এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকারগুলোকে অতিরিক্ত তিন বিলিয়ন ডলারের তহবিল দেয়ার ঘোষণা এসেছে।
আন্তর্জাতিক

শরণার্থীদের জন্য জার্মানির মানবিকতার দৃষ্টান্ত

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকারগুলোকে অতিরিক্ত তিন বিলিয়ন ডলারের তহবিল দেয়ার ঘোষণা এসেছে।জার্মনিতে রেকর্ড পরিমাণ শরণার্থী প্রবেশের ফলে সৃষ্ট সঙ্কট সামাল দিতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে জার্মান সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকারগুলোকে অতিরিক্ত তিন বিলিয়ন ডলারের তহবিল দেয়ার ঘোষণা এসেছে।

এছাড়া আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন দ্রুত বিবেচনা করা, আশ্রয় প্রাপ্তদের বাসস্থান এবং নগদ সহায়তা দেয়ারও উল্লেখ রয়েছে এসব উদ্যোগে। জোট সরকারের অংশীদারদের সঙ্গে মের্কেলের ৫ ঘণ্টা ব্যাপী এক বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দিয়েছেন চ্যান্সেলর চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল। গত এক সপ্তাহে দেশটিতে আঠারো হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রবেশ করেছে। মিউনিখ স্টেশনে অভিবাসীদের আগমন এখনো বন্ধ হয়নি।

সোমবার আরও ১১ হাজার শরণার্থীর জার্মানিতে ঢুকতে পারেন। অন্য দিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দে জানিয়েছেন, ২৪ হাজার শরণার্থীকে জায়গা দেওয়া হবে। এর মধ্যেই ভ্যাটিকান থেকে পোপ ফ্রান্সিস ক্যাথলিক পরিবার, নানা চার্চ ও ধর্মীর প্রতিষ্ঠানগুলিকে শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে বলেছেন। সব মিলিয়ে ইউরোপে শরণার্থীর সংখ্যা সাড়ে তিন লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আর কত?

শরণার্থীদের নিয়ে রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে কোনো ফল মেলেনি। জার্মানি ও ফ্রান্স শরণার্থীদের নিয়ে কোটা ব্যবস্থা চালু করতে চাইলেও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলি রাজি হয়নি। ইউরোপের দক্ষিণপন্থী দলগুলি এই বিপুল শরণার্থীর চাপের বিরুদ্ধে প্রচার করতে শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, ছোট্ট আয়লানের মৃত্যুকে ব্যবহার করে ইউরোপের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, জর্ডন, লেবানন, তুরস্কের মতো দেশ শরণার্থীর চাপে হাঁসফাঁস করলেও সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব-আমীরশাহির মতো দেশ এই শরণার্থীদের নিয়ে কিছুই করছে না। এ বিষয়ে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? পাশাপাশি, নানা সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে শরণার্থীদের মধ্যে আর্থিক ভাবে এগিয়ে থাকা শ্রেণির মানুষের সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। গ্রিস থেকে সার্বিয়া, হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া হয়ে পশ্চিম ইউরোপের পথটি মুক্ত হয়ে যাওয়ায় পরে এই ধরনের শরণার্থীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই পথটি লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে ঢোকার থেকে নিরাপদ হওয়ায় এবং ইউরোপ আপাতত দরজা খুলে দেওয়ায় আরও শরণার্থী আসবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ক’দিনের মধ্যেই প্রায় চার হাজার শরণার্থীকে নিয়ে বেশ কিছু নৌকা গ্রিসে পৌঁছবে বলে খবর। ফলে চাপ আরও বাড়বে বই কমবে না।

শরণার্থীদের নিয়ে দোলাচলে ভুগছে ইউরোপের বেশ কিছু দেশ, যেমন হাঙ্গেরি। হাঙ্গেরির দক্ষিণপন্থী সরকার এমনিতে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওর্বানের মতে, মুসলিম শরণার্থীদের এই স্রোত খ্রিস্টীয় মূল্যবোধের উপরে প্রভাব ফেলবে। তাই প্রথম দিকে শরণার্থী ভরা ট্রেন আটকে দিয়েছিল হাঙ্গেরির প্রশাসন। পরে তা ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এর মধ্যেই সার্বিয়া ও হাঙ্গেরি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে হাঙ্গেরি। সেখানে শরণার্থীদের রাখার জন্য আলাদা ক্যাম্প করা হয়েছে, যেমন রোজকে শহরে। কুকুর সঙ্গে নিয়ে সশস্ত্র পুলিশ সেই সব ক্যাম্প পাহারা দিচ্ছে। সাংবাদিকদের ক্যাম্পের কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই ব্যবস্থাকে অমানবিক আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু উত্তরে অস্ট্রিয়ার সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছে হাঙ্গেরি। রেলপথের পাশাপাশি অস্ট্রিয়া থেকে প্রায় ১০০টি গাড়ি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের একটি দল বুদাপেস্ট এসেছে। তারা সরাসরি শরণার্থীদের অস্ট্রিয়া নিয়ে যাচ্ছেন। এটি আইনবিরুদ্ধ বলে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি হাঙ্গেরির প্রশাসন।

পাশাপাশি, দুর্নীতির অভিযোগও উঠছে। যেমন, অর্থের বিনিময়ে শরণার্থীদের সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *