Bangladesh-record-first-Test-win-over-Australia

টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে আটে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে আটে বাংলাদেশ। এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯। রেটিং পয়েন্ট ছিল ৬৯।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ছিল ৪। রেটিং পয়েন্ট ছিল ১০০।

টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের উপরে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৮ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে সেই স্থান দখল করেছে বাংলাদেশ।

সদ্য শেষ হওয়া এ সিরিজে বাংলাদেশ জিতলে র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাবে সেটি অবশ্য আগেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছে লাল-সবুজের দল। সাকিব, মিরাজ ও তাইজুলদের ঘূর্ণির সামনে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৪ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

প্রথম ইনিংসে ২৬০ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে প্রথম ইনিংসে ২১৭ রানে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেয় টাইগার বোলাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ২২১ রানে অলআউট হলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৫। সাকিব আল হাসানের স্পিনে অসিরা অলআউট হয় ২৪৪ রানে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের এটি প্রথম টেস্ট জয়। এগার বছর আগে ফতুল্লা টেস্টে ম্যাথু হেইডেন এবং রিকি পন্টিং বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছিলেন।

২৬৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতে পথ হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ২৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বসে দলটি। অসি ওপেনার ম্যাট রেনশকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। পরের ওভারে উসমান খাজাকে ফেরান সাকিব আল হাসান। ইনিংসের শুরুতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছিলেন ম্যাট রেনশ। তবে নবম ওভারে মিরাজের নিচু হয়ে আসা বলটা ঠেকাতে পারেননি অসি ওপেনার। বল গিয়ে লাগে তাঁর প্যাডে। ফিল্ডারদের আবেদনে সাড়া দিতে দেরি হয়নি আম্পায়ারের। পরের ওভারে সাকিবকে উড়িয়ে মারতে যান উসমান খাজা। স্পিনের বিপক্ষে কখনই সাবলীল ছিলেন না এই ব্যাটসম্যান। ফিরতে পারতেন ডেভিড ওয়ার্নারও। তবে স্লিপে ক্যাচ ছেড়েছেন সৌম্য সরকার।

এরপর চতুর্থ উইকেট জুটিতে ম্যাচে ফেরে অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে ১৩০ রানের দারুণ একটা জুটি গড়ে ম্যাচটা নিজেদের পক্ষে নিয়ে যাওয়ার কাজটা করেন ওয়ার্নার-স্মিথ। এই ম্যাচ দিয়ে এশিয়ার মাঠে ফর্মে ফিরলেন ওয়ার্নার। ২০১৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে করেছিলেন সেঞ্চুরি। এশিয়ায় সেটিই ছিল ওয়ার্নারের একমাত্র সুখস্মৃতি। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসেও স্পিনারদের সামনে ধুঁকতে দেখা গেছে এই ব্যাটসম্যানকে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে দলের প্রয়োজনের সময় দারুণভাবে ফিরে এলেন ডেভিড ওয়ার্নার। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে দলকে জয়ের পথে রাখেন তিনি। এশিয়ায় ওয়ার্নারের এটি দ্বিতীয় শতক।

তবে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই আবার খেলায় ফিরে বাংলাদেশ। ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ, পিটার হ্যান্ডসকম্বদের ফিরিয়ে ম্যাচে টাইগারদের জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলামরা।

সাকিব আল হাসানের বলে লেগবিফোর হয়ে ফিরে যান ওয়ার্নার। আউট হওয়ার আগে ১১২ রান করেন এই অসি ব্যাটসম্যান। কয়েক ওভার পর অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকেও সাজঘরমুখী করেছেন সাকিব। পিটার হ্যান্ডসকম্বকেও খুব বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে দেননি তাইজুল ইসলাম। দ্রুত তিনটি উইকেট হারিয়ে বেশ চাপের মুখেই পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। আর বাংলাদেশ শিবিরে জেগে ওঠে জয়ের আশা। এরপর উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েডকেও ফেরান সাকিব। রিভিউ নিলেও বাঁচতে পারেননি অসি উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। এরপর নিজের বলে অ্যাশটন অ্যাগারের ক্যাচ নিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনা আরো জোরদার করেন তাইজুল।

এরপর নাথান লায়ন ও প্যাট কামিন্স ২৯ রানের জুটি বাঁধলেও মিরাজ ফিরিয়ে দেন লায়নকে। শেষ উইকেট জুটিতে কামিন্স বড় কয়েকটি শট মারলেও হ্যাজেলউডকে ফিরিয়ে টাইগারভক্তদের আনন্দে ভাসান তাইজুল ইসলাম। সাকিব আল হাসান নেন ৫ উইকেট। এ ছাড়া তাইজুল তিনটি ও মিরাজ নেন দুটি উইকেট।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের পর মুশফিক বলেছেন, ‘ওদের মধ্যে এগ্রেসন তো অবশ্যই ছিল। তবে ওরাও বুঝেছে বাংলাদেশ কতটা আগ্রাসী হতে পারে। শুধু ব্যাট-বল না, শারীরিক ভাষাতেও ওরা সেটা টের পেয়েছে। আজ যদি লক্ষ্য করে থাকেন দেখবেন, লাঞ্চের আগে ৬ মিনিট ছিল। তখন ম্যাক্সওয়েল প্রায় ৫ মিনিটই সময় নিচ্ছিল, যেন ওই ওভারের পর আর কোনো ওভার না হয়। যেখানে অস্ট্রেলিয়া বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করতে চায় তারা এমন ব্যাকফুটে চলে গেছে, তারা চাচ্ছে না যে আরেকটা ওভার খেলি। এটা তো অনেক বড় একটা বার্তা।’

বাংলাদেশ যে আর সেই আগের বাংলাদেশ নেই, সেটাও অস্ট্রেলিয়া বুঝেছে বলে মনে করেন মুশফিক, ‘আমাদের টেলএন্ডার যারা ব্যাটিং করতে গেছে তাদের পর্যন্ত ওরা কথা বলেছে। শুধু সিনিয়িররা না, জুনিয়রদেরও ওরা অনেক কথা বলেছে। ওরা জানে এই উইকেটে একটা-দুইটা রান কত গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, ওরা আমাদের জুনিয়রদের অনেক কথা বলেছে, যা কিনা আমরা ফিরিয়ে দিয়েছি। আমরা যে আগের জায়গায় নেই, সেটা ওরা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাটে-বলে যে আগের জায়গায় নেই, যেকোনো অবস্থান থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কিছু খেলোয়াড় আছে, সেটা ওরা বুঝেছে।’

আত্মতুষ্টিতে না ভুগে মুশফিকের চোখ সিরিজ জয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের এটাই সুবর্ণ সুযোগ বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘ভালো একটা ম্যাচ গেছে। এখন আত্মতুষ্টিতে না ভোগে আমাদের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা আছে, যা আমরা করতে চাই। এমন সুযোগ সব সময় আসে না। এমন চাপে অস্ট্রেলিয়া দল সব সময় থাকে না।’

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *