জিম্বাবুয়ের জয় ছিনতাই, কলংকিত আম্পায়ারিং
খেলা

জিম্বাবুয়ের জয় ছিনতাই, কলংকিত আম্পায়ারিং

জিম্বাবুয়ের জয় ছিনতাই, কলংকিত আম্পায়ারিংচট্টগ্রামে কলংকিত আম্পায়ারিংয়ে জিম্বাবুয়ের জয় ছিনতাই করে ২ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

ম্যাচ জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনাল। শর্তটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে দুদলই জানত। পেন্ডুলামের মতো দুলছিল ম্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়া ২২৭ রানের টুকটাক করে এগিয়ে যাচ্ছিল জিম্বাবুয়ে।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ম্যাচটা গড়াচ্ছিল টান টান উত্তেজনাকর সমাপ্তির দিকে।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের দরকার ছিল ৩ রান। হাতে এক উইকেট। তখনই ঘটে ন্যাক্কারজনক কাজটি। ক্রিকেটীয় চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে জিম্বাবুয়ের অবশ্যাম্ভাবী জয়টা চুরি করে ফেললো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ ওভার করতে এসে নন স্ট্রাইকে থাকা জিম্বাবুয়ের নারাভার ব্যাট পপিং ক্রিজের বাইরে ছিল। বোলার বল না করে রানআউট করে দিলেন নারাভাকে। নীতি বিরোধী হলেও নিয়ম থাকায় আউটের আবেদনে সাড়া দিতে হয় আম্পায়ারদের। রীতিমতো অসদুপায়ে জিম্বাবুয়েকে কাঁদিয়ে ম্যাচ জিতে নিল উইন্ডিজরা। বাজে নজির স্থাপন করে জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ২ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২২৬ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব দল। জবাবে ৪৯ ওভারে ২২৪ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে যুব দল। ক্যারিবিয়ান পেসার জোসফ ম্যাচ সেরা হন।

ম্যাচ শেষে মাঠে উপস্থিত সবাই অনৈতিক আউটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক হেটমায়ারও পুরস্কার বিতরনী ম্যাচে স্বীকার করেছেন নিজেদের নীতি বিবর্জিত কাজ।

তারপরও ম্যাচ জিতে শেষ আটে উঠতে পেরে খুশি ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। অন্যদিকে অশ্রুসজল নেত্রে মাঠ ত্যাগ করেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক মাভুতা। পুরস্কার বিতরনীতে দুই লাইনের বেশি কথাই বলতে পারেননি তিনি।‘সি’গ্রুপ থেকে শেষ আটে উঠল ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

২২৭ রানের টার্গেটে জিম্বাবুয়েকে টিকিয়ে রেখেছিল ওপেনার স্নাইডারের হাফ সেঞ্চুরি ও মিডল অর্ডারের কয়েকটি ছোট ছোট ইনিংস। স্নাইডার ৫২ রান করেন। ইভস ৩৭, মাশিঙ্গে ২৩, কিফি ৪৩, মাডেভেরে ২১ রান করেন। মাটিগিমু অপরাজিত থাকেন ১০ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোসেফ ৪টি, স্প্রিংগার ২টি করে উইকেট নেন।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলের সবাই কম- বেশি রান পেয়েছেন। শামার স্প্রিংগার ছাড়া কেউ ইনিংস বড় করতে পারেননি। তাই তো সম্ভাবনা জাগিয়েও বড় স্কোর পায়নি ক্যারিবিয়ানরা। স্প্রিংগার ৬১ রান করেন। ওপেনার পোপ ৩০, ইমলাক ৩১ রান করেন। অধিনায়ক হেটমায়ার ১৭, গুলি ১২, পল ১৪, জন অপরাজিত ১৬, স্মিথ অপরাজিত ১৬ রান করেন। জিম্বাবুয়ের মাগারিরা ৩টি, মাডেভেরে ২টি করে উইকেট নেন।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে হেসেখেলই নামিবিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। মঙ্গলবার কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নামিবিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

এই জয়ে ‘এ’ গ্রুপের সেরা দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হলো বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সবকটিতেই জিতল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ শেষ আটের ম্যাচে ৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে নেপালের মুখোমুখি হবে। বাংলাদেশের কাছে হেরে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়েছে নামিবিয়া। ৬ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হবে দলটি।

প্রথমে ব্যাট করে ৩২.৫ ওভারে ৬৫ রানে অলআউট হয়েছে নামিবিয়ার যুবদল। জবাবে ১৬ ওভারে ২ উইকেটে ৬৬ রান তুলে ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশের যুবারা। ২০৪ বল আগে আসা জয়ে ম্যাচ সেরা হন বাংলাদেশের সালেহ আহমেদ শাওন।

৬৬ রানের টার্গেটটা মামুলিই ছিল স্বাগতিকদের জন্য। যদিও ১৩ রানের মধ্যে সাজঘরে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। পিনাক শূন্য, সাইফ হাসান ৮ রান করেন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে জয়রাজ শেখ ও নাজমুল হোসেন শান্ত আর বিপদ হতে দেননি। ৫৩ রানের জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন তারা। জয়রাজ শেখ ৫টি চারে অপরাজিত ৩৪ রান করেন। নাজমুল অপরাজিত ছিলেন ১৪ রানে। নামিবিয়ার কোয়েটজি ২টি উইকেট পান।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাওয়া জয়ে দারুণ উজ্জীবিত নামিবিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল টসজয়ী বাংলাদেশ। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। বাংলাদেশের যুবাদের বোলিং তোপে রীতিমতো নাকের জল- চোখের জল এক হয়ে যাবার যোগাড় হয় নামিবিয়া যুবদলের। বাংলাদেশের স্পিন তোপে কূল খুঁজে পায়নি নামিবিয়ার ব্যাটসম্যানরা। সালেহ আহমেদ শাওন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও আরিফুল ইসলামরা ধসিয়ে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইন। গোটা ইনিংসে দুঅংকের ঘর স্পর্শ করেছেন দুজন ব্যাটসম্যান। ওপেনার নিকো ডেভিন ১৯ ও লোহান লাউরেন্স ১৭ রান করেন। বাকি সবাই উইকেটে আসা যাওয়ার মাঝেই ব্যস্ত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে স্পিনার সালেহ আহমেদ শাওন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও আরিফুল ইসলাম ২টি করে উইকেট নেন। সাইফুদ্দিন ও সাঈদ সরকার পান ১টি করে উইকেট।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *