‘ছাত্রলীগ নয় খালেদা জনতার রুদ্ররোষে পড়েছিলেন’

গাড়ির নিচে চাপা পড়া এক তরুণের ছবি সংবাদ সম্মেলনে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ছবি তো আপনারা দেখাননি।’ ‘ছাত্রলীগ নয়, তিনি জনতার রুদ্ররোষেই পড়েছিলেন।’

গাড়ির নিচে চাপা পড়া এক তরুণের ছবি সংবাদ সম্মেলনে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ছবি তো আপনারা দেখাননি।’ ‘ছাত্রলীগ নয়, তিনি জনতার রুদ্ররোষেই পড়েছিলেন।’২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে মানুষ যেভাবে পোড়াল, যে জঘন্য কাজ, বিশ্বে কোথাও কি কেউ দেখেছে?’ তিনি বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) যে মানুষকে পোড়ালেন তিনি আবার মানুষের কাছে ভোট চান কিভাবে? কোন মুখে ভোট চান? লজ্জাও তো লাগে।’

সিটি নির্বাচনের দুদিন আগে রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক ইন্দোনেশিয়া সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে মূলত দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সিটি নির্বাচনের কথায় বেশি উঠে আসে।

নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপি চেয়ারপারসন হামলার শিকার হয়েছেন মর্মে বিভিন্ন নিউজ হলেও তার নিরাপত্তাকর্মীদের গাড়ির নিচে চাপা পড়া এক তরুণের ছবি সংবাদ সম্মেলনে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ছবি তো আপনারা দেখাননি।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছাত্রলীগ নয়, জনতার রুদ্ররোষেই পড়েছিলেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে ‘মিথ্যার ফুলঝুরি’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর আগে দুপুর দুইটার দিকে গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তিনি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ক্ষমতায় বসতে এবং বসার পর আপনি অনেক অপরাধ-অপকর্ম-অপকৌশল করেছেন। এখন রাষ্ট্রক্ষমতা আপনার কাছে বাঘের পিঠে সওয়ার হওয়ার মতো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। আপনি নামতে ভয় পাচ্ছেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসন আরো বলেন, ‘আপনি (শেখ হাসিনা) ভয় পাবেন না। আমরা আপনার মতো প্রতিশোধপ্রবণ নই। আপনি নম্র, ভদ্র, সংযমী হোন। উগ্র স্বভাব ও জিঘাংসার মনোবৃত্তি বদলান। গণতন্ত্র ও সংলাপের পথে আসুন। আমরা আপনাকে সহি সালামতে নিরাপদে নামতে সাহায্য করব এবং একই সমতলে দাঁড়িয়ে নির্বাচন করব। মানুষ যাকে খুশি বেছে নেবে। আসুন, সেই পথটা অন্তত খুলে দেই।’

খালেদা জিয়ার পরপরই গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথমে তিনি সাম্প্রতিক ইন্দোনেশিয়া সফর নিয়ে তার লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।

পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন শেখ হাসিনা। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেত্রী মিথ্যার ফুলঝুরি দিয়ে গেছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের ভুয়া বিবৃতি এবং ভারতের বিজেপি প্রধান অমিত শাহের ফোনালাপের প্রসঙ্গ ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উনার মিথ্যাচারের কথা কী বলব! দেশের ভেতরে তো মিথ্যাচার করেই যাচ্ছেন, বিদেশিদেরও ছাড় দেননি। মিথ্যা কথা উনি চমৎকারভাবেই বলতে পারেন।’

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি উন্নয়নের কাজ উদ্বোধন করলাম, সেটা গুরুত্ব পেল না। আর যে এতদিন মানুষ খুন করল, তার ছবি টেলিভিশনে। এটা কোনো ধরনের সাংবাদিকতা। আমাকে বুঝিয়ে বলবেন?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ খুন করবেন বিএনপি নেত্রী। আর দায়-দায়িত্ব সরকারের। এদেশের মানুষকে তিনি বোকা ভেবেছেন।’

তিনি বলেন, ‘পেট্রোল বোমা রাখার দায়ে ৬৬৫ জন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী ধরা পড়েছে। সাধারণ মানুষের হাতে ধরা পড়ে ৭০ জনের মতো গণধোলাই খেয়েছে। পেট্রোল বোমা বানাতে গিয়ে তাদের কয়েকজন মারাও গিয়েছে। এসব পেট্রোল বোমার ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করে বিচার করা হবে।’

সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেভাবে খালেদা জিয়া, তার ক্যাডাররা মানুষ পুড়িয়েছে, এরপর কে তাকে ভোট দেবে? যার ভেতরে এতটুকু মনুষ্যত্ববোধ আছে, যাদের বিবেক আছে, তারা কি এই বিএনপিকে আর ভোট দেবে? বিএনপি করবে? বিএনপির পাশে দাঁড়াবে? বা ওই জামায়াতের পাশে থাকবে?’

‘যারা অমানুষ, যাদের কোনো মনুষ্যত্ববোধ নাই, তারা যেতে পারে। যার মনুষ্যত্ববোধ আছে, তারা যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় আফ্রো-এশিয়া সম্মেলনে যোগ দেন। এ সম্মেলনের ব্যাপারে জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলন ডাকেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা জানান, সম্মেলনে অংশ নেওয়া ছাড়াও তিনি বিভিন্ন দেশের প্রধানদের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এর বাইরেও সম্মেলন চলাকালে অনেকের সাথে আলাপ-আলোচনা ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সম্মেলনে নিজের বক্তব্য নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে বলে মত ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শেখ হাসিনাই দিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারই দিয়েছে, এটা ভুলবেন না।’

এ সময় একটি ছবি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে এতদিন ধরে মানুষ পোড়াল, তার ছবি কেন সব গণমাধ্যম আসেনি? হরতালের কারণে তাদের ব্যবসা মন্দা গেছে, আপনজন পুড়ে গেছে। তারা যতি কালো পতাকা নিয়ে দাঁড়ায়, তাহলে কিছু করার নেই। তাদের যখন সিএসএফ কলার ধরে মারবে তারা কি বসে থাকবে? এত কথা বলেন, এত টক শো করেন। এই সব ছবি দেখাতে পারেননি, কেন, বলতে পারেন?’

সিটি নির্বাচন আচরণবিধিমালার একটি ধারা বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের শোডাউন, জনগণের চলাচলে বাধা দেওয়া যাবে না, তারপরেও তিনি যখন আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন; তখন কি আপনারা সেটা দিয়ে নিউজ করেছেন? কেউ কোনো কথা বলেন নাই। পাবলিক এসে খালেদা জিয়ার গাড়ি ভাঙলে সেটার জন্য সহানুভূতি দেখাতে মরে যান, অথচ সাধারণ মানুষের গাড়ি যে পোড়াল সেসব কথা কয়জন লিখেছেন? যারা খালেদা জিয়ার বহরের কারণে পা ভেঙে হাসপাতালে, তাদের দেখতে কেউ গেছেন?’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে থাকার ঘোষণা দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *