আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত মে মাসে ভারতের জাতীয় নির্বাচনে জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন মোদি।
আন্তর্জাতিক

ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা আসছেন মোদি

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত মে মাসে ভারতের জাতীয় নির্বাচনে জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন মোদি।আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত মে মাসে ভারতের জাতীয় নির্বাচনে জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন মোদি। তারই অংশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলো সফর শুরু করেছেন তিনি। ঢাকা সফরে আসার জন্য ভারতের সংসদের চলতি অধিবেশনে স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুসমর্থন হতে যাচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নয়া দিল্লি সফরে আসছেন। এরপরই ফেব্রুয়ারি মাসে মোদির ঢাকা সফরে আসার কথা রয়েছে।

বর্তমান সফরসূচি ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি মোদি ঢাকা সফরে আসবেন। বাংলাদেশ আশা করছে মোদির এই সফরে দু’দেশের অনিষ্পন্ন বেশ কিছু বিষয়ের সমাধান হবে। বাংলাদেশ আশা করছে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়েও অগ্রগতি হবে।

সম্প্রতি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদী ও শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শেখ হাসিনা মোদীকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানালে মোদি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে যাব, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।’ মোদি আরো বলেন, ‘আমার সফরের সময় দিদিকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।’

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর উপলক্ষে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে দু’দেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা সচিব পর্যায়ে বৈঠক হতে পারে।

মোদির এই সফরে ভারতের পক্ষ থেকে ট্রানজিটের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসতে পারে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো নিয়েও আলোচনা হবে।

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় ঢাকা ঘোষণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবারের সফরেও। তবে তখনকার ঢাকা ঘোষণার অনেক সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নরেন্দ্র মোদির সফর উপলক্ষে কাজ শুরু হয়েছে। প্রথমে শেখ হাসিনা নয়া দিল্লি সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়। নরেন্দ্র মোদি প্রতিবেশী দেশগুলো সফরের অংশ হিসেবে ঢাকা আসার আগ্রহ দেখালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়।

মোদির সফর নিয়ে এখন দিন-তারিখ চূড়ান্ত না হলেও ফেব্রুয়ারি মাসকে সামনে রেখে কাজ চলছে। সার্ক সম্মেলনের সময় মোদির ঢাকা সফরে আসার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে বলেও তিনি জানান।

২০১১ সালে মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সফরের ঠিক আগের দিন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই চুক্তির বিরোধিতা করে মনমোহনের সঙ্গে ঢাকা সফর বাতিল করেন। এতেই ঝুলে যায় অভিন্ন তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি। এরপর ঢাকার পক্ষ থেকে কয়েক দফায় তিস্তা চুক্তির জন্য তাগিদ দেওয়া হলেও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, মমতার সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাই মমতা এখন স্থল সীমান্ত চুক্তিতে সম্মতি দেওয়ায় ঢাকা আশা করছে তিস্তা চুক্তিতেও সম্মতি দেবেন মমতা। এছাড়া ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুম এলাকায় খাবারের পানির জন্য ফেনী নদী থেকে পানি উত্তোলনের একটি চুক্তি তিস্তার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে আছে। ত্রিপুরা চায় দ্রুত এই চুক্তিটি হোক। এ বিষয়ে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে যাচ্ছে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *