পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ‘বাংলাওয়াশ’ করল টাইগাররা।
খেলা

জিম্বাবুয়েকে বাংলাওয়াশ করলো টাইগাররা

পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ‘বাংলাওয়াশ’ করল টাইগাররা।পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ‘বাংলাওয়াশ’ করল টাইগাররা।

সান্ত্বনার জয় হলো না, একেবারে রিক্ত হস্তেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে জিম্বাবুয়েকে।

টেস্ট সিরিজে স্বাগতিক বাংলাদেশের কাছে চূর্ণ হওয়ার পর ওয়ানডে ক্রিকেটেও ভাগ্য ফেরাতে পারলো না এলটন চিগম্বুরা বাহিনী। বরং ভিন্ন আঙ্গিকের দুই ফরম্যাটে টাইগারদের কাছে টানা আট হারের লজ্জায় আরো নীল হ্যামিল্টন মাসাকাদজা-ব্রেন্ডন টেলররা। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হারার পর ওয়ানডেতেও বাংলাওয়াশের শিকার জিম্বাবুয়ে। এবার ব্যাবধানটা আরো বড়, ৫-০।

জিম্বাবুয়ের গড়া মাত্র ১২৮ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশকেও ৫ উইকেট হারাতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দৃঢ়তায় লো স্কোরিং ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৫ উইকেটের ব্যবধানে। ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন রিয়াদ। এছাড়া তার সঙ্গে ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে সঙ্গ দেন ১৩ রান করা সাব্বির রহমান। ২০ রান করেন সৌম্য সরকার।

গোটা সিরিজে নখদন্তহীন ক্রিকেট খেলা জিম্বাবুয়ে যে আরেকটি হোয়াইটওয়াশের শিকার হচ্ছে তা মিরপুরের সোমবার বিকেলেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। যখন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩০ ওভারেই সব প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে সফরকারীদের। আর জিম্বাবুয়ের ইনিংস থামে মাত্র ১২৮ রানেই।

অথচ দিনের শুরুটা ভিন্ন কিছুর আভাস দিচ্ছিলো। দলটি ৪.৫ ওভারে ১৬ রানে প্রথম উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে ঝড় ওঠানোর বিপদ সংকেত দিচ্ছিলো। ভয়ংকর হয়ে উঠছিল হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ভুসি সিবান্দার দ্বিতীয় উইকেট জুটি। শেষ পর্যন্ত ৭৯ রান করে বিচ্ছিন্ন হন তারা দু’জন।

হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে ব্যক্তিগত ৫২ রানে বোল্ড করার মাধ্যমে জিম্বাবুইয়ানদের প্রতিরোধ ভাঙেন নবাগত লেগ স্পিনার জুবায়ের। এরপর ২১ ওভারের তৃতীয় বলে সাকিব ব্রেন্ডন টেলরকে (৯) সাজঘরে ফেরালে মড়ক লাগে জিম্বাবুয়ে ইনিংসে। অভিষিক্ত স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসানের রূদ্রমূর্তির সামনে মাত্র ২০ রানের ব্যবধানে শেষের ৭ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

শেষ পর্যন্ত সফরকারীরা অলআউট হয় মাত্র ১২৮ রানেই, ৩০ ওভার খেলে। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেছেন মাসাকাদজা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান এসেছে ভুসি সিবান্দার ব্যাটে। এছাড়া বাকি নয় ব্যাটসম্যানের আর কেউ দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।  বাংলাদেশের পক্ষে তাইজুল ইসলাম ১১ রানে চারটি উইকেট শিকার করেন,  গড়েন অভিষেকেই হ্যাটট্রিকের বিশ্বরেকর্ড। তিনটি উইকেট পেয়েছেন সাকিব।

তবে ১২৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের জয়টা যেমন দাপুটে হওয়া উচিৎ ছিল তা হয়নি। খুনে মেজাজ ও আগ্রাসী মনোভাবের কারণে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে তামিম ইকবালের আউটের মাধ্যমে ব্যাটসম্যানদের আত্মহত্যার মিছিল শুরু।

ব্যক্তিগত ১০ রান করে তিনাশে পানিয়াঙ্গারার শিকার হন তিনি। এরপর দ্রুত ফিরেছেন এনামুল হক (৮), সৌম্য সরকার (২০) ও সাকিব আল হাসান (০)। যার ফলে এক পর্যায়ে ১২.২ ওভারে ৫৮ রানেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। অবশ্য পঞ্চম উইকেটে গিয়ে দৃশ্যপটের পরিবর্তন আসে।

চতুর্থ ওয়ানডের ম্যাচসেরা রিয়াদ আবারো প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। আর রিয়াদকে আবারো যোগ্য সঙ্গত দেন মুশফিক। তাতে পাঁচ উইকেটের আনায়াস জয় পায় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেছেন মাহমুদুল্লাহ। জিম্বাবুয়ের তিনাশে পানিয়াঙ্গারা ও তেনদাই চাতারা দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *