ঢাকা সফররত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমার ওপর আস্থা রাখুন, তিস্তা ইস্যু নিয়ে চিন্তা করবেন না। শীঘ্রই এর সুরাহা হবে।’
জাতীয়

‘তিস্তা নিয়ে আমার ওপর আস্থা রাখুন’

ঢাকা সফররত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমার ওপর আস্থা রাখুন, তিস্তা ইস্যু নিয়ে চিন্তা করবেন না। শীঘ্রই এর সুরাহা হবে।’তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আশ্বস্ত করে ঢাকা সফররত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমার ওপর আস্থা রাখুন, তিস্তা ইস্যু নিয়ে চিন্তা করবেন না। শীঘ্রই এর সুরাহা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবলেম আছে, আপনাদেরও প্রবলেম আছে। আমি হাসিনাদির সঙ্গে আলোচনা করব। আমাদের ওপর ছেড়ে দিন। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না।’

বাংলাদেশ ও ভারতের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর কারণে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে তিনি সেতু হিসাবে কাজ করবেন।’

তিনি আশ্বস্ত করেন, ‘সংবিধান সংশোধন বিল পাস হলে স্থল সীমান্ত কার্যকর হবে। এ চুক্তি হলে দুই দেশের জনগণের জন্য মাইলফলক হবে।’

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকায় আসেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী।

‘বৈঠকী বাংলা’ নামে এ মতবিনিময় সভায় নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার পশ্চিমবঙ্গের বিরোধিতায় ছিটমহল বিনিময় ও তিস্তা চুক্তি নিয়ে জটিলতার দিকে ইংগিত করেন। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। মমতার এ সফর দুই দেশের মানুষের মধ্যে সেতু তৈরি করবে। ভুল বোঝাবুঝিরও অবসান ঘটবে।’ তিনি দুই দেশের মধ্যে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কমানোর আহ্বান জানান।

নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু দুই দেশের মধ্যে চলচ্চিত্র বিনিময়ের আহ্বান জানান। আলী জাকের বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করবেন।’

সবার বক্তব্য শোনার পর জবাব দিতে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, ‘আমি সেতু হিসাবে নিশ্চিয়ই ভূমিকা রাখব। আমি অতি ক্ষুদ্র লোক, মাটির মানুষ। আমার দিক থেকে এলবিএর (স্থল সীমান্ত চুক্তি) প্রবলেম সলভ করে দিয়েছি। তিস্তায়ও আস্থা রাখুন।’

দুই দেশেই বহমান পদ্মা, মেঘনা, গঙ্গা, যমুনাকে ‘আমাদের সবার নদী’ উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ এগুলো ভাগাভাগি করতে চাইলেও পারবে না।’

আলোচনা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। মহান ভাষা দিবসে তাকে আমন্ত্রণ করায় বাংলাদেশ সরকারকেও ধন্যবাদ জানান মমতা।

তিনি বলেন, ‘কাঁটাতারের বেড়ায় সম্পর্ক ভাগাভাগি হয় না। বাংলাদেশকে আমরা ছাড়তে পারি না। তেমনি বাংলাদেশও আমাদের ছাড়তে পারে না।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দুই দেশ (বাংলাদেশ-ভারত) যাতে ভাল থাকতে পারে, সে জন্য মনের দরজা খুলে দিতে হবে। এতে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘গোটা পশ্চিমবঙ্গ পরিবার আজ আনন্দিত। এপার বাংলা-ওপার বাংলা, দুই বাংলার মধ্যে যতই রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বাউন্ডারি থাকুক, মনের কোনো বাউন্ডারি নেই।’

‘হৃদয়ের মাঝে রাখিব, ছেড়ে দেব না’- বাংলাদেশ নিয়ে এমন মনের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একই সংস্কৃতি। আমরা একই খাবার খাই, একই গান গাই। আমাদের একই রবীন্দ্রনাথ, একই নজরুল, একই লালন, একই ক্ষুদিরাম ও সুর্য সেন।’

সবাইকে নমস্কার, সালাম ও প্রণাম জানিয়ে পাশাপাশি ‘জয় বাংলা’ বলে সভায় উপস্থিত সকলকে খোলামেলা আলোচনা করার আহ্বান জানান মমতা।

তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার কাছে কী কী প্রত্যাশা করেন? কী কী চান? আমি আপনাদের কথা শুনব। পরে উত্তর দেব। সব কথা তো বলতে পারি না, যতটুকু পারি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।’

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ছাড়াও সফরসঙ্গী হিসেবে ঢাকায় আসা চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ, চলচ্চিত্র তারকা প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী, তৃণমূলের এমপি অভিনেতা দীপক অধিকারী দেব ও কণ্ঠশিল্পী নচিকেতা অনুষ্ঠান মঞ্চে মমতার পাশে উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম  বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক না হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের গুরুত্ব রয়েছে। কেননা তার সফরে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয় সমাধান করা সহজ হবে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ওই দিন মধ্যরাতে তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি কলকাতায় ফিরবেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ঘুরে দেখারও পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়াও ঢাকার রাস্তায় অতিপরিচিত বাহন রিকশায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি অমর একুশে গ্রন্থমেলায় যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে মমতার।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *