দেশে জরুরি অবস্থা জারির মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতীয়

‘জরুরি অবস্থা জারির মতো পরিস্থিতি হয়নি’

দেশে জরুরি অবস্থা জারির মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।দেশে জরুরি অবস্থা জারির মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে ইর্মাজেন্সি দেয়ার মতো কোনো অবস্থা কেউ সৃষ্টি করতে পারেনি। জনগণের সমর্থন যেহেতু নাই, সেহেতু এরা হলো সন্ত্রাসী। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এই সন্ত্রাসীদের আমরা মোকাবেলা করবো।’

তিনি বলেন, সংবিধানে সংশোধনে ৭ অনুচ্ছেদে যে ‘খ’ ধারা যুক্ত হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা আছে- কেউ যদি সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করে, তাহলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে। এমনকি এখানে ক্যাপিটাল পানিসমেন্টেরও (মৃত্যুদণ্ড) ব্যবস্থা আছে।

‘ওই স্বপ্ন দেখে লাভ হবে না। অলীক-অলৌকিক স্বপ্ন যারা দেখছে, যারা দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে চায়, আমাদের রক্ত থাকতে তা হতে দেব না’ যোগ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই ইমার্জেন্সি চেয়ে যাচ্ছে। ইমার্জেন্সি লাগবে কেন? আইনশৃঙ্খলা সংস্থা আছে। তারা এ ধরনের সন্ত্রাস দমনে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। অবশ্যই এই অবস্থা থেকে আমরা উত্তরণ ঘটাতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘ইয়াজউদ্দিন সাহেব ইমার্জেন্সি দিতে পেরেছিলেন। কারণ তখন তত্ত্বাবধায়ক প্রধান উনি নিজে। অর্থ্যাৎ সরকার প্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানও তিনি। এখন যদি ইমার্জেন্সি দিতে হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে লিখে দিতে হবে রাষ্ট্রপতিকে। তারপর রাষ্ট্রপতি ইমার্জেন্সি ডিক্লেয়ার করতে পারবেন।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা সুশাসন কায়েম করতে পারি। আমরা অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। মানুষের জানমাল রক্ষার জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘টকশো যারা করে তাদের শুভবুদ্ধি হবে কিনা? তাদের বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া কে দেবে? তাদের টার্গেট তো আমি। অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় আসলে তাদের সুবিধা হয়।’

নাশকতার ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন আইন নয়, হুকুমের আসামি করে প্রচলিত আইনেই মামলা করা হবে।

এ সময় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সবাইকে নিয়ে সন্ত্রাস বিরোধী কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনকল্পে আওয়ামী লীগ সরকার গত মেয়াদ থেকে এ পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে অনেকগুলো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকার যানজট সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা মহানগরীর পশ্চিমাংশের সাথে বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী কেরানীগঞ্জের যাতায়াত সহজ করার জন্য শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু (৩য় বুড়িগঙ্গা সেতু) নির্মাণ, টঙ্গীতে পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল-কালিগঞ্জ সড়কের ১ম কিলোমিটার শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু নির্মাণ, বৃহত্তর সিলেট ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী যানবাহনের ঢাকা প্রবেশ ও নির্গমন, কিশোরগঞ্জ সহজ করার লক্ষ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর সুলতানা কামাল সেতু নির্মাণ ও বনানী রেল ক্রসিং-এ ট্রেন চলাচলের ফলে সৃষ্ট যানজট নিরসনে ৮০৪ মিটার দীর্ঘ রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের পূর্ব-পশ্চিম যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে শহরের যানজট নিরসনে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার, কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণ, ঢাকা-আরিচা জাতীয় মহাসড়কের সাভার-নবীনগর সড়কাংশ চার লেনে উন্নীতকরণ, শিমরাইল-ইপিজেড-নারায়ণগঞ্জ সড়ক উন্নন, হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, জয়দেবপুর টাঙ্গাইল মহাসড়কে-কালিয়াকৈর বাইপাস সড়ক নির্মাণ, যাত্রাবাড়ী কাঁচপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে চাষাড়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ, যানজট নিরসনের লক্ষ্যে নবীনগর বাইপাইল ও জিরানী ইন্টার, চন্দ্রা মহাসড়কের নবীনগর-লেনে উন্নীতকরণ ১০ সেকশন, গাবতলী-সোয়ারীঘাট সড়ক সংস্কার ও মেরামত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে যানজট নিরসন ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০ বছরের অধিক পুরাতন বাস-মিনিবাস ও ২৫ বছরের অধিক পুরানো পণ্যবাহী যানবাহন ঢাকায় চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এফএম ব্যান্ড রেডিওতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন সড়কের যান চলাচল ও যানজট বিষয়ে তথ্যাদি এবং সড়ক নিরাপত্তামূলক বক্তব্য/ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। সড়ক নিরাপত্তামূলক তথ্যচিত্র বিটিভিসহ অন্যান্য চ্যানেলে প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, “পুরাতন জরাজীর্ণ ট্যাক্সিক্যাব-এর পরিবর্তে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে আধুনিক মানসম্মত ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস চালু করা হয়েছে, বিআরটিএ’র উদ্যোগে পেশাজীবী গাড়ি চালককে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে এক লাখ নয় হাজার ৬৮৫ জন পেশাজীবী গাড়ি চালককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি বলেন, “ঢাকাসহ সারাদেশে যানজট নিরসন এবং দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ২০১৪ থেকে ১০ নভেম্বর থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাসসহ মোট ৯৫৮টি বাস সংগ্রহ করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমদানিকৃত বাসগুলো পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশ দূষণসহ যানজট উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। স্কুল ও কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ২৬টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে একটি রুটে চারটি স্কুল বাস সার্ভিস বিআরটিসি’র মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের জন্য পৃথকভাবে যানবাহনের প্রয়োজন হয় না যা যানজট নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার যানজট হ্রাসকল্পে রেলপথে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনকল্পে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *