সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ডুবে যাওয়া তেলবাহী ‘ওটি সাউদার্ন স্টার সেভেন’ নামের ট্যাংকারটি উদ্ধার করা হয়েছে।
সারাদেশ

সুন্দরবনে ডুবে যাওয়া ট্যাংকার উদ্ধার

সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ডুবে যাওয়া তেলবাহী ‘ওটি সাউদার্ন স্টার সেভেন’ নামের ট্যাংকারটি উদ্ধার করা হয়েছে।সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ডুবে যাওয়া তেলবাহী ‘ওটি সাউদার্ন স্টার সেভেন’ নামের ট্যাংকারটি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে ডুবে যাওয়ার আড়াইদিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে উদ্ধার হলো ট্যাংকারটি।

‘খান জাহান আলী স্যালভেজ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দুটি জাহাজ বৃহস্পতিবার ভোর থেকে চুক্তিভিত্তিক এ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

ডুবে যাওয়া ট্যাংকারের সুপারভাইজার ওয়ালিউল্লাহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধার অভিযানের দায়িত্বে থাকা আবুল কালাম ও গোলাম রাব্বানি জানান, ডুবে যাওয়া ট্যাংকারটি ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে জয়মনি ঘোলের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কোনো উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছেনি।

মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় তেলবাহী ট্যাংকার ‘ওটি সাউদার্ন স্টার সেভেন’ মঙ্গলবার ভোরে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে ডুবে যায়। ট্যাংকারটি গোপালগঞ্জের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য খুলনার পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাচ্ছিল। এ ঘটনায় ট্যাংকারের মাস্টার মোকলেসুর রহমান (৫০) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়ায় মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। বিশেষ করে ইরাবতী ডলফিন অধ্যুষিত এলাকায় এখন ডলফিনের বিচরণ দেখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া জোয়ারে তেলযুক্ত পানি বনে প্রবেশ করায় গাছের গোড়ায় ও শ্বাসমূলে তেলের আবরণ লেগে যাওয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটিও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের উদ্বেগানুযায়ী, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়লে তা সুন্দরবনের ঐতিহ্যের খেতাবের ক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দেবে।

পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের নেতিবাচক প্রভাব অব্যাহত থাকলে শিগগিরই ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ থেকে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যে’র তালিকায় নাম লেখাবে সুন্দরবন।

নিয়মিত অবহেলার মুখে ইতোমধ্যে সুন্দরবন থেকে ২ প্রজাতির পাখি, ৫ প্রজাতির মাছ ও ৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী হারিয়ে গেছে। বিলুপ্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে ২ প্রজাতির উভচর, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৫ প্রজাতির পাখি ও ৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী।

শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকারডুবির এলাকায় ইরাবতী, বোতলনাক, গাঙ্গেয়, ইন্দো প্যাসিফিক হাম্পব্যাক, ফিনলেস পরপয়েস, প্যানট্রপিক্যাল স্পটেড ডলফিনের প্রজাতি দেখতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া এর আশপাশে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বসবাসও রয়েছে। এ দুর্ঘটনার ফলে ওই প্রাণীগুলো ছাড়াও বিখ্যাত সুন্দরী গাছ বিপন্ন হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *