জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টানা পঞ্চম সিরিজ জয় বাংলাদেশের
খেলা

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টানা পঞ্চম সিরিজ জয় বাংলাদেশের

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টানা পঞ্চম সিরিজ জয় বাংলাদেশেরপ্রথম ম্যাচের তুলনায় কিছুটা কন্টকাকীর্ণ ছিল বটে। হালকা কুয়াশাম্লান সোমবারের সন্ধ্যা রাতে শেষ পর্যন্ত আনন্দচিত্তেই প্রত্যাশিত, কাঙ্খিত গন্তব্যেই পৌঁছেছে বাংলাদেশ। মিরপুরে প্রাণ আপ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৫৮ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে একম্যাচ বাকি থাকতেই ২-০ তে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল মাশরাফির দল।

ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এটি বাংলাদেশের ২০তম সিরিজ জয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯ম সিরিজ জয়। আর তার চেয়ে বৃহৎ পরিধিতে ঠাঁই পেয়েছে এই সাফল্য। টানা পঞ্চম ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ইতিহাসে টানা পাঁচ সিরিজ জয়ের কীর্তি আছে দক্ষিণ আফ্রিকা (২বার) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেই অভিজাত তালিকায় অবস্থান পেল মাশরাফির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। অবশ্য টানা দশ, নয় ও ছয় সিরিজ জয়ের রেকর্ডও আছে ওয়ানডে ইতিহাসে। শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া দশটি জিতে। পরে টানা নয়, ছয় সিরিজ জয়ের তালিকায় আছে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ডও।

অতীতে ২০০৬-০৭ ও ২০০৮-৯ সালে টানা চার সিরিজ জয়ের রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৪১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৪৩.২ ওভারে ১৮৩ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ম্যাচ সেরা হন ইমরুল কায়েস।

মিরপুরের স্লো উইকেটে ২৪২ রান তাড়া করতে নামা জিম্বাবুয়েও বারবার হোঁচট খেয়েছে। উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টায় সফলতা পেয়েছেন শুধু চিগুম্বুরা ও সিকান্দার রাজা। পঞ্চম উইকেটে তারা দুজনই মূল প্রতিরোধ গড়েছিলেন। ম্যাচে জিইয়ে রেখেছিলেন জিম্বাবুয়ের সম্ভাবনা। তারা ৭৩ রানের জুটি গড়েছিলেন। তাদের বিদায়ের পরই বলা চলে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে সফরকারীরা।

আল-আমিনের জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ। দলীয় ১৫১ রানে সিকান্দার রাজাকে ক্যাচ দেন ইমরুলের হাতে। তিনি ৩৩ রান করেন। ৫ রান পর চিগুম্বুরা ইমরুলের হাতে ধরা পড়েন। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ৪৭ রান করেন। তবে জিম্বাবুয়ের ওপেনিং জুটি ভেঙেছিলেন আরাফাত সানি। পঞ্চম ওভারে চাকাভা ১ রান করে এলবির ফাঁদে পড়েন। ষষ্ঠ ওভারেই মাশরাফি বোল্ড করেন চিবাবাকে (১৪)। দলীয় ৪৫ রানে সিরিজে মুস্তাফিজের প্রথম শিকার হন শন উইলিয়ামস (১৪)।

আরভিন (২৬) রান আউট হলে ৭৮ রানে চার উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। চিগুম্বুরা-সিকান্দার ফেরার পর নাসির, মুস্তাফিজ মিলে মুড়িয়ে দিয়েছেন সফরকারীদের ব্যাটিং লেজ। মুস্তাফিজ ৩টি, নাসির ও আল-আমিন ২টি করে উইকেট নেন।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন গোটা ইনিংসের কখনোই সেভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। সাকিব বিহীন বাংলাদেশ বড় জুটি গড়তে সমর্থ হয়নি। সর্বোচ্চ চল্লিশোর্ধ্ব দুটি জুটি হয়েছে। ত্রিশোর্ধ্ব জুটি হয়েছে চারটি। যার প্রতিফলনটাও দৃশ্যমান ছিল গোটা ইনিংসে। বিশ্বকাপের পরই ফিরে প্রথম ওয়ানডে খেলা ইমরুল কায়েস ক্যারিয়ারের ১১তম হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। ইনিংসের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিয়ানও এই বাঁহাতি।

তবে আক্ষেপ আছে তারও। সেট হয়েও ইনিংস লম্বা করতে পারেন নি তিনি। ক্ষণিকের উত্তেজনায় ৭৬ রানেই থেমেছে তার ইনিংস। ৮৯ বলের ইনিংসে ৬টি চার ও ৪টি ছয় মেরেছেন তিনি। শন উইলিয়ামসের করা ৩২তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই বড় ছক্কা মেরেছিলেন। পরের বলেই আবার ছক্কা মারতে গিয়ে ধরা পড়লেন লং অনে।

তামিমের সঙ্গে তার ওপেনিং জুটি অবশ্য বিচ্ছিন্ন হয়েছিল ৩২ রানে। তামিম ১৯ রান করে ফিরেন। আবারও অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হন লিটন দাস (৭)। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আগের মতোই উইকেট ছুঁড়ে এসেছেন। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে ক্রেমারের নীরিহ বলটা থার্ড ম্যানে পাঠাতে গিয়ে চাকাভার হাতে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহ (৪)। ইমরুল-মুশফিকের চতুর্থ উইকেট জুটি ৪৮ রান যোগ করে। আস্থার প্রতীক মুশফিক ২১ রান করে ক্রেমারের শিকার হন।

সাব্বির-নাসিরের জুটিটাও প্রায় জমে গিয়েছিল। খোলস ছাড়িয়ে ক্রমশ আক্রমণে যাওয়ার সময়টাতেই সাব্বির উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। তিনি ৩৩ রান করেন। শেষ দিকে নাসিরের ৪১ রানে লড়াইয়ের পুুঁজি পায় বাংলাদেশ। মাশরাফি ১৩ রান করেন। জিম্বাবুয়ের পানিয়াঙ্গারা ৩টি, মুজারাবানি ২টি করে উইকেট নেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *