পাশ্চাত্যের প্রথম আধুনিক দার্শনিক রনে দেকার্ত

পাশ্চাত্যের প্রথম আধুনিক দার্শনিক রনে দেকার্ত

686
0
SHARE

পাশ্চাত্যের প্রথম আধুনিক দার্শনিক রনে দেকার্তখাদেমুল ইসলাম তনু রনে দেকার্ত ছিলেন একজন ফরাসি দার্শনিক, গণিতজ্ঞ এবং বিজ্ঞানী। তিনি পাশ্চাত্যের প্রথম আধুনিক দার্শনিক হিসেবে স্বীকৃত। তিনি একজন দ্বৈতবাদী (দ্বৈত বেদান্ত অনুসারে ঈশ্বর বা পরমাত্মা এবং জীবাত্মা ভিন্ন) দার্শনিক ছিলেন। তাছারা তিনি জ্যামিতি ও বীজগণিতের মধ্যকার সম্পর্ক নিরূপন করেন, যার দ্বারা বীজগণিতের সাহায্যে জ্যামিতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়।

দেকার্ত ১৫৯৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩ শে মার্চ লা এ-তে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা জোয়াকিম দেকার্ত এবং মাতা জান ব্রোশার । তার আরো এক ভাই(পিয়ের) ও এক বোন (জান) ছিল। দেকার্তের পিতা একধারে একজন উকিল ও ম্যাজিস্টেট ছিলেন। জান ব্রোশার দেকার্তের জন্মের দুই মাস পর মে মাসে মারা যান; তখন দেকার্ত এবং তার অন্য দুই ভাই ও বোন লা এ-তে তাদেও দাদীর কাছে চলে যান। জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় বাস করেছেন।

প্রায় দশ বছর বয়সে ১৬০৬ সালে দেকার্তকে কোলেজ রয়াল অঁরি-লা-গ্রঁ জেসুইট কলেজে পাঠানো হয়। তিনি সেখানে ১৬১৪ সাল পর্যন্ত পড়েন এবং ১৬১৫ সালে পোয়াতিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। একবছর পর তিনি ধর্মীয় অনুশাসন ও দেওয়ানি আইনে বাকালোরেয়া (ব্যাকলরিয়েট ডিগ্রি) ও লাইসেন্স লাভ করেন।

দেকার্ত দার্শনিক সমস্যা সমাধানের একটি পদ্ধতি প্রস্তাব করেন। দেকার্তের মত অনুযায়ী, কোনো কিছুকে পরিষ্কারভাবে এবং ইন্দ্রিয় দিয়ে প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত আমরা সেটাকে সত্য বলে ধওে নিতে পারি না। সেজন্য , কোনো জটিল সমস্যাকে যতগুলো সম্ভব একক সমস্যায় ভেঙে নেয়া বা ছোট করে নেয়া দরকার। তখন সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহজ ভাব থেকে আমরা চিন্তা শুরু করতে পারি। দেকার্ত বিশ্বাস করতেন দর্শনের অগ্রসর হওয়া উচিত সরল থেকে জটিলের দিকে।

দেকার্ত বললেন যে দুই ধরণের বাস্তবতা বা সারবসতু রয়েছে। একটি সারবসতু হচ্ছে চিন্তা বা মন অন্যটি ব্যাপ্তি বা বসতু । মন পুরোপুরি সচেতন এবং স্থানগত দিক দিয়ে কোনো জায়গা দখল করে না, ফলে এটাকে ছোট ছোট খন্ডে বিভক্ত করা যায় না।

তরুন বয়সেই মানুষ এবং মহাবিশ্বেও স্বরূপ জানার জন্য একটি অন্তর্দৃষ্টি পাবার প্রবল ইচ্ছা জাগে তাঁর মনে। গভীর অধ্যয়নের পরে দেকার্ত এই সিদ্ধান্তে আসেন যে ইউরোপীয় মধ্যযুগ থেকে যে জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এসেছে তা খুব নির্ভরযোগ্য নয় । তিনি ঠিক করলেন সারা ইউরোপ ঘুরে বেড়াবেন, ঠিক যেমন সক্রেটিস অ্যাথেন্সের লোকের সাথে কথা বলে জীবন কাটিয়েছিলেন । এ কারণে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধে চলে গেলেন তিনি, তার ফলে মধ্য ইউরোপে কিছু দিন থাকার সুযোগ হল তাঁর । সেনাবাহিনীতে তিনি কী করতেন তা সঠিকভাবে জানা যায় না। ১৬১৯ সালে তিনি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন। এরপর প্যারিসে কাটান কিছু বছর, তারপর ১৬২৯ সালে চলে যান হল্যান্ড। সেখানে গণিত আর দর্শন বিষয়ক লেখালেখি নিয়ে কাটিয়ে দেন প্রায় বিশ বছর। ১৬৪৯ সালে রাণী ক্রিস্টিনার আমন্ত্রনে সুইডেন যান এবং সেখানে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৫৪ বছর বয়সে ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের শীতকালে মৃত্যুবরণ করেন।

Comments

comments