ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে ১০টি অজানা তথ্য
আন্তর্জাতিক

ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে ১০টি অজানা তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শেষ হাসি হেসেছিলেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৮৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন তিনি।

নির্বাচনের শুরু থেকেই জনমত জরিপগুলোতে এগিয়ে ছিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। এমনকি পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনার জ্ঞানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও ভোটের দৌড়ে পারলেন না তিনি। বিশেষত যে অশ্বেতাঙ্গ, মুসলিম ও অভিবাসীদের ভোটে জয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন, সেসব জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন হিলারি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে ১০টি অজানা তথ্য জেনে নিন।

১. ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ ধনাঢ্য ব্যক্তি। একশরও বেশি প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। যার সম্পদের পরিমাণ প্রায় চার বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ১৯৯০ সালে এই ট্রাম্পই দেউলিয়া হয়ে যেতে বসেছিলেন। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দেনায় ডুবে যান তিনি। বিশেষ করে ক্যাসিনো আর রিসোর্ট ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হন তিনি। সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় পড়েন যেটা নিয়ে তার নাম হচ্ছে, ট্রাম্প তাজমহল ক্যাসিনো রিসোর্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ওই তাজমহল নিউজার্সিতে অবস্থিত।

২. নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে ট্রাম্পের একটা আকাশচুম্বি আবাসিক টাওয়ার আছে। এর নাম ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড টাওয়ার। ৭২তলা উঁচু ওই ভবন গত শতকেও ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু আবাসিক টাওয়ার। দুবাই আর সিউলে এর চেয়ে উঁচু আবাসিক টাওয়ার হয়ে গেলে পিছিয়ে পড়ে ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড টাওয়ার।

৩. আমেরিকান ফুটবল লিগ অর্থাৎ রাগবি লিগে জনপ্রিয় একটি দল নিউজার্সি জেনারেলস। দলটির মালিক ছিলেন ট্রাম্প। ১৯৮৩ সালের দিকে ওয়াল্টার ডানকানের কাছে বিক্রি করে দেন ক্লাবটি। অন্য ব্যবসায় মন দিতে ওই সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প।

৪. ট্রাম্প নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রধান কীভাবে বাছাই করতেন জানেন? টিভি শোয়ের মাধ্যমে। এনবিসি চ্যানেলে প্রচারিত ওই শো উপস্থাপনা করতেন ট্রাম্প নিজেই। ২০০৪ সালে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের নাম ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’। এ অনুষ্ঠানের প্রতি পর্বের জন্য ট্রাম্প পেতেন তিন লাখ ৭৫ হাজার ডলার।

৫. ট্রাম্প মদপান করেন না। একদমই না। কারণ হিসেবে ট্রাম্প জানান, তিনি তাঁর ভাই ফ্রেডের কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছেন। মদের কারণে ফ্রেডকে সারাজীবন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আর মদে আসক্তির কারণেই ফ্রেড মারা যান।

৬. শৈশবেই বেশ ভালো স্বাস্থ্য ছিল ট্রাম্পের। সুস্বাস্থ্যের কারণেই ১৩ বছর বয়সে ট্রাম্পের বাবা ও মা তাঁকে নিউইয়র্ক মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তি করে দেন। উদ্দেশ্য ছিল, স্বাস্থ্য তো ভালো আছেই, নিয়ম শৃঙ্খলাও শিখুক ট্রাম্প। ১৯৬৩ সালে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাজুয়েশন করেন তিনি।

৭. ২০০৭ সালে নিজের অনুষ্ঠান ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’-এর জন্য ‘হলিউড ওয়াক অব ফেম’ সম্মাননা অর্জন করেন ট্রাম্প।

৮. ট্রাম্পের তিন স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী ইভানার সঙ্গে ছিলেন ১৯৭৭ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপেলসের সঙ্গে ছিলেন ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। আর বর্তমান স্ত্রীর নাম নাউস। তৃতীয় বিয়ে করেন ২০০৫ সালে। তিন সংসারে ট্রাম্পের সন্তান পাঁচজন। প্রথম জনের নাম ডোনাল্ড জুনিয়র, তাঁর জন্ম ১৯৭৭ সালে। দ্বিতীয় জনের নাম ইভানকা, তাঁর জন্ম ১৯৮১ সালে, তৃতীয় জনের নাম এরিক, তাঁর জন্ম ১৯৮৪ সালে, চতুর্থ জনের নাম টিফানি, তাঁর জন্ম ১৯৯৩ সালে এবং পঞ্চম জনের নাম ব্যারন, তাঁর জন্ম ২০০৬ সালে।

৯. ট্রাম্পই যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রেসিডেন্ট যার নামে গেমস আছে। ‘ট্রাম্প দ্য গেম’ নামে পরিচিত এটি একটি ক্যাসিনোভিত্তিক গেম। ১৯৮৮ সালে এটি চালু হয়।

১০. সুন্দরী প্রতিযোগিতা মিস ইউনিভার্স আয়োজন করে ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এ প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠানের হাতে। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই বেরিয়ে আসে মিস ইউএসএ।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *