তামিম-ইমরুলের রেকর্ড জুটি, বাংলাদেশ ২৭৩/০

বিতীয় ইনিংসে বহু প্রতিকূলতা সঙ্গী করে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। সূর্য ডোবার আগে সব কিছুই ফিকে হয়ে গেছে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের জোড়া সেঞ্চুরির কাছে।

বিতীয় ইনিংসে বহু প্রতিকূলতা সঙ্গী করে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। সূর্য ডোবার আগে সব কিছুই ফিকে হয়ে গেছে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের জোড়া সেঞ্চুরির কাছে।দ্বিতীয় ইনিংসে বহু প্রতিকূলতা সঙ্গী করে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। সূর্য ডোবার আগে সব কিছুই ফিকে হয়ে গেছে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের জোড়া সেঞ্চুরির কাছে।

যার ফলে পাকিস্তানের লিডের পাহাড়টা নেমে এসেছে দৃষ্টি সীমায়। চতুর্থ দিন শেষে ৬১ ওভার ব্যাট করে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ২৭৩ রান। মাত্র ২৩ রান পিছিয়ে স্বাগতিকরা। এই দিনে তামিম হয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। বাংলাদেশের পক্ষে যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। ওপেনিংয়েও তাদের জুটিটা সর্বোচ্চ। সকালে ৯১ রানে পাকিস্তানের পাঁচ উইকেট ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ।

পরে অসাধারণ ব্যাটিংয়ে খুলনা টেস্টের চতুর্থ দিনটা বাংলাদেশেরই হয়ে গেল। এমনকি টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা দিনও বলা যেতে পারে। তামিম ১৮৩ বলে ১৩৮ রানের (১৩ চার, চার ছয়) ইনিংস খেলে অপরাজিত আছেন। ইমরুল ১৮৫ বলে অপরাজিত ১৩২ রান (১৫ চার, তিন ছয়) করেন।

ব্যাট হাতে তামিম-ইমরুলের আধিপত্য বুঝাতে একটি তথ্য যথেস্ট। দিন শেষে বাংলাদেশের রান রেট টা ছিল প্রায় সাড়ে চার (৪.৪৭)। লাঞ্চের আগে চার ওভার ব্যাট করে ছয় রান করেছিল বাংলাদেশ। ৪০ মিনিটের বিশ্রাম শেষে মাঠে ফিরেই পাকিস্তানি বোলারদের শাসনের ভূমিকায় বাংলাদেশের দুই ওপেনার। সাতটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন দুজন মিলে। তামিমের চারটি ছয়ের তিনটিই হাফিজের বলে।

ইমরুল দুটি ছয় মেরেছেন ইয়াসির শাহর বলে, একটি হাফিজের বলে। আক্রমণটা শুরু করেছেন তামিমই। জুনায়েদ-ওয়াহাব রিয়াজদের বলে উইকেটের চারপাশে দুর্দান্ত সব শট খেলেছেন তিনি। চোখ জুড়ানো কভার ড্রাইভ, স্কয়ার কাট, পুল শটের বাহার ছিল তার ব্যাটে। বাংলাদেশের রান রেটও তরতর করে উপরে উঠতে থাকে। জুলফিকার বাবরের বলে রিভার্স সুইপে চার মেরে হাফ সেঞ্চুরি করেন তামিম ৬৩ বলে। পরের বলেই আবার বিরাট ছক্কা মেরেছেন লং অন দিয়ে।

আধিপত্য, আত্মবিশ্বাসের বহ্নিছটা ছিল তামিমের ইনিংসে। ইমরুল কায়েসও কম যাননি। পরপর দুই ওভারে হাফিজের ছক্কা মেরেছেন দুজনই। সত্তরের ঘরেও তামিম গিয়েছেন হাফিজকে ছক্কা মেরে। ৮০ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ইমরুলও। দ্বিতীয় সেশনে ১৩৬ রান তোলে বাংলাদেশ। চা বিরতির পর বেশ কিছুক্ষণ দুজনই ধীর স্থির ব্যাটিং করেছেন।

ইনিংসের ৪০তম ওভারে জুনায়েদকে পরপর দুটি চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তামিম। ১২৩ বলে আসে সেঞ্চুরি। এটি তার ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি। আশরাফুলকে (ছয়) টপকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান এখন চট্টলার ছেলে।

সঙ্গীর সেঞ্চুরি হলেও নিজের অবস্থানে পরিণত ব্যাটিং করেছেন ইমরুল। ইনিংসের ৫১তম ওভারে তামিম-ইমরুল গড়েন ওপেনিং জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। তারা ভেঙেছেন তাদেরই গড়া ২২৪ রানের রেকর্ড। গত নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে এই রান করেছিলেন তারা। দুই ওভার পরই ইমরুলও পৌঁছে যান তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে।

১৫৩ বলে ইমরুল পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। ৫৯তম ওভারে আরও বড় অর্জন পেয়ে যায় এই ওপেনিং জুটি। বাংলাদেশের পক্ষে যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড গড়েন তামিম-ইমরুল। আগে ২৬৭ রানের জুটি ছিল ৫ম উইকেটে আশরাফুল-মুশফিকের, ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার গলে। খুলনায় সেটি ছাড়িয়ে যান দুই বাঁহাতি।

শেষ বিকেলে আর অঘটনও হতে দেননি তারা। দুই বাঁহাতির দায়িত্বপূর্ণ, সহজাত ব্যাটিং দিয়ে স্বর্ণালী দিন কাটালো বাংলাদেশ। দিনভর তামিমের ছায়ায় ব্যাটিং করে গেলেও ইমরুল শেষ বিকেলে খুব পিছিয়ে নেই। সঙ্গীর চেয়ে দুই বল বেশি খেলে ছয় রান কম করেছেন ইমরুল।

এর আগে শুক্রবার চতুর্থ দিনের সকালে ২০.৪ ওভার ব্যাটিং করে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৯১ রান যোগ করে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে ৬২৮ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। সর্বোচ্চ ছয় উইকেটে ৭৩০ রান আছে শ্রীলঙ্কার। এই খুলনাতেই ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয় উইকেটে ৬৪৮ রান করেছিল।

ষষ্ঠ উইকেটে আসাদ শফিক-সরফরাজ আহমেদের জুটিটা ভাঙতে বেশ পরীক্ষাই দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তাদের ১২৬ রানের জুটি ভেঙেছেন শহীদ। সরফরাজ ক্যাচ দেন লিটন দাসের হাতে। শহীদের প্রথম টেস্ট উইকেট সরফরাজ ৮২ রান করেন। রানের খাতা খোলার আগেই ওয়াহাব রিয়াজকে বোল্ড করেছেন তাইজুল।

প্রথম ইনিংসে প্রায় উইকেটশূন্যই থেকে যাচ্ছিলেন সাকিব। আসাদ শফিক এগিয়ে এলেন সাকিবের খরা ঘুচিয়ে দিতে। সাকিবের হাতে কট এন্ড বোল্ড হওয়ার আগে আসাদ ৮৩ রান করেন। ইয়াসির শাহকে এলবির ফাঁদে ফেলে পঞ্চম উইকেট তুলে নেন তাইজুল। জুলফিকার বাবরকে স্ট্যাম্পড করে পাকিস্তানের ইনিংসের লেজটাও মুড়ে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার। ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার পাঁচ উইকেট পেলেন তিনি। ১৬৩ রানে ছয় উইকেট নিয়ে তাইজুলই সেরা বোলার। শুভাগত দুটি, সাকিব-শহীদ একটি করে উইকেট পান।

আশরাফুলকে টপকে গেলেন তামিম

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান এখন তামিম ইকবাল। টেস্ট সেঞ্চুরির দৌড়ে মোহাম্মদ আশরাফুলকে টপকে গেছেন তিনি শুক্রবার।

খুলনা টেস্টের চতুর্থ দিনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি করেছেন তামিম। ১২৩ বলে আসে তামিমের এই সেঞ্চুরি।

উইকেটকিপার মাহমুদউল্লাহ

মাঠে একজন স্বীকৃত উইকেটকিপার আছেন। তিনি লিটন দাস। মুশফিকুর রহিম ইনজুরিতে পড়ায় দ্বাদশ ফিল্ডার হিসেবে ম্যাচের দ্বিতীয় দিন থেকে ফিল্ডিং করছেন তিনি। কিন্তু এক টেস্টে তিন উইকেটকিপার দেখা হয়ে গেল বাংলাদেশের।

মুশফিক চলে যাওয়ার পর কিপিংটা করেছিলেন ইমরুল কায়েস। দেড় দিন কিপিংয়ের পর গ্লাভস ছেড়েছেন তিনি। শুক্রবার ম্যাচের চতুর্থ দিনে তৃতীয় উইকেটকিপার হিসেবে দেখা গেল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।

ঘরোয়া, আন্তর্জাতিক কোনো ধরনের ক্রিকেটেই কখনো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে গ্লাভস হাতে দেখা যায়নি। পরিস্থিতি বাধ্য করলো এবার এই অলরাউন্ডারকেও গ্লাভস তুলে নিতে। ক্লান্তি ছাড়াও ইমরুলের কিপিং ছাড়ার কারণ রয়েছে। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে গেলেই যে ব্যাটিংয়ে নামতে হবে ইমরুলকে।

সব মিলিয়ে খুলনা টেস্টে বড়সড় পরীক্ষার মধ্যেই পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : প্রথম ইনিংস, ৩৩২/১০, ১২০ ওভার (মুমিনুল ৮০, ইমরুল ৫১, মাহমুদউল্লাহ ৪৯, সৌম্য ৩৩, মুশফিক ৩২, সাকিব ২৫, তামিম ২৫; ওয়াহাব ৩/৫৫, ইয়াসির ৩/৮৬) ।

পাকিস্তান : প্রথম ইনিংস, ৬২৮/১০, ওভার ১৬৮.৪ (হাফিজ ২২৪, আজহার ৮৩, শফিক ৮৩, মিসবাহ ৫৯, সরফরাজ ৮২, ইউনিস ৩৩; তাইজুল ৬/১৬৩, শুভাগত ২/১২০)

বাংলাদেশ : দ্বিতীয় ইনিংস, ২৭৩/০, ওভার ৬১ (তামিম ১৩৮*, ইমরুল ১৩২*)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *