স্বস্তির বৃষ্টিতে নগরবাসীর জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ

গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরমের পর আজকের বৃষ্টি নগরবাসীর জন্য এনে দিয়েছে স্বস্তি। কিন্তু কার্যদিবস হওয়ায় অফিসগামী মানুষকে বাড়ি থেকে বের হতেই হয়েছে।

গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরমের পর আজকের বৃষ্টি নগরবাসীর জন্য এনে দিয়েছে স্বস্তি। কিন্তু কার্যদিবস হওয়ায় অফিসগামী মানুষকে বাড়ি থেকে বের হতেই হয়েছে।গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরমের পর আজকের বৃষ্টি নগরবাসীর জন্য এনে দিয়েছে স্বস্তি। কিন্তু কার্যদিবস হওয়ায় অফিসগামী মানুষকে বাড়ি থেকে বের হতেই হয়েছে। ফলে রাস্তায় নেমেই বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের।

মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে রাস্তার দুই ধারে আর গলিতে জমে থাকা পানি নগরবাসীর দুর্ভোগের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।

কেবল বেগম রোকেয়া সরণির কাজীপাড়া বা শেওড়াপাড়া নয়, সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে রাজধানীর অনেক এলাকার রাস্তাঘাট। বিভিন্ন গলিপথে জমে গেছে পানি। রাস্তায় পানির কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভীষণ ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী।

তবে এ ক্ষেত্রে একটু স্বস্তির পরশ দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস। তারা জানাচ্ছে, আপাতত দু-তিনদিন রাজধানীতে এই রকম তুমুল বৃষ্টি হওয়ার আর সম্ভাবনা নেই। তবে আজ ঢাকায় দিনের যে কোনো সময় আবারও সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। তবে তা সকালের মতো প্রবল আকারে ঝরবে না।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সানাউল হক বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সারা দেশে যে মৌসুমি বায়ু বিস্তার লাভ করেছে, তার সঙ্গে পশ্চিমা লঘুচাপ মিশে এই বৃষ্টি হয়েছে। এতে কালবৈশাখীরও কিছুটা প্রভাব ছিল। এই পরিমাণ বৃষ্টিকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বলা যায়।”

এদিকে, কোন কোন এলাকায় পানি জমে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা জানতে চাইলে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, রাজধানীর কোনো সড়কে পানি জমে নেই। তবে শান্তিনগর এলাকায় কিছু পানি জমেছিল, সেসব স্থান দুপুরে পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। পুরান ঢাকার বংশাল, সাতরওজা, নাজিমউদ্দিন রোড, বসুন্ধরা সিটির শপিং কমপ্লেক্সের পেছনের অংশ, ইন্দিরা রোড, পশ্চিম রাজাবাজার, মিরপুর, শান্তিনগর, মগবাজার, কারওয়ান বাজার, মিরপুর ১৩, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁওসহ বিভিন্ন সড়কে পানি জমে ছিল। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন অলিগলিও ছিল পানির নিচে। তা ছাড়া নাখালপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় কাদা জমে যাওয়াসহ পরিবহনের তীব্র সংকট ছিল।

চট্টগ্রামজুড়ে জলাবদ্ধতা, অকেঁজো পানি নিষ্কাষণ ব্যবস্থা

গ্রীষ্মের দাবদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টিতে চট্টগ্রামজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ডুবে গেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। অকেঁজো পানি নিষ্কাষণ ব্যবস্থার কারণে নগরীর অধিকাংশ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে বিকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৭৩ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস।

বৃষ্টিতে নগরীর নিচু অঞ্চল বিশেষ করে হালিশহর, আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, বাকলিয়া, শুলকবহর ও মুরাদপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা হাঁটু পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকার রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে যান চলাচল করতে পারছে না। দুপুর থেকে থমকে আছে পুরো নগরী।

অবশ্য অল্প বৃষ্টিতে সৃষ্টি হওয়া এ জলাবদ্ধতাকে জলাবদ্ধতা বলতে নারাজ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। তারা একে বলছেন জলজট। আকস্মিক বৃষ্টিতে এ জলজট সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। খুব শিগগিরই জমে থাকা জল নিষ্কাষণ হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শফিউল আলম বলেন, ‘বৃষ্টি বেশী পড়ায় জলজটের সৃষ্টি হয়েছে। এটাকে কোনভাবেই জলাবদ্ধতা বলা উচিত হবে না। বিকেল ৪টা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে চসিকের ইঞ্জিনিয়াররা আছেন, তারা আমাকে জানিয়েছেন বর্তমানে নগরীর কোথাও জলজট নেই।’

এদিকে বেলা ১২টা থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে যানজট ও জলজটে থমকে যায় পুরো নগরী। এসময় নগরীর ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ মুরাদপুর এলাকায় সৃষ্টি হওয়া যানজট বিস্তৃত হয় আশেপাশের এলাকাগুলোতেও। এসময় অসহনীয় পরিস্থতির সৃষ্টি হয়। হাঁটু পানিতে ডুবে যায় গাড়ি ও দোকানপাট। পথচারীদেরকে এসময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবি এডভোকেট মোস্তফা মো. এমরান বলেন, ‘মুরাদপুর এলাকায় সড়কে হাঁটু সমান পানি উঠেছে। এর ফলে বাসায় যেতে পারছি না।’

এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর সড়কে যানবাহন কম। এছাড়া গুরুত্পূর্ণ মোড়গুলোতে যানজট প্রকট হয়ে উঠেছে। রিকশা ও অটো রিকশায় আদায় করা হচ্ছে দু-তিন গুণ বেশি ভাড়া।

মুরাদপুরে ফ্লাইওভারের কাজ চলায় সেখানে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। তার মধ্যে মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে জলাবদ্ধতা যোগ হয়ে মানুষের ভোগান্তির মাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারি কর্মকর্তা ফারজানা বলেন, ‘মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও বেলা ১২টার পরে থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। দুপুর ৩টা পর্যন্ত ৮ মিলিমিটার ও সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৭৩ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। থেমে থেমে এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।’

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বিমানের শিডিউল বিপর্যয়

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক স্কোয়াড্রন লিডার নূর-ই-আলম বলেন, ‘সকাল থেকে বিমানের শিডিউল স্বাভাবিক ছিল। দুপুরের পর ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়। এতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের মোট সাতটি ফ্লাইটের শিডিউল পরিবর্তন করতে হয়েছে।’

তা ছাড়া সকালে ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরে নামতে না পেরে সেখানকার পাঁচটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করে বলে জানান বন্দর ব্যবস্থাপক।

হঠাৎ বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক হাঁটু পানিতে তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে সৃষ্টি হয় যানজট। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতও অব্যাহত ছিল। তবে ভারি বৃষ্টিপাত হলেও গরম কমেনি এতটুকু। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১২টা থেকে নগরী ও আশপাশের এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। আবহাওয়া বিভাগ আড়াইঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *