্থ হন। চালক জহিরুলও সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন, টানা দুই দিন ধরে ডিউটি করায় চোখে ঘুম নিয়ে তিনি পাহাড়তলী থেকে স্টেশনে ১৬টি বগি নিয়ে মহানগর প্রভাতী চালিয়ে আনছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইস্পাতের চাকায় ফ্লাটফর্মের মেঝে ভেঙেচুড়ে ট্রেনটি একেবারে যাত্রীদের ঢোকার প্রবেশ পথ পর্যন্ত চলে গেছে। ইঞ্জিনের ধাক্কায় ফ্লাটফর্মের প্রবেশপথও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে তখন যাত্রী না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ট্রেনটির দুটি বগি ও ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে পূর্বাঞ্চলের অধীনে চার সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া রেল ভবন থেকেও চার সদস্যের পৃথক আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ট্রেনটির চালক ও গার্ডকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

তিনি জানান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের করা কমিটির নেতৃত্ব দেবেন বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফিরোজ ইফতেখার। এতে সদস্য হিসাবে থাকছেন বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী, সংকেত প্রকৌশলী ও বিভাগীয় প্রকৌশলী (১)। আর রেল ভবন থেকে করা কমিটির সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা রাশেদা সুলতানা গণি, অতিরিক্ত প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংকেত ও টেলি কমিউনিকেশন) ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু)।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *