জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো ৩১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

ঢাকার লালবাগ, নাটোর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এই চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়ার ফলে জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে ৩১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

ঢাকার লালবাগ, নাটোর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এই চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়ার ফলে জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে ৩১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো নতুন চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপকেন্দ্রগুলোর উদ্বোধন করেন। এ সময় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকার লালবাগ, নাটোর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এই চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়ার ফলে জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে ৩১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

নাটোরে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ৫২ দশমিক দুই মেগাওয়াট, নারায়ণগঞ্জের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১০২ মেগাওয়াট, মুন্সীগঞ্জের ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট।

এ ছাড়া ঢাকার ১০৮ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চলবে গ্যাসভিত্তিক।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বেশি থাকলেই বেশি ব্যবহার ঠিক নয়। কম বিদ্যুৎ ব্যবহারে অর্থ ব্যয় কম হয়। এতে সাধারণ মানুষের সুবিধাই নিশ্চিত হয়।’

রোববার ৩১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন করে চারটি কেন্দ্র উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। তিনি গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নাটোর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ঘোড়াশালের এই চারটি কেন্দ্র একযোগে উদ্বোধন করেন।

বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ আজ ১৩,২৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। অদূর ভবিষ্যতে মোট উৎপাদন ১৯,৬৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।’

তিনি বলেন, তার সরকার সৌর বিদ্যুতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ওপরও দেওয়া হচ্ছে বিশেষ জোর।

এছাড়া পরমাণুভিত্তিক ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পর্যায়ক্রমে এই খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রথমে ২০০০ মেগাওয়াট পরে ৪০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বাড়ানো হবে।

ভারত থেকে এরই মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আরো ৫০০ মেগাওয়াট আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আগরতলা থেকে পাওয়া যাবে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

এই উপমহাদেশে অন্য দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাংলাদেশই প্রথম শুরু করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর অনেক প্রকল্প হাতে নিলেও বিএনপি সব বন্ধ করে দেয়। এর পরিবর্তে তারা বিদ্যুতের খাম্বা লিমিটেড গড়ে তোলে। আমরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে আবার অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।

দেশে মোট ৬৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো করতে গিয়ে সরকারকে নানামুখী সমালোচনায় পড়তে হয়েছে।

সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এর একেকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সঠিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে কত কর্মযজ্ঞ চালাতে হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তেলো মাথায় তেল দিতে আসেনি। শহরে যারা ভালো আছে তাদের আরো ভালো থাকার সুযোগ করে দিতে নয় বরং গ্রামাঞ্চলে যারা সুবিধা বঞ্চিত তাদের সুবিধা নিশ্চিত করতেই কাজ করছে।

তিনি বলেন, আমরা সারা দেশের উন্নয়ন চাই। গ্রামের মানুষ যাতে ভালো থাকে তাদের জীবন মান ভালো হয় সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে টকশো করে যারা সরকারের সমালোচনা করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সরকার যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে তা ব্যবহার করে এসি রুমে বসে এসব সমালোচনা করা হচ্ছে। আমরা কাজ করছি বলেই আমাদের সমালোচনা হচ্ছে। এটা ভালো।’

এ প্রসঙ্গে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্ধৃতি উল্লেখ করেন, ‘যে গাছ ফল দেয় সে গাছে ঢিল পড়ে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *