President-Ziaur-Rahman’s-UN-speech

জাতিসংঘে শহীদ জিয়ার সেই ঐতিহাসিক ভাষন

আমি সুনির্দিষ্ট কতগুলো ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে চাই। আমি মনে করি এগুলো দক্ষিণের বিশেষ করে এর দরিদ্রতম দেশগুলোর বর্তমান সমস্যাবলীর সমাধানে বিশেষ সহায়ক হবে। এগুলো হচ্ছে :

(১) একটি নতুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় উত্তরের জনমত সংগঠনের ব্যাপারে দক্ষিণ সম্ভাব্য সকল সহযোগিতার ব্যবস্থা করবে।

(২) পরিকল্পিত অর্থনীতিভিত্তিক দেশগুলোসহ সকল শিল্পোন্নত…., সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলোর প্রতি তাদের সরকারী উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ অবিলম্বে দ্বিগুণ করবে এবং এ ধরণের সব সহায়তা শর্তমুক্ত হবে।

(৩) ওপেক দেশসমূহ সবচেয়ে অনুন্নত দেশসমূহের জন্যে তেলের মূল্য শতকরা পঞ্চাশ ভাগ হ্রাসের ব্যবস্থা করবে।

(৪) সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলো জ্বলানি শক্তি সম্পদ উন্নয়নের জন্যে একটি আন্তর্জাতিক কনসর্টিয়াম গঠন করতে হবে।

(৫) ওপেক দেশগুলো, উন্নত দেশগুলোর সম্ভাব্য সহযোগিতায়, তাদের সম্পদের একটা অংশ উন্নয়নকামী দেশগুলোতে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করবে।

(৬) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অস্ত্র ব্যয়ের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে সম্পদের ব্যাপক হস্তান্তরে ব্যবস্থা করতে হবে।

(৭) উত্তরের অর্থনীতিতে দক্ষিণের জনশক্তি বর্তমানে যে বাস্তব অবদান রাখছে, সেজন্যে উত্তরের এ ব্যাপারে দক্ষিণকে যথাযথ প্রতিদানের ব্যবস্থা করা উচিত।

(৮) বহুজাতি সংস্থাসমূহের ওপর বিশেষ করে ধার্য করা উচিত এবং দক্ষিণের দরিদ্র দেশগুলোর সাহায্যের জন্যে অতি ধনী দেশগুলোরও উচিত একটি বিশেষ কর দেয়া।

(৯) উন্নয়নকামী দেশসমূহের স্বার্থেই জাতিসংঘ এর অধীনস্থ বিভিন্ন বিশেষ সংস্থা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্ব ব্যাংককে সম্পূর্ণ পুনর্বিন্যস্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলোর জন্য গৃহীত কর্মপন্থা কার্যক্রমের বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান গঠনেরও ব্যবস্থা নিতে হবে।

(১০) সার্বজনীন সদস্য পদের ব্যবস্থাসহ একটি বিশ্ব উন্নয়ন তহবিল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিশ্বব্যাপী কর আরোপের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ এই তহবিলে জমা হবে এবং এই অর্থের যথাযথ বরাদ্ধ ও ব্যবহার হবে এর দায়িত্ব।

আমাদের নিকট ও দূরবর্তী এলাকায় বিদেশী সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে উদ্ভূত অবনতিশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আজকে জাতীয় উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতার জন্যে প্রচেষ্টা কেন্দ্রীভূত করার প্রয়োজন অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। এর প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ সম্প্রতি দক্ষিণ এশীয় দেশগুলির একটি শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা দেখছি যে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে যখন আঞ্চলিক সহযোগিতার বাস্তব রূপ নিয়ে সাফল্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে তখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ের সহযোগিতা গড়ে তোলার কোন আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো হয়নি। আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হবে পরস্পর মিলিত হওয়া এবং এই অঞ্চলের সব দেশের পাস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহ খুঁজে বের করা। আমরা দেখেছি, বিশ্বের অন্যান্য অংশে কেমন করে এই আঞ্চলিক সহযোগিতা উত্তেজনা প্রশমনে এবং অভিন্ন স্বার্থে তাদের বিরোধী পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গী নমনীয় করে তুলতে সহায়ক হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় অনুরূপ উদ্যোগ গ্রহণের এইটাই হচ্ছে উপযুক্ত সময়।

আমার মনে হয়, আমি আমার হৃদয়ের বেদনা ও যন্ত্রণার অনুভূতি কিছুটা ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। আমার বিশ্বাস, এখানে উপস্থিত সম্মানিত প্রতিনিধিবৃন্দের অনেকেই অনুরূপ মর্মবেদনায় পীড়িত হচ্ছেন। আমি জনাব ব্রান্ডেটের কথারই পুনরাবৃত্তি করে বলতে পারি, আমাদের অভিন্ন ভবিষ্যত রচনার কাজটি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে সেটা কেবল সরকার এবং বিশেষজ্ঞদের হাতে ছেড়ে দেয়া যায় না। কাজেই যুব ও নারী সমাজ. শ্রমিক আন্দোলন, রাজনৈতিক, বুদ্ধিজীবি ও ধর্মীয় নেতৃবর্গ, বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ, কারিগর আর ব্যবস্থাপক এবং পল্লীসমাজ আর বণিক সম্প্রদায়ের সকলের প্রতি আমাদের আবেদন, তারা যেন এই নতুন চ্যালেঞ্জের আলোকে সমস্যার প্রকৃতি অনুধাবন করতে এবং সেই অনুযায়ী কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করতে সচেষ্ট হোন।

সমসাময়িক এই বিশ্বের চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা আমাদের করতেই হবে। এই মুহূর্তে যেটা প্রয়োজন তা হল বলিষ্ঠ এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন কর্মপন্থা গ্রহণ। আমরা যদি পুরনো দিনের ধ্যান-ধারণা আর আদর্শকে আঁকড়ে ধরে থাকি, তাহলে সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ব সমাজের সর্বস্তরের জনগণের উন্নততর ও মহত্তর জীবনের জন্যে কাজ করে যেতে হবে। বিশ্বের সকল জাতি মিলিতভাবে এই লক্ষ্য অর্জনের উপযোগী যথেষ্ট সম্পদ ও কারিগরি জ্ঞানের অধিকারী সহযোগিতার পথ ধরে অগ্রসর হতে পারলে, এই লক্ষ্য, অনেকের ধারণার চাইতে আরো দ্রুত অর্জন সম্ভব। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কারণেই আমাদের উচতি এই পথ অবলম্বন করা। আমাদের আন্তরিক কামনা ও প্রার্থনা, আমরা যেন উপযুক্ত সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হই।
জনাব সভাপতি, আপনাকে ধন্যবাদ।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *