১৪ বছর সাজা রেখে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ আসছে

১৪ বছর সাজা রেখে 'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন' আসছে

১৪ বছর সাজা রেখে 'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন' আসছেসর্বোচ্চ ১৪ বছর সাজা রেখে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৬’ প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

রোববার দুপুরে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ এক বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। বৈঠকে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হলেও সর্বনিম্ন শাস্তি নির্ধারণ করা হয়নি। এটা অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। প্রস্তাবিত এ আইন পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হলে বিদ্যমান তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ ধারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মধ্যে নিয়ে আসা হবে। আইনমন্ত্রী বলেন, ৫৭ ধারা নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে একটি শঙ্কা আছে জানি। নতুন ডিজিটাল আইন প্রণয়ন হলে তা থাকবে না আশা করি। তবে, এই বিষয়ে ঠিক কী পরিবর্তন আসছে তা উল্লেখ করেননি মন্ত্রী।

বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক উপস্থিত ছিলেন।

পরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় অপরাধের যে ধরণ-সংজ্ঞা ছিল, নতুন আইনে তা আরো স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনের আওতায় ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা যাবে বলেও জানান তিনি।

আইসিটি আইনের ৫৭ (১) ধারায় আছে—

‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ’।

‘(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বছর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন’।

এই আইনের পর ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই আইনের বাতিলের জন্য আন্দোলনে নামেন।

এক পর্যায়ে গত বছরের ২৬ আগস্ট এ আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে জামিনে থাকা জাকির হোসেনের পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন দায়ের করেন আইনজীবী শিশির মো. মনির।

এছাড়া এই আইনের ৫৭ ও ৮৬ ধারা বাতিল চেয়ে সুপ্রিমকোর্টের এক আইনজীবী অপর একটি রিট আবেদন করেন, যা ৩০ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে খারিজ করে দেয়।

তবে একটি রিট নিয়ে গতবছরের ১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন-২০০৬ এর (সংশোধনী ২০১৩) ৫৭ ধারাকে কেন সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *