‘নির্বাচন দিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
mirza-fakhrul-press-conferenceবিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গণতন্ত্রের স্বার্থেই বিএনপি সংলাপের দাবি অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।শুক্রবার বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন।এসময় তিনি বলেন; আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তাই সংলাপ চাই। যুদ্ধের সময়ও সংলাপ হয়। অতএব গণতন্ত্রের স্বার্থেই সংলাপের দাবি অব্যাহত রাখব।
১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড নিয়ে জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে শেখ হাসিনা যে মন্তব্য করেছেন তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ওই হত্যাকান্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মোশতাক আহম্মেদ জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে তার মন্ত্রী সভায় আওয়ামী লীগ নেতারা যোগ দেন।
তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় চতুর্থ দফায় তারেক রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ এক এগারোর সময়ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের মনোনায়ন প্রত্যাশী সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এ মামলার তদন্ত  ভার দিয়ে তারেক রহমানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়ানো হয়েছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এ মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানকে অকথ্য নির্যাতন করে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়েছে। যা আদালতে শিকার করেছেন মুফতি হান্নান এবং ওই জবানবন্দি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি।
বুধবার গণবভনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এখন নিজেই বিব্রতবোধ করছেন। এখনও জনগণ তাদের সরকারকে গ্রহণ করেনি। আওয়ামী লীগ এতই দেউলিয়া হয়ে গেছে যে রাষ্ট্রের প্রশাসন ব্যবহার করে তাদেরকে ক্ষমতায় থাকছে হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি এতই জনপ্রিয় হয়ে থাকেন তাহলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন।’

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদেরকে একক ও অদ্বিতীয় ভাবে। তাই দেশের গুণী রাজনৈতিক ড. কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী কিংবা বি. চৌধুরীর মত ব্যক্তিদের অসম্মান করতে পিছপা হয় না।

অগণতান্ত্রিক মনোভাবের কারণেই মূলত আওয়ামী লীগ সংলাপে সাড়া দিচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন অবৈধ উল্লেখ করে তিনি বলেন; তারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়, তাই বিদেশিরা এর বৈধতা দেয়নি। এটা শুধু ফটোসেশনের মধ্যেই রয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, এ নির্বাচন দেশের মধ্যে সংকট তৈরি করেছে। গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয় আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা মানতে নারাজ। এ নিয়ে তারা নাটক করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জনগণ ও সকল রাজনৈতিক দলই চায় নিরপেক্ষ নির্বাচন যেখানে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হবে।

এ সময় দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা না করলে দেশ অনিশ্চয়তার দিকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

গোলাম আযমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আজকের সংবাদ সম্মেলনের বিষয় না। যে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে তা সবই বলেছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *