জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৬ দশমিক ২ শতাংশ

২০১৫ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি হবে ৭ শতাংশ

২০১৫ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি হবে ৭ শতাংশবিশ্বব্যাংক বলছে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি হবে ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইউহানেস জাট। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। এছাড়া অর্থনীতিবিদ সালমান জাইদি, রিসার্স এ্যানালিস্ট নাদিম রিজওয়ান ও যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহরীন এ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইউহানেস জাট তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বব্যাংক বর্তমানে ইবোলা ভাইরাস আক্রান্ত দেশগুলোকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দেবে। তাছাড়া আগামীতে বিশ্বব্যাপী অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন গ্যাপ কীভাবে কমানো যায় ও জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান কীভাবে করা যায় সে জন্য ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্রাটেজি তৈরি করা হচ্ছে।

সংস্থাটি এর প্রতিবেদনে বলেছে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ হওয়ার কারণ হচ্ছে- সরকারিভাবে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রেমিটেন্স বৃদ্ধি ও বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমা। ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত এ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হবে ২ শতাংশ, শিল্প খাতে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

ব্যয়ের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ভোগ বেড়ে দাঁড়াবে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। বিনিয়োগ হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, রপ্তানি ৬ শতাংশ ও আমদানি ২ শতাংশ হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে মূল্যস্ফীতি হবে ৭ শতাংশ, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি সঠিক পথেই আছে। বলা হয়েছে প্রথম তিন মাসে রেমিটেন্স খাতে ২১ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, এটি সন্তোষজনক। রোজা ও কোরবানীর ঈদের কারণে অভ্যন্তরীন খুচরা ব্যয় বেড়েছে। ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দুই ঈদে মানুষ ব্যয় করেছে। বন্যা হওয়ার পরও শস্য উৎপাদন ভাল। জুলাই- আগস্ট মাস পর্যন্ত এনবিআরের ১৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় ভাল লক্ষণ।

এছাড়া, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৪ শতাংশ হওয়াটা দুর্বলতার লক্ষণ বলে মনে করছে সংস্থাটি। এ কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রথম তিন মাসে কমেছে। বেড়েছে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট। এজন্য এডিপি বাস্তবায়ন হারও কম।

২০১৫ সালে সার্বিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ব্যাংক ঋণের বেশিমাত্রার সুদের হার ও লক্ষমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আবার ফিরে আসলে বিনিয়োগ কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। পোশাকখাতের ঝুকি ও মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক।

এডিপি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেমন, পদ্মা সেতু, ঢাকা-চট্রগ্রাম এবং ঢাকা- ময়মনসিংহ হাইওয়ে, ডাবল ট্রাক অব ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে, মেট্রোরেল, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড দ্রুত বাস্তবায়নে তাগিদ দেয় সংস্থাটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *