তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান: নিহত ২৬৫, আটক ২৮৩৯
আন্তর্জাতিক

তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান: নিহত ২৬৫, আটক ২৮৩৯

তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান: নিহত ২৬৫, আটক ২৮৩৯তুরস্কের সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের চেষ্টায় অন্তত ২৬২ জন নিহত হয়েছেন। আটক হয়েছেন ২৮৩৯ জন। আহত হয়েছেন ১৪৪০ জন।

এএফপি বলছে, সেনাবাহিনীর একটি অংশের এই অভ্যুত্থান চেষ্টা ‘ভণ্ডুল’ হয়ে যাওয়ার পর সেনাপ্রধান হুলুসি আকারকে ‘নিরাপদ স্থানে’ সরিয়ে নিয়েছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান করা হয়েছে জেনারেল উমিত দুনদারকে।

সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ’ মন্তব্য করে উমিত বলেন, “অনেক সেনা সদস্যকে ‘অজানা স্থানে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

বিবিসি বলছে, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা ও ইস্তানবুলে শুক্রবার রাতে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়। এরপরই সরকার উৎখাতের পক্ষে-বিপক্ষের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

শনিবার সকালেও আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলের পুলিশ সদর দফতর এলাকাতে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল।

অবকাশ যাপনের মধ্যেই সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার খবর পান প্রেসিডেন্ট এরদোগান। এর পরপরই তিনি ইস্তাম্বুল পৌঁছে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে’ বলে জানান।

দেশে ‘ব্যর্থ’ এক সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার পর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান শনিবার ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে যখন সাংবাদিকদের সামনে কথা বলছিলেন, তখন তার চারপাশ ঘিরে ছিলো উল্লসিত কর্মী-সমর্থক।

সাংবাদিক সম্মেলনে এরদোগান অভ্যুত্থানকে ‘দেশদ্রোহিতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “যারা এর পেছনে ছিলেন তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।”

তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানে জড়িত কয়েকজন অফিসারকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে, আমি এখন সেনাবাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চালাব।”

প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পর অন্তত ২০০ সেনা দেশটির ইস্তাম্বুলের বসফরাস সেতুতে আত্মসমর্পণ করেন। আটক করা হয় দেড় হাজারের বেশি সেনা সদস্য।

এর আগে এরদোগানের হাজার হাজার সমর্থকের বিক্ষোভের মুখে সেনা বাহিনীর বিদ্রোহী অংশ ইস্তাম্বুল বিমান বন্দর থেকে সড়ে যেতে বাধ্য হয়।

সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার সমর্থক বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছেন।

দেশের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং রাজধানী আঙ্কারার আকাশে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে সকল পক্ষকে দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সমর্থন করার জন্য এবং রক্তপাত এড়ানোর আহ্বান জানান।

সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় আঙ্কারায় সরকার সমর্থকরা রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম টিআরটি-র নিয়ন্ত্রণ অভ্যুত্থানকারীদের হাত থেকে দখল করে নেয়।

পরে প্রেসিডেন্ট এরদোগান সমর্থকরা ইস্তাম্বুলের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভেতরে অবস্থান নেন।

বিভিন্ন মসজিদ থেকে ফজরের নামাজের কয়েক ঘণ্টা আগেই আযান দেয়া হয় এবং মানুষকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ জন্য রাস্তায় নামার আহ্বান জানানো হয়।

তবে এর আগে একটি টেলিভিশন ঘোষণায় তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ দাবি করে, তারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, এখন থেকে একটি ‘পিস কাউন্সিল’ দেশ পরিচালনা করবে। দেশে কারফিউ এবং মার্শাল ল’ জারি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এটা পরিষ্কার নয় যে, এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত।

এই ঘটনাকে ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

তুরস্কের একটি টেলিভিশন বলছে, রাজধানী আঙ্কারায় অভ্যুত্থান চেষ্টার পক্ষের একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করে সরকারি যুদ্ধবিমান।

এর আগে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়ালদ্রিম জানিয়েছিলেন, তুরস্কে সেনাবাহিনীর একটি অংশ বেআইনি অভিযান শুরু করেছে।

তিনি জানান, কোনো অনুমতি ছাড়াই সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই অভিযান শুরু করেছে। তবে এটা কোনো অভ্যুত্থান নয়। তুরস্কের সরকারে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলেও তিনি জানান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, সবকিছু দেখে এটা একটি পরিকল্পিত অভ্যুত্থান বলেই মনে হচ্ছে। কারণ তারা সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়েছে। খুব সহজে এর শেষ হবে বলে মনে হচ্ছে না।

এনটিভিকে টেলিফোনে ইয়ালদ্রিম বলছেন, “কোনো একটি চেষ্টার সম্ভাবনার বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে এ ধরণের কোন চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।”

অভ্যুত্থানচেষ্টার অভিযোগে ১৫৬৩ সেনা গ্রেফতার

তুরস্কে অভ্যুত্থানচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক হাজার ৫৬৩ সেনাকে আটক করা হয়েছে।

এএফপি জানায়, আটককৃত সেনাদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তুর্কি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি আরো জানায়, দেশটির ২৯ কর্নেল এবং পাঁচ জেনারেলকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাতে অভ্যুত্থানচেষ্টার শুরু থেকে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৬০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তুরস্কের কর্মকর্তারা।

অভ্যুত্থানচেষ্টার পর ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান নিয়োগ করেছে তুরস্ক।

দেশটির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তুরস্কের স্থলবাহিনীর একটি অংশ ফার্স্ট আর্মির প্রধান উমিত দুন্দারকে ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সেনাঅভ্যুত্থান চেষ্টাকারীদের ইস্তাম্বুলে আত্মসমর্পণ

তুরস্কে অভ্যুত্থানের চেষ্টাকারী সেনাদের একটি অংশ ইস্তাম্বুলে আত্মসমর্পণ করেছে।

শনিবার ইস্তাম্বুলের বসফরাস সেতুতে তারা আত্মসমর্পণ করেন।

শুক্রবার দিবাগত রাতে অভ্যুত্থানের চেষ্টার পর থেকেই রাতভর সেতুটিতে অবস্থান করছিলেন ওই সেনারা।

বার্তা সংস্থা এফপি জানায়, সামরিক পোশাক পরা সেনাদের ট্যাংকের পেছনে দুই হাত ওপরে তুলে আত্মসমর্পণ করতে দেখা যায়।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্দালু জানায়, ৫০ সেনা আত্মসমর্পণ করেছে।

তুরস্কের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ছবিতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সমর্থকরা সেনাদের ফেলে যাওয়া একটি ট্যাংকের ওপর উঠে উল্লাস করছে। এ সময় ওই সমর্থকরা তুরস্কের পতাকা ওড়ায় এবং বিজয় চিহ্ন দেখায়। অনেকে আবার ব্রিজের এদিক ওদিকে ছুটে উল্লাস প্রকাশ করে।

তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেলে জানানো হয়েছে, আংকারার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে শনিবার সকালে অভ্যুত্থানের চেষ্টাকারী সেনাদের লক্ষ্য করে বিমান থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। ওই এলাকায় থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

তুরস্কের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, দেশটির সামরিক বাহিনীর এফ-১৬ বিমান থেকে অভ্যুত্থানের চেষ্টাকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, অভ্যুত্থানের চেষ্টায় ব্যবহার করা একটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করছিল, যা আংকারার গলবাসি এলাকায় ভূপাতিত করা হয়েছে।

সেনা অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে রাজপথে মানুষ

সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে প্রেসিডেন্ট তায়্যিব এর্দোয়ানের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার সমর্থক বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এবং রাজধানী আনকারার আকাশে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে সকল পক্ষকে দেশের গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারকে সমর্থন করার জন্য এবং রক্তপাত এড়ানোর আহ্বান জানান।

আনকারায় সরকার সমর্থকরা রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম টিআরটি-র নিয়ন্ত্রণ অভ্যূত্থানকারীদের হাত থেকে দখল করে নেয়। প্রেসিডেন্ট তায়্যিব এর্দোয়ানের সমর্থকরা ইস্তানবুলের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভেতরে অবস্থান নিয়েছে।

বিভিন্ন মসজিদ থেকে ফজরের নামাজের কয়েক ঘণ্টা আগেই আযান দেয়া হয় এবং মানুষকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ জন্য রাস্তায় নামার আহ্বান জানানো হয়। এর আগে, একটি টেলিভিশন ঘোষণায় তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ দাবি করে, তারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ইস্তানবুলের সঙ্গে দেশের অন্য অংশের ব্রিজ বন্ধ করে দেয়া হয়।

সেনা অভ্যুত্থান যেভাবে ব্যর্থ হলো

শুক্রবার রাতে যখন প্রথম তুরস্কে অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন কয়েক ঘন্টা ধরে দেশটির নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহী সেনাদের হাতে বলেই মনে হচ্ছিল।

রাজধানী আংকারা আর সবচেয়ে বড় নগরী ইস্তাম্বুলের প্রধান স্থাপনাগুলোতে ছিল তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দখল করে নেয় সেনাবাহিনী এবং তাদের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়।

এত ঘটনার মধ্যে কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের।

অভ্যুত্থানকারীদের সেই মূহুর্তে দরকার ছিল সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ অংশের এবং জনগণের সমর্থন।

কিন্তু অভ্যুত্থানের চেষ্টা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলডিরিম তা প্রতিরোধের চেষ্টা শুরু করেছেন। তবে তুরস্কের বেশিরভাগ মানুষ জানে, প্রকৃত ক্ষমতা আসলে প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের হাতে, এবং কিছু করতে হলে তাকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

অভ্যুত্থান সফল হতে হলে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে পুরো রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

যেভাবে পরিস্থিতি পাল্টে গেল

শুরুতে বোঝা যাচ্ছিল না প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান কোথায় আছেন। কোন কোন খবরে বলা হচ্ছিল তিনি তুরস্কের একেবারে দক্ষিণ-পশ্চিমে এজিয়ান সাগর তীরের অবকাশ কেন্দ্র মারমারিসে আছেন।
কিন্তু কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাকে দেখা গেল সিএনএন এর তুর্কী ভাষার নিউজ চ্যানেলে।

মোবাইল ফোনে ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি জনগণকে রাস্তায় নেমে অভ্যুত্থান প্রতিহত করার ডাক দিলেন।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান যখন ইস্তাম্বুলের কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরে এসে নামেন, হাওয়া পুরো ঘুরে গেলো।

সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কড়া ভাষায় অভ্যুত্থানকারীদের দেখে নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন, বললেন, তুরস্কের নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই।

অনেকের কাছেই পরিস্কার হয়ে গেল যে, অভ্যুত্থানকারীরা ব্যর্থ হয়েছে, সিনিয়র সেনা অধিনায়করা সরকারের পক্ষেই আছে।

আংকারার নিয়ন্ত্রণ তখনো অভ্যুত্থানকারীদের হাতে। কিন্তু ইস্তাম্বুল তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ তখন ইস্তাম্বুল আর আংকারার রাস্তায় নেমে এসেছে। বিমানবন্দরে যে সেনারা অবস্থান নিয়েছিল, তাদের ঘেরাও করে জনতা, পুরো বিমানবন্দর দখল করে নেয় তারা।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টিআরটি থেকে অভ্যুত্থানকারীরা বেশ কিছু ঘোষণা প্রচার করেছিল। তারা কারফিউ জারি করেছিল। কিন্তু সেটি কার্যকর করতে তারা ব্যর্থ হয়।

অভ্যুত্থানকারীদের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হতে থাকে।

কোন কোন খবরে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান যে হোটেলে ছিলেন সেখানে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। ফলে সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান।

এরদোগান সরকারের পাশে বিশ্বনেতারা

তুরস্কের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি সমর্থন জানাতে দেশটির সব দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি সামরিক জোট ন্যাটো এবং অপর বিশ্বনেতারা তুরস্কের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির এই আহ্বানের কথা বলা হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে ফোনে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারবার্তায় জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, “গণতান্ত্রিক সরকারকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে এবং জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তুরস্কের প্রতিবেশ দেশ গ্রিসের পুলিশ এবং অপর নিরাপত্তা বাহিনী সরকারের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে যে কোনো অবস্থার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তুরস্কের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। দেশটিতে অবস্থানরত রুশদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রুশ সরকারের মুখপাত্র দিমিত্রি প্রেসকভ বলেন, “প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তুরস্কের অবস্থার হালগানাদ খবর জানানো হচ্ছে। তুরস্কে দ্রুত স্থিতিশীলতা আশা করে রাশিয়া।”

তুরস্কের ঘটনাপ্রবাহের দিকে গভীর নজর রাখছেন যুক্তরাজ্যের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। তুরস্ক পরিস্থিতির পরপরই দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। দেশটিতে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপদে আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি-বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মগেরিনি এক টুইটারবার্তায় তুরস্কের গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি আংকারায় ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখার কথা বলেন।

পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র ফরাহ হক বলেন, “মহাসচিব বান কি-মুন তুরস্কের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।”

ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেন, তুরস্ক ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। তুরস্কের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এক টুইটার বার্তায় বলেন, “তুরস্কের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন তারা। স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র এবং তুরস্কের জনগণের নিরাপত্তার বিষয়কেই প্রধান হিসেবে দেখছে ইরান।”

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *