Actress-Tazin-Ahmed-dies

অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন

জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন। মঙ্গলবার তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৪২ বছর।

মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে তাজিন তার উত্তরার বাসাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এরপর দ্রুত তাকে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাজিন। লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিলো। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বিকেল ৪ টা ৩৪ মিনিটে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

বিকাল ৩টার দিকে তাজিন আহমেদ হার্ট অ্যাটাক করেন। যখন তার হার্ট অ্যাটাক হয় তখন বাসায় কেবলমাত্র একজন মেকাপ আর্টিস্ট ছিলেন। তিনি তাজিনের সঙ্গেই থাকতেন। তিনিই তাজিনকে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

তাজিন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করে ভোরের কাগজ ও প্রথম আলো পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। আনন্দ ভুবন ম্যাগাজিনের কলামিস্টও ছিলেন তিনি। পরে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে পাবলিক রিলেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাজিন আহমেদের জন্ম ১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই নোয়াখালী জেলায়। তিনি বেড়ে উঠেছেন পাবনা জেলায়।

তাজিন আহমেদের মা বর্তমানে গাজীপুরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন। তাজিন আহমেদ মাঝে মধ্যে গিয়ে দেখে আসতেন। তারা খালা-মামারা আদাবরে থাকলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না তাজিনের।

দাম্পত্য জীবনেও খুব একটা সুখী হতে পারেননি তাজিন। প্রথম জীবনে তাজিন আহমেদ ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন নাট্য নির্মাতা এজাজ মুন্নাকে। বেশিদিন টেকেনি সেই সংসার।

এরপর তিনি বিয়ে করেন ড্রামার রুমি রহমানকে। এই সংসারেও ঝামেলা ছিল। জীবন প্রদীপ নিভে যাবার আগে দ্বিতীয় স্বামীকেও পাশে পেলেন না তাজিন।

শেষ জীবনে পরিবার-পরিজন থেকে নিজেকে আড়ালে নিয়ে গিয়েছিলেন তাজিন আহমেদ। প্রিয় আঙিনা অভিনয়ের সঙ্গেও ছিল দূরত্ব।

রেডিও এবং টেলিভিশনে উপস্থাপনাও করতেন তাজিন। লেখালেখিও করেন তিনি। তাজিনের লেখা ও পরিচালনায় তৈরি হয় ‘যাতক’ ও ‘যোগফল’ নামে দুটি নাটক। তার লেখা উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে ‘বৃদ্ধাশ্রম’, ‘অনুর একদিন’, ‘এক আকাশের তারা’, ‘হুম’, ‘সম্পর্ক’ ইত্যাদি।

দিলারা ডলি রচিত ও শেখ নিয়ামত আলী পরিচালিত ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাজিন আহমেদের অভিনয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। নাটকটি ১৯৯৬ সালে বিটিভিতে প্রচার হয়েছিল। এরপর তিনি অসংখ্য নাটক-টেলিছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন থিয়েটারে অভিনয় করেছেন।

১৯৯১ সালে বিটিভির ‘চেতনা’ নামের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপস্থাপনা শুরু করেন। তাঁর মা দিলারা জলির প্রোডাকশন হাউস ছিল। মায়ের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় টেলিভিশন নাটকে অভিনয় শুরু করেন। টিভি নাটকে অভিনয় ও উপস্থাপনা তাঁকে পরিচিতি এনে দেয়। তাঁর অভিনীত ‘আঁধারে ধবল দৃপ্তি’ অনেক বেশি প্রশংসিত হয়।

মঞ্চনাটকে তাজিন আহমেদের শুরুটা হয় নাটকের দল ‘নাট্যজন’-এর মাধ্যমে। এই দলের হয়ে বেশ কয়েকটি প্রযোজনায় তিনি অভিনয় করেন। এরপর আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকেও অভিনয় করেন তিনি। এতে তিনি বলাকা চরিত্রে অভিনয় করেন। টিভি নাটকে আসেন ১৯৯৭-৯৮ সালে। হুএমায়ূন আহমেদের নাটক ‘নীলচুড়ি’তে অভিনয় করেও বেশ আলোচিত হন। তাঁর সর্বশেষ অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘বিদেশি পাড়া’। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মিডিয়া থেকে দূরে ছিলেন।

অভিনয় ও উপস্থাপনার বাইরে লেখালেখির কাজেও যুক্ত ছিলেন তাজিন। তাঁর লেখা অনেক নাটক টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। এনটিভিতে প্রচারিত ‘টিফিনের ফাঁকে’ অনুষ্ঠানে টানা ১০ বছর উপস্থাপনা করেন তিনি। একাত্তর টিভিতেও ‘একাত্তরের সকালে’ হাজির হয়েছেন তিনি।

তাজিন আহমেদের মরদেহ মঙ্গলবার রাত ১১টা পর্যন্ত ঢাকার উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালের সামনে রাখা হবে। বন্ধুবান্ধব, পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই সময়ের মধ্যে তাঁকে শেষবারের মতো একনজর দেখার সুযোগ পাবেন। এখানকার আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের হিমঘরে। কাল বুধবার দিনের যেকোনো সময় তাজিন আহমেদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানীতে বাবার কবরস্থানের পাশে, না হয় উত্তরায় দাফন করা হতে পারে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি তিনি ববি হাজ্জাজের জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *