জেএসসিতে কমেছে জিপিএ-৫

অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এবার সম্মিলিতভাবে পাসের হার ৯০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এবার সম্মিলিতভাবে পাসের হার ৯০ দশমিক ৪১ শতাংশ।অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এবার সম্মিলিতভাবে পাসের হার ৯০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত জেএসসি ও জেডিসিতে ২০ লাখ ৪১ হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৮ লাখ ৬২ হাজার ৩৮০ জন। গত বছরের তুলনায় গড় পাসের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০১৩ সালে গড় পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী সকালে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন।

আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত জেএসসিতে পাসের হার ৮৯ দশমিক ৮৫ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত জেডিসিতে ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। গত বছর জেএসসিতে পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৭১ ও জেডিসিতে ৯১ দশমিক ১১ শতাংশ।

এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ২৩৫ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল এক লাখ ৭২ হাজার ২০৮ জন। এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৫ হাজার ৯৭৩ জন।

এর মধ্যে জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৫ জন, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ হাজার ৫২ কম। জেডিসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯ হাজার ২৯০ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৭৯ বেশি।

এবার ঢাকা বোর্ডে সেরা ২০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শীর্ষ রয়েছে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ। গত বছরের সেরা ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ এবার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এবার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ। জেডিসিতে মাদ্রাসা বোর্ডে এবারও দেশ সেরা হয়েছে উত্তরার তানজীমুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসা।

এবারও বোর্ডগুলোতে শীর্ষ ২০ প্রতিষ্ঠান ও জেলার ১০ প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পাঁচটি মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিবন্ধিত প্রার্থীদের মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার পাসের হার, শতকরা পাসের হার, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও প্রতিষ্ঠানের গড় জিপিএ।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার দুই পরীক্ষায় মোট ২০ রাখ ৪১ হাজার ৪৭১ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে জেএসসিতে অংশগ্রহণ করেছে ১৭ লাখ ২৯ হাজার ৯৩১ জন, পাস করেছে ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৭ জন। জেডিসিতে তিন লাখ ১১ হাজার ৫৪০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে দুই লাখ ৯১ হাজার ৩০৫ জন।

শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে বরিশাল বোর্ড

আট বোর্ডের মধ্যে গত দুই বছরের মতো এবারও শীর্ষে রয়েছে বরিশাল বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত দুই বছরের মতো যথারীতি সবার নিচে রয়েছে চট্টগ্রাম বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৮৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ ছাড়া অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৮৫ দশমিক ৩৬, রাজশাহী ৯৫ দশমিক ৩২, কুমিল্লা ৯৩ দশমিক ৭৫, যশোর ৯১ দশমিক ৯৬, সিলেট ৯১ দশমিক ৫৭ ও দিনাজপুর ৯০ দশমিক ১০ শতাংশ।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে ঢাকা বোর্ড

গত বছরের তুলনায় সংখ্যা কমলেও বরাবরের মতো এবারও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে সব বোর্ডের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বোর্ড। ঢাকা বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ১৮৮ জন। গত বছর ঢাকা বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৫ হাজার ২২৩ জন।

গত কয়েক বছরের মতো সর্বনিম্নে রয়েছে সিলেট বোর্ড। এ বোর্ডে চার হাজার ১০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ২৩ হাজার ৬০৬, কুমিল্লা বোর্ডে ১৭ হাজার ২৬৪, যশোর বোর্ডে ১০ হাজার ৬৮৫, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১০ হাজার ৪৮৭ ও বরিশাল বোর্ডে ১০ হাজার ২৮৫ ও দিনাজপুর বোর্ডে ১৪ হাজার ৪২০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পাসের হারে ছাত্র ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছাত্রীরা এগিয়ে

এবার জেএসসি-জেডিসিতে পাসের হারে ছাত্র ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র নয় লাখ ৬৫ হাজার ৪১৮ জন ছাত্রী ১০ লাখ ৭৬ হাজার ৫৩ জন। ছেলেরা পাস করেছে আট লাখ ৭৬ হাজার ৫৪৭ জন, পাসের হার ৯০ দশমিক ৭৯। মেয়েরা পাস করেছে নয় লাখ ৬৯ হাজার ১৮৫ জন, পাসের হার ৯০ দশমিক ০৭ শতাংশ।

ছেলেরা জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭১ হাজার ৫০৮ জন ও মেয়েরা পেয়েছে ৮৪ হাজার ৭২৭ জন।

যেভাবে পাওয়া যাবে পরীক্ষার ফল

মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট সকল পরীক্ষা কেন্দ্র/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল/ওয়েব মেইল) এবং এসএমএসের মাধ্যমে একযোগে প্রকাশ করা হয়।

পরীক্ষার ফল নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে সংগ্রহ করার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীরা মোবাইলে এসএসএম, শিক্ষাবোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটের www.educationboardresults.gov.bd এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবে।

মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমেও ফল পেতে যে কোনো মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে JSC/JDC লিখে একটি স্পেস দিয়ে নিজ বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও পাসের বছর (২০১৪) লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।

হরতালের কারণে এ বছর পূর্বনির্ধারিত ২ নভেম্বরের পরিবর্তে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয় ৭ নভেম্বর। পরীক্ষা শেষ হয় ২০ নভেম্বর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *