Gulshan-DNCC-market-fire-under-control

১৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসি মার্কেটের আগুন

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক চেষ্টার পর বিকেলের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। একই সঙ্গে নতুন করে অন্য কোনো জায়গায় আগুন লাগার আর সম্ভাবনা নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভেতরে দাহ্য পদার্থ থাকায় ধোঁয়া বের হচ্ছে। তবে সেগুলো আগুন না। আর তদন্তের পরই আগুনের কারণ জানা যাবে।’

ডিএনসিসি মার্কেটের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিয়ে সেনাবাহিনীর যন্ত্রপাতি চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।

আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

সোমবার রাত আড়াইটায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে পুড়ে গেছে মার্কেটের কয়েকশ’ দোকান। ধসে পড়েছে কাঁচাবাজারের বেশিরভাগ অংশ। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিট কাজ করছে। তাদের সঙ্গে নৌ বাহিনীর অগ্নি নির্বাপক দল যোগ দেয়।

মার্কেটটির ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঠিকমতো পানি দিলে আগুন নিভে যেত।

তারা অভিযোগ করেন, আগুন লাগার অনেক পর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে আসায় আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো আসলে হয়তো অনেক কিছু বাঁচানো সম্ভব হতো।

ডিসিসি মার্কেটের সভাপতি শের মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে গান পাউডার দিয়ে আগুন ধরানো হয়েছে। আগুন লাগানোর আগে এখানে দুইটি বোম্বিং করা হয়েছে। কারণ আগুন লাগার আধ ঘণ্টা পর ভবন ধসে পড়ার কথা নয়।

এদিকে আগুন লাগার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়র আনিসুল হক বলেন, আগুনটা বেশ বড় মাপেরই। আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হলেও এ পর্যন্ত জীবনহানির কোনো তথ্য মেলেনি।

এ সময় তিনি আরো বলেন, আগুন নেভানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণেও এসেছে। পানির স্বল্পতা আছে। যেখান থেকে সম্ভব পানি আনা হচ্ছে। আগুন যাতে আশপাশে ছড়িয়ে না পড়ে, এ জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নেভাতে কতটা সময় লাগবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ছাড়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া।

আগুনের ঘটনায় গুলশান ও এর আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন এ সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীরা। এছাড়া বাড্ডা, প্রগতিসরণিসহ বনানী-মহাখালী অংশেও যানজটের প্রভাব পড়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে মেট্রো গ্রুপ’র সঙ্গে সিটি করপোরেশনের একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুয়ায়ী এই মার্কেটটি ভেঙে এখানে ১৮তলা বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু এখানকার দোকান মালিকদের পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এই নিয়ে দোকান মালিকদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের একরকম বৈরি সম্পর্ক তৈরি হয়। বহুবার তাদের উচ্ছেদের জন্য হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ২০১০ সালে একটি মামলাও হয়েছে। বর্তমান মেয়র আনিসুল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর দোকান মালিকদের কোনো হুমকি না দিয়ে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *