টেক্সাসে খুন ও ক্ষমা এবং নিয়তির টানে একজন বাংলাদেশি

টেক্সাসে খুন ও ক্ষমা এবং নিয়তির টানে একজন বাংলাদেশি

264
0
SHARE

মৃত্যুদণ্ড : দেশে বিদেশে যুগে যুগে-১৮

journalist_shafique_rehmanশফিক রেহমান

রইসউদ্দিন ভূইয়ার জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশে। সিলেট ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনার পর তিনি বাংলাদেশ এয়ার ফোর্সে অফিসার পদে যোগ দেন। যে গুটিকয়েক বাংলাদেশি আমেরিকায় বসবাসের জন্য ২০০০ সালে গৃন কার্ড লটারিতে বিজয়ী হয়েছিলেন, রইস ছিলেন তাদের অন্যতম। চাকরি করা এবং পাশাপাশি কমপিউটার টেকনলজি শেখার লক্ষ্যে ২৭ বছর বয়সে রইস চলে যান ম্যানহাটান, নিউ ইয়র্কে। সেখান থেকে তিনি যান আমেরিকার দক্ষিণে ডালাস, টেক্সাসে। ডালাসে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা তাকে সাবধান করে দিয়েছিলেন টেক্সাসে সহিংসতার সংখ্যা বেশি।

তবুও রইস বেছে নিয়েছিলেন ডালাস সিটিকে। কারণ ম্যানহাটানের তুলনায় সেখানে জীবনযাত্রার খরচ ছিল কম এবং জব অপরচুনিটি ছিল বেশি। এক বন্ধুর সঙ্গে পার্টনারশিপে একটি পেট্রল পাম্প স্টেশনে ডালাসে কাজ শুরু করেন রইস।

যে শহর ছেড়ে রইস চলে যান ডালাসে, সেই নিউ ইয়র্ক সিটিতে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ দুটি সন্ত্রাসী প্লেন এটাকে ম্যানহাটানে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়। প্রায় একই সময়ে রাজধানী ওয়াশিংটনে এবং পেনসেলভানিয়াতে আরো দুটি সন্ত্রাসী প্লেন এটাক হয়। এই চারটি এটাকে চারটি প্লেনের ১৯ জন হাইজ্যাকার এবং সব প্লেনের সব যাত্রী ও বিভিন্ন ভবনের ২,৯৭৭ অধিবাসীসহ, সেই দিন মোট ২,৯৯৬ মানুষ নিহত হয়। আহত হয় ৬,০০০-এর বেশি। ধারণা করা হয় ১৯ জন হাইজ্যাকারই ছিল আল কায়েদা সংস্থার সদস্য আরব মুসলিম।

সাধারণত এই ধরনের খুন ও খুনের চেষ্টা কিছু দিন পরে অন্যান্য খবরের আড়ালে পড়ে যায়। কিন্তু রইসের বেলায় সেটা হয়নি। কারণ এত কষ্ট পাওয়া সত্ত্বেও রইস ক্ষমা করে দিয়েছিলেন স্ট্রোম্যানকে এবং স্ট্রোম্যান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে, সেই দণ্ড যাতে কার্যকর না হয় তার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন। রইসের এই মহানুভবতায় স্ট্রোম্যানের মানসিক চিন্তাধারা বদলে যায়। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া একটি ইন্টারভিউতে (নিচে দেখুন) স্ট্রোম্যান বলে, ‘ঘৃণা-প্রতিহিংসা বন্ধ করতে হবে- কারণ এই পৃথিবীতে আমরা সবাই এক সঙ্গে আছি।’

 

সারা আমেরিকায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার আকাংখা কিছু আমেরিকানদের মধ্যে প্রবল হয়ে ওঠে। এই ক্ষুব্ধ আমেরিকানদের অন্যতম ছিল ডালাসের এক ডে লেবারার বা দিনমজুর, মার্ক এন্টনি স্ট্রোম্যান (৩১)। সে প্রতিশোধ নিতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়।

১৫ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ ডালাসে ইলাম রোডে একটি গ্রোসারি স্টোরে কাজ করছিলেন পাকিস্তানি বংশ উদ্ভূত ওয়াকার হাসান (৪৬)। স্ট্রোম্যান সেই দোকানে ঢুকে গুলি করে ওয়াকারকে খুন করে।

এর ছয় দিন পরে স্ট্রোম্যান তার দ্বিতীয় শিকারের লক্ষ্যে যায় ডালাসের সাউথ বাকনার বুলেভাতে পেট্টল পাম্প সংলগ্ন একটি মিনিমার্টে। সেখানে ক্যাশিয়ারের কাজ করছিলেন রইস। রইসকে তার বস বলে রেখেছিল, কখনো কোনো আগন্তুক এসে যদি বন্দুক দেখিয়ে ডলার চায়, তাহলে ক্যাশে দেড় শ ডলার রেখে বাকি সব ডলার বিনা বাক্য ব্যয়ে আগন্তুককে দিয়ে দিতে।

রইসের মিনিমার্টে মাঝেমধ্যে আগন্তুকরা আসতো চোরাই ল্যাপটপ, টিভি প্রভৃতি বিক্রির আশায়। সেদিন ভরদুপুরে ওই আগন্তুকের হাতে ল্যাপটপ বা টিভি ছিল না। ছিল একটি শটগান। তার মাথা ছিল ন্যাড়া। দেহে ছিল উল্কি বা ট্যাটু আকা।

পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী রইস তার ক্যাশ বক্স খোলেন। কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে স্ট্রোম্যান জিজ্ঞাসা করে, ‘তোর দেশ কোথায়? হোয়ার আর ইউ ফ্রম?’

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর রইস দেওয়ার আগেই স্ট্রোম্যান সরাসরি তার মুখে গুলি করে। সে মারা গিয়েছে ভেবে স্ট্রোম্যান চলে যায়। রক্তাক্ত রইস কোনো রকমে পাশের দোকান, একটি হেয়ার ড্রেসিং শপে যান। সেখান থেকে পুলিশে ফোন করা হয়।

এরপর পুলিশ যখন আঁততায়ীকে খুজছিল তখন স্ট্রোম্যান তার তৃতীয় শিকারের লক্ষ্যে তৎপর হয়। ৪ অক্টোবর ২০০১-এ টেক্সাসের মেসকিট শহরে ইনডিয়ান বংশ উদভূত বাসুদেব প্যাটেলকে (৪৯) সে খুন করে।

এর কিছু দিন পর স্ট্রোম্যান ধরা পড়ে। হাজতে থাকা অবস্থায় স্ট্রোম্যান বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ফোন করে দাবি করে যে এসব হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে দিয়েছে সে একজন সত্যিকার দেশপ্রেমিক, এ ট্রু আমেরিকান। ২০০২-এ জেল থেকে এক বন্ধুর কাছে একটি চিঠিতে স্ট্রোম্যান নিজের সম্পর্কে লেখে, ‘এখানে আছে আরব হত্যাকারী। আমি যা করেছি তার পুরস্কার স্বরূপ তোমাদের মেয়র করা উচিত আমাকে। আমি একজন দেশপ্রেমিক, সত্যিকার আমেরিকান এবং খুবই স্পেশাল ধরনের।’

গুরুতর আহত রইসকে হসপিটালে নেওয়া হলে কয়েকবার সার্জারির পর ডাক্তাররা তাকে ব্রেইন ড্যামেজ থেকে বাচাতে পারেন- কিন্তু তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে পরে রইস বলেন, ‘আমার মুখের ডান দিকে এখনো ৩৮টি পেলেট আছে। আমার মুখে ছুলেই বুঝবেন এটা কতো এবড়ো খেবড়ো। একটার পর একটা সার্জারি হয়েছিল আমার মুখে। এসব সার্জারি ছিল খুবই যন্ত্রণাদায়ক।’

সাধারণত এই ধরনের খুন ও খুনের চেষ্টা কিছু দিন পরে অন্যান্য খবরের আড়ালে পড়ে যায়। কিন্তু রইসের বেলায় সেটা হয়নি। কারণ এত কষ্ট পাওয়া সত্ত্বেও রইস ক্ষমা করে দিয়েছিলেন স্ট্রোম্যানকে এবং স্ট্রোম্যান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে, সেই দণ্ড যাতে কার্যকর না হয় তার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
রইসের এই মহানুভবতায় স্ট্রোম্যানের মানসিক চিন্তাধারা বদলে যায়। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া একটি ইন্টারভিউতে (নিচে দেখুন) স্ট্রোম্যান বলে, ‘ঘৃণা-প্রতিহিংসা বন্ধ করতে হবে- কারণ এই পৃথিবীতে আমরা সবাই এক সঙ্গে আছি।’

স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার কয়েক ঘণ্টা আগে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রইস। গুলিবিদ্ধ হবার পর সেটাই ছিল তার সঙ্গে রইসের প্রথম এবং শেষ কথোপকথন। রইস বলেন, ‘আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি আপনাকে ঘৃণা করি না।’

এ কথার উত্তরে স্ট্রোম্যান বলেন, ‘থ্যাংক ইউ। আমার হৃদয় থেকে আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আমি আপনাকে ভালোবাসি, ব্রাদার… আপনি আমার হৃদয় ছুয়ে গিয়েছেন। এমনটা আমি কখনোই আশা করিনি।’

‘আপনিও আমার হৃদয় ছুয়েছেন।’ রইস উত্তর দেন।

স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার জন্য রইস ফেডারাল কোর্টে শেষ আপিল করেছিলেন। কিন্তু সেটা নাকচ হয়ে যাবার পর ২০ জুলাই ২০১১-তে স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

নিউ ইয়র্ক টাইমসে ইন্টারভিউ
রইসের ক্ষমা করার দৃষ্টান্ত আমেরিকাকে আলোড়িত করে। স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার দুই দিন আগে ১৮ জুলাই ২০১১-তে নিউ ইয়র্ক টাইমসে রইস এবং স্ট্রোম্যান, উভয়ের ইন্টারভিউ প্রকাশিত হয়। ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন টিমথি উইলিয়ামস এবং তার এই রিপোর্টের শিরোনাম ছিল, দি হেইটেড অ্যান্ড দি হেইটার, বোথ টাচড বাই ক্রাইম (The Hated and the Hater, Both Touched by Crime,  অর্থাৎ, ঘৃণিত এবং ঘৃণাকারী -দুজনকেই ছুয়েছে একই অপরাধ)।

প্রশ্ন : ২১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ আপনি আপনার বন্ধুর একটি পেট্রল পাম্পে কনভিনিয়েন্স স্টোরে কাজ করছিলেন। সেই দিনের ঘটনা সম্পর্কে কি মনে পড়ে?

উত্তর : এর আগে দুইবার আমি চোর ডাকাতের মুখে পড়েছিলাম। ওই এলাকায় অনেক খুনখারাপি হতো। আমাদের দোকানে চোরাই টিভি আর কমপিউটার তারা নিয়ে আসতো। একবার একটা লোক এসেছিল বন্দুক হাতে। আমি ভেবেছিলাম সেই লোকটা তার বন্দুক বিক্রি করতে এসেছে। কিন্তু সে বলেছিল, ‘যদি তোমার ক্যাশের টাকা না দাও, তাহলে গুলি করে তোমার খুলি উড়িয়ে দেব।’ এ রকম অভিজ্ঞতা আমার ছিল।

২১ সেপ্টেম্বর ২০০১। তখন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। বিজনেস বেশ স্লো যাচ্ছিল। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছিল। পাশের হেয়ারড্রেসিং শপের বারবার (নাপিত) এসে চিপস আর ডৃংকস কিনে নিয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ দেখি, হ্যাট আর সানগ্লাস পরে একটা লোক দোকানে ঢুকলো। তার হাতে ছিল বন্দুক। আমি ভাবলাম লোকটা ডাকাতি করতে এসেছে। তাড়াতাড়ি বললাম, ‘আমাকে গুলি কোরো না, প্লিজ। সব টাকা তুমি নিয়ে যাও।’
সে বললো, ‘তুই কোন দেশের?’
সে আমার কাছ থেকে চার-পাচ ফিট দূরে ছিল।
আমি শিউরে উঠলাম।
উত্তর দিলাম, ‘কি বলছেন আপনি?’

ওটা ছিল দোনলা বন্দুক। হঠাৎ মনে হলো কয়েক লক্ষ মৌমাছি যেন আমার মুখে হুল ফুটিয়ে দিয়েছে। তারপর একটা বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম। আব্বা-আম্মার, ভাইবোনের আমার ভালোবাসার মেয়েটির মুখগুলো যেন দেখলাম। তারপর দেখলাম একটি কবরস্থান। ভাবলাম, আমি কি আজই মরে যাচ্ছি? নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। আমার মাথা থেকে গল গল করে রক্ত পড়ছে। ভাবলাম মগজ কি বেরিয়ে যাচ্ছে? দুই হাতে আমার মাথা চেপে ধরে চিৎকার করে উঠলাম, মা। আমি দেখলাম ওই লোকটা তখনো দাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবলাম মেঝেতে না পড়লে ওই লোকটা মনে করবে আমি বেচে আছি। আমি মেঝেতে পড়ে গেলাম। মেঝে ভেসে যাচ্ছিল আমার রক্তে। তারপর ওই লোকটা চলে গেল। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না লোকটা আমাকে গুলি করেছে। আমি ভাবছিলাম হয়তো কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছি। আমি তো খারাপ কিছু করি নি। আমি তো তাকে কোনো হুমকি দেই নি। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এভাবে বিনা কারণে কেউ কাউকে গুলি করতে পারে।

প্রশ্ন : তারপর কি হলো?

উত্তর : আমি ওখান থেকে বের হতে চাচ্ছিলাম। আমি পাশের হেয়ারড্রেসিং শপে গেলাম। ওরা আমাকে দেখে ভয়ে পালিয়ে গেল। একটা জবাই করা মুরগির মতো আমার মুখ থেকে রক্ত পড়ছিল। ওরা ভেবেছিল হামলাকারী আমার পেছনে তেড়ে আসছে। আমি হেয়ারড্রেসিং শপের আয়নায় আমার মুখ দেখলাম। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না সেটা আমি (এই সময়ে রইস কাদতে শুরু করেন)। এক মিনিট আগেও আমি ছিলাম টি-শার্ট, হাফ প্যান্ট আর টেনিস শু পরা এক তরুণ (রইস আরো জোরে কাদতে শুরু করেন)। সরি, গত নয় বছর এভাবে আমি কাদি নি। আমি লাকি ছিলাম। কারণ ওই এলাকায় ঠিক তখনই একটা এমবুলেন্স ছিল। আল্লাহর কাছে মোনাজাত করছিলাম, আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিও। আমি ভালো পথে চলবো। সুরা আউড়ে আমি বললাম, আমার জীবনটা আমি গরিবদের জন্য উৎসর্গ করবো। আমি বুঝতে পারছিলাম আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। মনে হলো আমার ব্রেইনের সব কাজ আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

প্রশ্ন : আপনার কতো ইনজুরি হয়েছিল?

উত্তর : আমার মুখে এখনো ৩৮টি পেলেট আছে। আহত হবার পর আমি চোখ খুলতে পারতাম না। কথা বলতে পারতাম না। মুখ হা করতে পারতাম না। কোনো কিছু গিলতে খুব কষ্ট হতো। কারণ আমার গলাতেও গুলি লেগেছিল। হসপিটালে কিছুক্ষণ থাকার পর শুধু বাম চোখটা খুলতে পারি। মুখটা খুব ফুলে গিয়েছিল। ক্ষতবিক্ষত মুখটা ভয়ংকর বিশ্রী হয়ে গিয়েছিল। আমি বিশ্বাস করতে পারতাম না, ওটা ছিল আমারই মুখ। আল্লাহকে শুধু বলতাম, প্লিজ আল্লাহ, আমার মুখটা আমাকে ফিরিয়ে দাও।

(রইসকে পরদিন হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ করা হয়েছিল। কারণ তার কোনো হেলথ ইনশিওরেন্স ছিল না। এক পর্যায়ের পর হসপিটাল তার চিকিৎসা করতে চায় নি। এর পরের কয়েক মাস তাকে বিভিন্ন বাড়িতে বন্ধুদের অনুগ্রহে কোনো রকমে শুয়ে কাটাতে হয়। স্যাম্পল রূপে যেসব ওষুধ ডাক্তাররা পান, সেসব যোগাড় করে রইস তার চিকিৎসা চালিয়ে যান। পেইনকিলার এবং আইড্রপসও রইস এভাবে যোগাড় করেন। তার ডান চোখে কয়েকবার সার্জারির পর এখন শুধু সেই চোখে তার সীমিত দৃষ্টি শক্তি আছে।)

প্রশ্ন : মি. স্ট্রোম্যান স্বীকার করেছেন তিনি আপনাকে খুন করতে চেয়েছিলেন। তার জীবন বাচানোর জন্য আপনি কেন চেষ্টা করছেন?

উত্তর : আমার আব্বা-আম্মা এবং আমার টিচাররা আমাকে ভালো শিক্ষা দিয়েছিলেন। তারা নীতিকথা শিখিয়েছিলেন। তারা আমার ইমান শক্ত করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, তুমি নিজেকে অপরের অবস্থায় বসিয়ে চিন্তা করবে। তারা তোমাকে আহত করলেও তুমি প্রতিশোধ নিও না। তাদের ক্ষমা করে দিও। তারপর সামনের দিকে এগিয়ে যেও। এর ফলে তোমার জীবনে ভালো কিছু ঘটবে – এবং তাদের জীবনেও। আমার ইসলামি শিক্ষা এটাই শিখিয়েছে। ওই লোকটা একটা যুদ্ধ হিসাবে এই কাজটা করেছিল। অনেক আমেরিকান এটাই করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সাহস হয়নি। ওই লোকটার সাহস হয়েছিল – মুসলিমদের গুলি করার সাহস। এই ঘটনাটি ঘটে যাবার পর আমি এই দেশে বেচে থাকার যুদ্ধ করছি। আমি মনে করি, ক্ষমা করে দেওয়াটা যথেষ্ট নয়। ওই লোকটা তার অজ্ঞতা থেকে কাজটা করেছিল। আমি সিদ্ধান্ত নিই ওই লোকটার জীবন বাচাতে হবে। ১১ সেপ্টেম্বরে যা ঘটেছে তার বদলে ডালাসে কাউকে খুন করাটা ঠিক নয়।

প্রশ্ন : মি. স্ট্রোম্যানের সঙ্গে আপনার দেখা করার সুযোগ যদি হয় তাহলে কি করবেন?

উত্তর : স্ট্রোম্যানের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি এপ্লিকেশন করেছিলাম। জেলে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে তার মানসিকতা বুঝতে চাই। ভালোবাসা আর ক্ষমা বিষয়ে কথা বলতে চাই। আমরা সবাই তো ভুল করি। আমারই মতো, সে-ও আরেকটা মানুষ মাত্র। পাপকে ঘৃণা করো – পাপীকে নয়। তাই জেলে গিয়ে তাকে আমার এই অনুভূতিগুলো বোঝাতে চাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তাকে বেচে থাকার সেকেন্ড চান্স দেওয়া উচিত। আমি বলতে চাই, আমি কখনোই আমেরিকাকে ঘৃণা করিনি। তাকে বাচিয়ে রাখলে সে হয়তো অনেক মানুষকে তার কথা বলবে। তাদের সুপথে আনতে পারবে। তার কি হবে এটা ভেবে আমি খুব ইমোশনাল হয়ে যাই – আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। আমি ঘুমোতে পারি না। যখন আমি বিছানায় শুতে যাই, তখন ভাবি আরেকটি মানুষকে আমি জানি, যে এখন বিছানায় শুয়ে ভাবছে তার কি পরিণতি হবে – তার হাত পা বিছানায় বেধে তাকে হত্যা করা হবে। আমি আরো ইমোশনাল হয়ে পড়ি। দুঃখে ভেঙ্গে পড়ি। তাকে বাচানোর জন্য আরো কিছু করতে চাই।

স্ট্রোম্যানের ইন্টারভিউ

প্রশ্ন : কেমন আছেন মি. স্ট্রোম্যান?

উত্তর : আমার আর মাত্র পচিশ দিন বাকি আছে। তারপর একটা বিছানায় আমাকে বেধে ফেলে শরীরে বিষ ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু কথাটা একই – আমাদের সবাইকেই কোনো এক সময়ে শেষ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হয়। এখন সবই ঠিকঠাক চলছে। ফুরফুরে মেজাজে আছি। এক কাপ কফি খাচ্ছি আর রেডিওতে হারানো দিনের গান শুনছি। তবে একটা নিষ্ঠুর রসিকতাও হচ্ছে। যে গানটি শুনছি সেটা হলো লিনার্ড স্কিনার্ড-এর গাওয়া, ফৃ বার্ড (Free Bird, মুক্ত পাখি)!

প্রশ্ন : রইস ভূইয়া যে আপনার প্রাণদণ্ড কার্যকর করার বিরুদ্ধে চেষ্টা করছেন, সে বিষয়ে আপনি কি মনে করেন?

উত্তর : হ্যা, রইস ভূইয়া- এক আশ্চর্য মানুষ। সে প্রেরণা দিতে পারে। আমি যা করেছি তারপর রইসের এই চেষ্টার প্রশংসা হাজারটা বই লিখেও করা যাবে না। সে আমার হৃদয় ছুয়েছে… বিশ্ব জুড়ে বহু মানুষের হৃদয় ছুয়েছে। বিশেষত গত দশ বছর যাবত যখন আমরা শুধু শুনেছি ইসলামি বিশ্বাস কতো মন্দ হতে পারে… (তখন রইসের এই আন্দোলন) প্রমাণ করে দিয়েছে সব কিছুই মন্দ নয়, শয়তানি নয়।

প্রশ্ন : আপনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি আছে। আমাকে বলুন, আপনি এখন কি চিন্তা করছেন?

উত্তর : শুধু আমার সব বন্ধুরাই এবং আমার সব সাপোর্টাররাই যে আমার জীবন বাচানোর জন্য চেষ্টা করছেন তা নয়- এখন আমাকে বাচানোর লক্ষ্যে ইসলামি সম্প্রদায়ও চেষ্টা করছে। … আর এই ইসলামি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রইস ভূইয়া নামে এক অতি অসাধারণ মানুষ, যে আমার ঘৃণা থেকে বেচে যাওয়া মানুষ। ইসলামি মূল্যবোধে তার গভীর বিশ্বাস তাকে শক্তি দিয়েছে ক্ষমার অযোগ্য মানুষকেও ক্ষমা করে দিতে… এটা সত্যিই আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। এটা সবার জন্যই একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ঘৃণা বন্ধ করতে হবে – আমরা এই পৃথিবীতে সবাই এক সঙ্গে আছি। আমি যিশুর ধর্মে বিশ্বাসী এবং টেক্সাসের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ। এই দুই কারণেও আমি এখন অনেক কিছু গভীরভাবে বুঝতে পারছি। পৃথিবীটা ঘুরছে। কিন্তু আমার জন্য প্রায় দশ বছর হলো পৃথিবীর সেই ঘোরাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বরে যা ঘটেছিল সেটা জাতি হিসাবে আমরা কখনোই ভুলবো না। সেদিন আমরা সবাই যেটা অনুভব করেছিলাম, সেটাও কেউ ভুলবো না। আমিও না। কিন্তু আমি বলতে পারি আজ আমি কি অনুভব করছি। আর সেটা হলো রইস ভূইয়ার জীবন শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা আমি করেছিলাম। তারপর আমার জীবন বাচানোর জন্য যে চেষ্টা সে করছে, তাতে আমি তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা বোধ করছি। আমি জানি বাইরে অনেকেই আছেন, যারা এখনো টুইন টাওয়ারের ঘটনায় আহত বোধ করছেন, যারা এখনো ঘৃণায় ভুগছেন। আর আমি এখনো টেঙাসের ডেথ সেলে বসে নিজের মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুনছি। কিন্তু আমি আশা করি এর একটা শুভ পরিণতি হবে। আমাদের দরকার আরো ক্ষমাপরায়ণতা এবং আরো বুঝতে পারা – এবং কম ঘৃণা করা টেক্সাস জীবিত, টেক্সাস গর্বিত… আমি একজন সত্যিকার আমেরিকান… বেচে আছি মরার জন্য – মরছি বেচে থাকার জন্য। (We need more forgiveness and understanding and less hate… Texas loud and Texas proud… True American… Living to die Dying to live).

আমেরিকানদের অশেষ কৌতূহল
বিচারের সময়ে স্ট্রোম্যান কোনো অনুশোচনা দেখান নি এবং কোনো অনুকম্পা প্রার্থনা করেননি। স্ট্রোম্যানের মৃত্যুর পরে রইস আরো জোরালো আন্দোলন শুরু করেন। এই অতি অসাধারণ ঘটনায় আমেরিকানদের অশেষ কৌতূহল হয়। তারা জানতে চান রইসের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্ল্যান। আর সেই কৌতূহল মেটাতে এগিয়ে আসেন একাধিক রিপোর্টার ও লেখক। একাধিক ডেইলি নিউজ পেপার ও ম্যাগাজিন। একাধিক রেডিও-টিভি চ্যানেল।

ডিসেম্বর ২০১১তে আমেরিকার প্রেস্টিজিয়াস ম্যাগাজিন স্কোয়ার (ঊংয়ঁরৎব)-এ প্রকাশিত হয় মাইক সেগার-এর দি ফেইস অফ ফরগিভনেস (The Face of Forgiveness) শীর্ষক রচনা। ফেব্রুয়ারি ২০১৩-তে এই রচনাটি সংক্ষেপিতভাবে প্রকাশিত হয় দি রিডার্স ডাইজেস্ট ম্যাগাজিনে।
মে ২০১৪-তে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক আনন্দ গিরিধরদাস-এর লেখা দি ট্রু আমেরিকান : মার্ডার অ্যান্ড মার্সি ইন টেক্সাস (The True American : Murder and Merci in Texas, সত্যিকার আমেরিকান : টেক্সাসে খুন ও ক্ষমা) নামে বইটি প্রকাশিত হবার পর রইসউদ্দিন ভূইয়ার সম্পর্কে আমেরিকান কৌতূহল আরো বেড়ে যায়। ডাবলিউ ডাবলিউ নর্টন (W W Norton) কর্তৃক ৩৩৬ পৃষ্ঠার এই বইটির দাম ২৭ ডলার ৯৫ সেন্ট অথবা ১৮ পাউন্ড ৯৯ পেন্স, আমাজন দাম ১৫ পাউন্ড ৯০ পেন্স। বইটির মুভি মেকিং রাইটস বা স্বত্ব নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় আমেরিকায়। শেষ পর্যন্ত এই বইটির মুভি স্বত্ব কিনেছেন নারী মুভি ডিরেক্টর ক্যাথরিন বিগেলো (৬২)। তিনি এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী মুভি ডিরেক্টর যিনি অস্কার প্রাইজ বিজয়ী হয়েছেন।

২০০৯-এর সেরা মুভি ডিরেক্টর পুরস্কার প্রাইজটি পান ক্যাথরিন বিগেলো ইরাকে যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থার ওপর তার পরিচালিত হার্ট লকার (Hurt Locker) মুভিটির জন্য। এরপরে ২০১২-তে তার পরিচালিত জিরো ডার্ক থার্টি (Zero Dark Thirty) সেই বছরের সেরা মুভির এবং আরো অনেক অস্কার নমিনেশন পায়। এই মুভির বিষয় ছিল টুইন টাওয়ার ধ্বংস হবার পরে ওসামা বিন লাদেন-এর যুগ। ক্যাথরিন বিগেলো (টাইটানিক মুভি নির্মাতা জেমস ক্যামেরনের সাবেক স্ত্রী) দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন রইসউদ্দিনের ওপর মুভি নির্মাণের জন্য। তাই তিনি বেশি দাম দিয়ে মুভি মেকিং রাইটস কিনেছেন। ধারণা করা হচ্ছে বিগেলোর এই মুভিটিও বহু অস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

রইসের আমেরিকান স্বপ্ন হলো দুঃস্বপ্ন
আমেরিকা ইমিগ্রান্টদের দেশ। আদি অধিবাসীদের (যাদের বলা হয় রেড ইনডিয়ান) অধিকাংশকে নিশ্চিহ্ন করে আমেরিকা হয়েছে বহিরাগতদের নতুন দেশ। ওবামার পূর্বপুরুষ এসেছিলেন আফৃকা (কেনিয়া) থেকে। জন কেনেডির পূর্বপুরুষ এসেছিলেন ইওরোপ (আয়ারল্যান্ড) থেকে। তাদেরই মতো অন্যান্য বহিরাগতদের স্বপ্ন হলো পরিশ্রম করে গরিব থেকে ধনী হওয়া, অখ্যাত থেকে খ্যাতনামা হওয়া, দুর্বল থেকে শক্তিমান হওয়া। এখনো আমেরিকাতে এটা সম্ভব। সাধারণভাবে এটাকে বলা হয় আমেরিকান ডৃম বা আমেরিকান স্বপ্ন।

বাংলাদেশে সিলেটে রইসউদ্দিন ভূইয়া একই স্বপ্ন দেখছিলেন ২০০০ সালে। সেই বছর আমেরিকার ন্যাশনাল গৃন কার্ড লটারিতে যে গুটিকয়েক মানুষ বাংলাদেশে তাদের অন্যতম ছিলেন রইস। তিনি তখন বাংলাদেশ এয়ার ফোর্সে কাজ করছিলেন এবং এক তরুণীর প্রেমে বিভোর ছিলেন। এই চাকরিটি ছেড়ে দিয়ে রইস তার আমেরিকান স্বপ্ন সফল করার লক্ষ্যে ২০০১-এ টেক্সাসে যখন পৌঁছান তখন তার বয়স ছিল সাতাশ। তিনি আইটিতে পড়াশোনা করতে চান এবং পড়াশোনার খরচ মেটানোর জন্য তার এক বন্ধুর পেট্রল পাম্প স্টেশনে (আমেরিকায় যাকে বলে গ্যাস স্টেশন) কাজ শুরু করেন। আমেরিকায় কিছু পেট্রল পাম্প স্টেশনের সঙ্গেই থাকে মিনিমার্ট (কনভিনিয়েন্স স্টোর) যেখানে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সঙ্গে বিভিন্ন ফুড অ্যান্ড ডৃংকস বিক্রি হয় কার-কোচ-ট্রাক ড্রাইভারদের জন্য। অনেক সময় একই ব্যক্তিকে পেট্রল এবং ফুড ও ডৃংকস বিক্রির দায়িত্ব নিতে হয়।

১১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ নিউ ইয়র্ক পেনসেলভেনিয়া-ওয়াশিংটনে সন্ত্রাসী হামলার দশ দিন পরে যখন রইস তার পেট্রল পাম্প সংলগ্ন মিনিমার্টে কাজ করছিলেন, ঠিক সেই সময়ে টেক্সাসের এক দিনমজুর, মার্ক এন্টনি স্ট্রোম্যান, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বেরিয়েছিল আরব শিকারে। তখন ধারণা করা হয়েছিল টুইন টাওয়ারে হামলার জন্য আরবরাই দায়ী। স্ট্রোম্যান পাকিস্তানি বংশ উদ্ভূত ওয়াকার হাসানকে হত্যা করে ১৫ সেপ্টেম্বরে।
এর ছয় দিন পর ২১ সেপ্টেম্বরে স্ট্রোম্যান যায় রইসকে খুন করতে। রইস গুরুতর আহত হলেও বেচে যান।
৪ অক্টোবরে ইনডিয়ান বংশ উদ্ভূত বাসুদেব পাটেলকে হত্যা করে স্ট্রোম্যান।

রইসের মিনিমার্টে ঢুকে স্ট্রোম্যান প্রশ্ন করেছিল, তোর দেশ কোথায়?
রইসের কাছে প্রশ্নটি অস্বাভাবিক মনে হয়নি। কারণ তার দোকানে শ্বেতাঙ্গরা এলে কেউ কেউ এ রকম প্রশ্ন করতেন। মাত্র এক দিন আগেও কয়েকজন বন্ধুপ্রতিম শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার দোকানে এসে ইসলাম ও ভূগোল বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। স্ট্রোম্যানের ন্যাড়া মাথা এবং উর্ধাংশ ছিল নিরাবরণ। তার গায়ে ছিল উল্কি আকা।

স্ট্রোম্যানকে তার বন্দুকের টৃগার চাপতে দেখে রইস দ্রুত তার ক্যাশ বাঙের শুধু দেড়শ ডলার রেখে বাদবাকি সব টাকা দিতে চান। মৃত্যুদূত স্ট্রোম্যান আর কোনো কথা না বলে রইসের আরো কাছে এগিয়ে আসে এবং তার মুখে গুলি করে।

আহত রইসের পূর্ণ চিকিৎসার সামর্থ ছিল না। ঘটনাটি জানতে পারে বাংলাদেশে তার জন্য অপেক্ষমাণ বাগদত্তা তরুণীটি। কিন্তু তার পক্ষে আর অপেক্ষা করা সম্ভব হয় না। রইসের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।

প্রবল আত্মসম্মান ও দৃঢ় সংকল্পবোধ
বাংলাদেশে রইস হারান তার ভালোবাসার মেয়েটিকে। আমেরিকায় রইস হারান তার চাকরি এবং এক চোখের দৃষ্টি শক্তি। তার মেডিকাল বিল হতে থাকে বিশাল। ইতিমধ্যে নাইন-ইলেভেনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে ফান্ড সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল সেই তহবিল থেকে তিনি কিছু পাবেন না এই দুঃসংবাদটি রেড ক্রস তাকে দেয়। তবে রেড ক্রস বলে, তাকে ফৃ খাবার সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু রইসের আত্মসম্মানবোধ ছিল প্রবল। তিনি সেই সাহায্য নিতে চান না।

আহত হবার পরে পথম দিকে রইস পথে বেরোতে ভয় পেতেন। সারা দিন নিজের রুমে থাকতেন এবং নিয়মিত নামাজ পড়তেন। তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন সব প্রতিকূলতা তাকে কাটিয়ে উঠতেই হবে। তাই শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ এবং মানসিকভাবে কিছুটা সবল হবার পরে রইস সিদ্ধান্ত নিলেন কোনো রেস্টুরেন্টে কাজ করার। কারণ এভাবেই অপরিচিত মানুষ সম্পর্কে তার ভয় কাটানো সম্ভব ছিল। ২০০৩-এ অলিভ গার্ডেন নামে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের চাকরি শুরু করেন রইস।

এর পরে এক বন্ধুসুলভ ডাক্তারের সাহায্যে এই ধরনের ক্রাইমে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে তিনি কিছু টাকা পান। এই টাকায় রইস অধিকাংশ মেডিকাল ও অন্যান্য ঋণ শোধ করতে পারেন। তিনি বাকি টাকায় একটি ব্যাংক একাউন্ট খোলেন, একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন এবং একটি গাড়ি কিস্তিতে কিনতে পারেন। এ জন্য একটি ক্রেডিট কার্ড কম্পানি রইসকে ক্রেডিট কার্ড দেয়।

হজে নতুন উপলদ্ধি
কিন্তু রইস তো আমেরিকায় আইটিতে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন। তিনি সেদিকেও এগিয়ে যান। স্থানীয় মসজিদে পরিচয় হওয়ার সুবাদে এক মুসলিমের সুপারিশে ২০০৯-এ রইস একটি কম্পিউটার স্কুলে ফৃ পড়াশোনার সুযোগ পান। সেখানে তার টিচারের সহযোগিতায় রেস্টুরেন্ট ভালোভাবে চালানোর জন্য একটি সফটওয়্যার ডিজাইন করেন। রেস্টুরেন্টে কাজ করার পাশাপাশি এই সফটওয়্যার বিক্রির কাজ তিনি শুরু করেন। এক পর্যায়ে রইসের হঠাৎ মনে পড়ে মরণাপন্ন অবস্থায় যখন ছিলেন তখন সৃষ্টিকর্তার কাছে তিনি ওয়াদা করেছিলেন হজব্রত পালন করবেন।

রইসের পিতা ইতিমধ্যে তিনবার হজে গিয়েছিলেন। রইস স্থির করেন এবার তিনি হজে তার মাকে নিয়ে যাবেন যিনি আগে কখনো হজ করেন নি। ইসলাম ধর্মের মূল পাচটি স্তম্ভের অন্যতম হজ পালন করার গভীর ইচ্ছা ছিল তার মা-র।

২০০৯-এ রইস এবং তার মা এক মাস মক্কায় ছিলেন। তারা হজ করেন এবং মিশে যান সব পুণ্যার্থীদের সাথে।

রইস ফিরে আসেন ডালাস, টেক্সাসে। তবে ভিন্ন মানুষ রূপে।

পরে রইস বুঝিয়ে বলেন, “হজে গিয়ে আমি অনুভব করলাম, আমি আর নিজের সম্পর্কে শংকিত নই। বরং আমি ভাবতে থাকলাম মার্ক স্ট্রোম্যান সম্পর্কে, যে নয় বছর ধরে জেলখানায় তার মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিল। একত্রিশ বছর বয়সী এবং চার সন্তানের জনক এই লোকটি তো আমারই মতো আরেকজন মানুষ। সে একটা ভয়ংকর ভুল করেছিল। সে বিষয়ে কোনো তর্ক নেই। কিন্তু কোরআন খুব স্পষ্টভাবে বলছে, আমার মতো একটা পরিস্থিতিতে, আপনি ইচ্ছা করলে ন্যায় বিচার চাইতে পারেন, অথবা আপনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন, অথবা আপনি ক্ষমা করে দিতে পারেন। আর আপনি যদি তাকে ক্ষমা করে দেন তাহলে তার মানে হচ্ছে, সে ক্ষমাপ্রাপ্ত এবং জেলের মধ্যে তার সময় কাটানোর প্রয়োজন নেই। আমি তাকে ক্ষমা করে দিলে তার শাস্তি ভোগের কোনো কারণ থাকতে পারে না। এটাই ইসলামি শিক্ষা। সবচেয়ে বেশি যে যন্ত্রণা আমি পেতে পারতাম – সেই যন্ত্রণা আমি পেয়েছি। ওয়াকার আর বাসুদেবের বৌরা তাদের স্বামীকে হারিয়েছে। তাদের ছয়টি ছেলেমেয়ে কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু এখন মার্ক স্ট্রোম্যানকে হত্যা করে আমরা কি পাবো? কিছুই না। সুতরাং তাকে বাচাতেই হবে।”

মৃত্যুদণ্ড বিরোধী আন্দোলনের সূচনা
কিন্তু রইসের এই অভিযান ছিল প্রায় দুঃসাধ্য। তিনি বিনয়ী এবং কিছুটা মুখচোরা। তবে তার মুখে লেগে থাকে একটি আকর্ষণীয় লাজুক হাসি।
তিনি মানুষের মন জয় করতে কাজে লেগে গেলেন। ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করে রিসার্চ করতে থাকলেন। আন্দোলনের জন্য বিভিন্ন ফান্ড রেইজিং বা তহবিল সংগ্রহের কর্মসূচি শুরু করলেন। তিনি সারা দেশে একটা নেটওয়ার্ক তৈরিতে মনোযোগী হলেন।

তার এই নতুন চলার পথে হঠাৎ তার পরিচয় হলো একটি কৃশ্চিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের, সাদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটির, প্রফেসর রিক হ্যালপারিনের সঙ্গে। প্রফেসর হ্যালপারিন বহু বছর যাবৎ লড়াই করছিলেন টেক্সাসে মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার লক্ষ্যে। গত এক যুগে টেক্সাসের সহিংস ক্রাইম কমে গেলেও আমেরিকার এই অঙ্গরাজ্যে বছরে গড়ে ২৫টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের আধুনিক ইতিহাসে এটাই বছরওয়ারি সর্বোচ্চ সংখ্যা।

এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএ-র সাবেক চেয়ারম্যান হ্যালপারিনের সাহায্যে রইসের হজের প্রায় দেড় বছর পরে ১৬ মে ২০১১-তে ডালাস মর্নিং নিউজ পত্রিকায় একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় যার শিরোনাম ছিল : “বাংলাদেশ ইমিগ্রান্ট সিকস স্টে অফ একজিকিউশন ফর ম্যান হু শট হিম ইন ৯/১১ রিভেঞ্জ এটাক” (Bangladesh immigrant seeks stay of execution for man who shot him in 9/11 revenge attack, ৯/১১ প্রতিশোধ হামলায় গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট চায় হামলাকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে)।

এই রিপোর্টের কয়েকদিন পরে ডালাস মর্নিং নিউজে প্রকাশিত আরেকটি রিপোর্টে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে স্ট্রোম্যান যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আহ্বান জানান রইস। এই রিপোর্টে রইস বলেন, “আমি স্ট্রোম্যানকে কয়েক বছর আগেই ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি সে ছিল অজ্ঞ। ভালো ও মন্দের মধ্যে তফাৎটা সে বুঝতে পারতো না। যদি সে বুঝতো তাহলে এমন কাজ করতো না।… আমি বিশ্বাস করি স্ট্রোম্যানকে বাচিয়ে রাখলে, সময়ের বিবর্তনে এবং তার ম্যাচিওরিটিতে সে বুঝবে কোনো পরিস্থিতিতেই ঘৃণা শান্তিপূর্ণ সমাধান দিতে পারে না। যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে এই ঘটনার সুপ্রভাবে স্ট্রোম্যান হয়তো ক্রাইম ও পাপকে ঘৃণার একজন মুখপাত্র হতে পারে।”

ইন্টারন্যাশনাল সেলিবৃটি
কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই।
ঠিক দুই মাস পরেই ২০ জুলাই ২০১১-তে স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার শেডিউল ছিল।
ডালাস মর্নিং নিউজে পরপর দুটি রিপোর্টে রইসের ক্ষমার বাণী প্রকাশিত হবার পর আন্তর্জাতিকভাবে তাকে নিয়ে সাড়া পড়ে যায়।
আমেরিকা এবং ইওরোপে এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন টিভি রিপোর্ট, ইন্টারভিউ প্রকাশিত হয়। ব্লগে তার সম্পর্কে মিলিয়ন কথা লেখা হয়।
বাংলাদেশের রইস উদ্দিন ভূইয়া হয়ে যান ইন্টারন্যাশনাল সেলিব্রটি!
কিন্তু এই নতুন স্টেটাসে রইস আত্মপ্রসাদে আচ্ছন্ন হননি।
মৃত্যুমুখী রইস পুনর্জন্মে হয়েছিলেন জীবনমুখী।
তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন কিভাবে স্ট্রোম্যানের জীবন বাচানো সম্ভব?
সময় যে ফুরিয়ে যাচ্ছিল।
কোয়ার্টজ ঘড়ির কাটা নিঃশব্দে ঘুরছিল।
স্ট্রোম্যানের প্রাণদণ্ড কার্যকর করার দিন ক্রমেই এগিয়ে আসছিল।
রইস দৌড়াদৌড়ি করছিলেন স্ট্রোম্যানের উকিলদের কাছে। রাষ্ট্রীয় কর্মচারিদের কাছে। এমনেস্টির কর্মীদের কাছে।
কেউ তাকে আইনের শাসনের কথা শোনাচ্ছিলেন। কেউ তাকে লাল ফিতার দৌরাত্মের কথা বলছিলেন।

শেষ পর্যন্ত খুররম ওয়াহিদ নামে একজন এটর্নিকে তিনি খুজে পেলেন যিনি সর্বাত্মক সাহায্যে এগিয়ে আসতে রাজি হলেন। সাধারণত আমেরিকায় উকিলরা এটর্নি নামে পরিচিত।

ওয়াহিদ আর রইস যোগাযোগ করলেন মৃত্যুদণ্ড বিরোধী সংস্থা গ্রেইসের (Grace) সঙ্গে। তাদের সহায়তা ও উপদেশে ভিকটিম-এর (এক্ষেত্রে ভিকটিম ছিলেন রইস) অধিকারের ভিত্তিতে ওয়াহিদ আদালতে মামলা চালিয়ে যেতে থাকলেন।

তারা চাচ্ছিলেন টেক্সাসের গভর্নর রিক পেরি-র সাথে দেখা করে সবকিছু বুঝিয়ে বলতে। সেটা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত স্ট্রোম্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাতের অনুমতি পেতে। একবার তার সঙ্গে কথা বলতে। কিন্তু এ সব চেষ্টা বৃথা হয়।

শেষ সময়ে ফোনে কথা
হান্টসভিলে জেলে থেকে স্ট্রোম্যান সংবাদগুলো পাচ্ছিল।
শেষ মুহূর্তে রইস চেষ্টা করতে থাকেন সরাসরি হান্টসভিল জেলে স্ট্রোম্যানের সঙ্গে কথা বলতে।
রইস জেনেছিলেন আইলান জিভ নামে একজন ইসরেলি ডকুমেন্টারি মুভিমেকার স্ট্রোম্যান বিষয়ে দীর্ঘকাল যাবৎ রিসার্চ করেছেন এবং স্ট্রোম্যানের অন্তিম মুহূর্তে তিনি জেলখানায় তার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পেয়েছেন।
রইস ও তার টিম দ্রুত সংগ্রহ করেন জিভের মোবাইল ফোন নাম্বার।
রইস ফোন করেন জিভকে।

জিভ তাকে জানালেন, স্ট্রোম্যান তার বর্ণবাদি বিশ্বাস ও কর্মকান্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছে। বিশেষত রইস যে নিঃস্বার্থপরভাবে তাকে বাচানোর চেষ্টা করে চলেছে তাতে সে আবেগ আপ্লুত হয়েছে।
জিভ বলেন তিনি চেষ্টা করছেন, স্ট্রোম্যানের সঙ্গে স্পিকার ফোনে রইসের কথা বলিয়ে দিতে।
রইস ও তার উদগ্রীব এটর্নিরা অপেক্ষা করতে থাকেন।
তাদের দুজনার মধ্যে কথা হয়।
জিভ সেটা টেপ রেকর্ড করেন।

তাদের কথপোথনের কিছু অংশ :
দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক টানে স্ট্রোম্যান বলেন, “কেমন আছেন? আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন। থ্যাংক ইউ। আপনি আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন। আশার আলো দেখিয়েছেন। মন থেকে বলছি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, মিস্টার।”

রইস উত্তর দেন, “মার্ক, আপনি জেনে রাখেন, আমি গডের কাছে প্রার্থনা করে চলেছি। কারণ তিনি সবচেয়ে মহান। সবচেয়ে ক্ষমাপরায়ণ। তাকে বলেছি, আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং আমি আপনাকে ঘৃণা করি না। আমি কখনোই আপনাকে ঘৃণা করি নি…’’
“রইস, ওরা আমাকে ফোন ছেড়ে দিতে বলছে। আমি চেষ্টা করবো আবার ফোন করতে।”

ওদের লাইন কেটে যায়।
রইস খুব হতাশ হয়ে বলেন, “তাকে যে কেন আমি ক্ষমা করেছিলাম, সেটা বলার সুযোগ আমি পেলাম না। কিন্তু সেটা ছিল আসল কথা। সেই আসল কথাটা বলার চান্স আমি পেলাম না। এমনটা তো আমি চাই নি।”

রাত ৮:৫৩ মিনিটে বিষাক্ত ইনজেকশনে স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

ঘৃণা মুক্ত পৃথিবীর আন্দোলন
স্ট্রোম্যানের মৃত্যুর পর আরো বেশি মৃত্যুদণ্ড বিরোধী আন্দোলনের কাজে ঝাপিয়ে পড়েন রইস। আন্দোলনের অংশ রূপে ওয়ার্ল্ড উইদাউট হেইট (World Without Hate,  ঘৃণা মুক্ত পৃথিবী) নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় প্রতি উইকএন্ডে (সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন, শনি ও রবিবারে) রইস প্লেনে আমেরিকার এক শহর থেকে আরেক শহরে ভাষণ দিতে যেতে থাকেন। পাশাপাশি তিনি স্ট্রোম্যানের পরিবারকেও সাহায্য করতে থাকেন। অন্য দিকে নিহত ওয়াকার ও বাসুদেবের পরিবারকেও সাহায্য করতে থাকেন। হাজার হাজার ই-মেইলের উত্তর দেওয়া, মিডিয়া রিপোর্টারদের সঙ্গে কথা বলা, প্রভৃতিতে রইস ব্যস্ত থাকেন।

রইসউদ্দিন ভূইয়া প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট :
World Without Hate.org
(http://worldwithouthate.org)

স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার দুই মাস পরে একটি ইন্টারভিউতে রইস বলেন, “জীবনের চলার পথে মার্ক স্ট্রোম্যানের মতো অনেকেই আছে। আর আছে প্রচন্ড ঘৃণা- এই দেশে এবং বিশ্ব জুড়ে অন্য দেশেও। এটা হতে পারে যে আমার গায়ের রং, অথবা আমার ধর্ম, অথবা আমার উচ্চারণ আপনি পছন্দ করেন না। কিন্তু আমি নিরুপায়। আমি তো জন্মসূত্রে ওসব পেয়েছি। আমি তো ওসব বদলাতে পারবো না। তবে প্রতিটি মানুষেরই বোঝা উচিত কোনো ভিন্নতার কারণে পারস্পরিক ঘৃণা করা উচিত নয়। যদি আপনি সত্যিই ঘৃণা করতে চান, তাহলে ওই মনমানসিকতাকে ঘৃণা করুন।”

নিয়তির টানে
রইস এখন আইটি জবে লক্ষাধিক ডলার বেতন পাচ্ছেন। তিনি দ্বন্দ্বে পড়েছেন। এই ভালো চাকরিটা ছেড়ে ওয়ার্ল্ড উইদাউট হেইট বা ঘৃণা মুক্ত পৃথিবীর আন্দোলনে ফুলটাইম কাজ করবেন কিনা সেটা ভাবছেন। তিনি বলেন, “আমার নিয়তি আমাকে টানছে ঘৃণা মুক্ত পৃথিবীর দিকে।”
রইস এই মুহূর্তে জানেন না নিয়তি তাকে শেষ পর্যন্ত কোথায় টেনে নিয়ে যাবে।

ক্যাথরিন বিগেলো একজন খ্যাতনামা এবং সফল মুভিমেকার। রইসের জীবনী নির্ভর মুভি, দি টু্র আমেরিকান, যদি বক্স অফিস হিট হয় তাহলে তার ঘৃণা মুক্ত পৃথিবীর আন্দোলন বেগবান হবে।
বিশ্বে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা কমে আসবে।
হয়তো বাংলাদেশেও মৃত্যুদণ্ড রহিত হয়ে যাবে।
আমেরিকা প্রবাসী এক বাংলাদেশির নিয়তি বাংলাদেশকে মানবিকতা ও সভ্যতার দিকে টেনে নিয়ে যাবে।

(চলবে)
১২.১০.২০১৪
facebook.com/ShafikRehmanPresents

Comments

comments