লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় নিয়ে অবস্থান বদলানোর যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখন তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক

লোকসভা নির্বাচনের আগে ছিটমহল বিনিময়ে মমতার সম্মতি

লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় নিয়ে অবস্থান বদলানোর যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখন তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় নিয়ে অবস্থান বদলানোর যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখন তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।

বুধবার কলকাতার ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় প্রকাশিত একটি খবরে বলা হয়েছে, ৬৫ বছর ধরে ঝুলে থাকা সমস্যাটির সমাধানে সম্মতি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে রাজ্য সরকার।

ছিটমহল বিনিময়ে সীমান্ত চুক্তি কার্যকরে ভারতের সংবিধান সংশোধন বিল রাজ্যসভায় ওঠার ঠিক আগে এর বিরেধিতাকারী মমতার অবস্থান বদলানোর খবর এলো।

রাজ্য সরকারের এই অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে বৃহস্পতিবার কুচবিহারে এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘোষণাও আসতে পারে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

রাজ্য সরকারের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের শেষের দিকে পাঠানো মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্রের সই করা চিঠিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নীতিগত কোনো আপত্তি নেই।

১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয় স্থল সীমান্ত চুক্তি। আর ২০১১ সালে তৎকালীন ইউপিএ জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় একটি প্রটোকল সই হয়।

প্রটোকলটি কার্যকরে ভারতের সংবিধান সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছিল কংগ্রেস সরকার। এজন্য পার্লামেন্টে একটি বিলও তোলা হলে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা সে সময়ের বিরোধী দল বিজেপির সঙ্গে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতায় তা ঝুলে যায়।

তবে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদির অবস্থান পরিবর্তন হয়।

গত ২৬ নভেম্বর কাঠমান্ডুতে সার্ক সম্মেলনের ফাঁকে এক বৈঠকে শেখ হাসিনাকে স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকর এবং তিস্তা চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে ‘জোর’ প্রচেষ্টার কথা জানান মোদি।

এরপর বাংলাদেশের সঙ্গে ভূমি বিনিময়ের জোর বিরোধিতাকারী রাজ্য আসামে গিয়েও মোদী বলেন, এই চুক্তি কার্যকর হলে ওই রাজ্যের ক্ষতি হবে না, বরং আখেরে লাভই হবে।

মমতার মনোভাব বদলানোরও ইঙ্গিত পাওয়া যায় গত সেপ্টেম্বরে, যখন কলকাতায় বাংলাদেশের সাবেক ডেপুটি হাই কমিশনার আবিদা ইসলাম তার সঙ্গে দেখা করতে যান।

বাংলাদেশের কূটনীতিকের সঙ্গে আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিটমহলবাসীর দুঃখ-দুর্দশার কথা বর্ণনা করেন বলে পত্রিকাটি জানায়।

শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে স্থলসীমান্ত চুক্তি বিল পাস হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক পার্লামেন্টারি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংবিধান সংশোধনের বিলের খসড়াটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রতিনিধি সুগত বসু ও মুমতাজ সংঘমিত্রা চুক্তির পক্ষে সায় দেন।

তবে যেসব ছিটমহল পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হবে, সেখানে প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রণয়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয়ের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারই নেবে, এমনটাই ইচ্ছা রাজ্য সরকার।

ছিটমহল পুনর্বাসনের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ৩০৮ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বলে জানা গেছে।

ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন ‘ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি’র নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত।

তিনি বলেন, ‘স্থলসীমান্ত চুক্তি বিল সংসদে পাস হওয়াটা এখন সময়ের ব্যাপার। আশার আলো দেখছেন দুই দেশের ১৬২টি ছিটমহলের প্রায় ৫৬ হাজার অধিবাসী।’

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *