ছাত্রদলের পাহারায় খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণা

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় নেমে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানালেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় নেমে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানালেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় নেমে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানালেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর রাজধানীর বারিধারা এলাকায় মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে ভোট চাওয়ার সময় তিনি এ দাবি জানান।

নির্বাচনী প্রচারণায় বের হয়ে গত সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার পরপর হামলার শিকার হয়েছে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। বুধবার তার গাড়িটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সারানোর জন্য গাড়িটি গ্যারেজে থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রচারণায় বের হতে পারেননি তিনি।

হামলা প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে উদ্দেশ করে গুলি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হামলা করে বিএনপিকে দমন করা যাবে না।’

পুরো প্রচারণার সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ঘিরে পাহারায় ছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যাক নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে এস্কর্ট দিয়েছেন।

গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে গাড়িবহর নিয়ে বের হন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার প্রচারণা বন্ধে ইসির ব্যবস্থা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাস্তা বন্ধ ও যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে নির্বাচনী প্রচারণা চালালে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে শুক্রবার এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে কমিশন সচিবালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন থেকে শুক্রবার রাতে উত্তর–দক্ষিণ রিটার্নিং অফিসার বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), মহাপুলিশ পরির্দশক (আইজিপি) ও নির্বাচনে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নিশ্চিত করেছে।

কেন্দ্রে পাহারা বসাবে বিএনপি

বিএনপি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট কারচুপি এবং কেন্দ্র দখলের আশঙ্কার কথা তুলে ধরে প্রতিটি কেন্দ্রে দলীয় কর্মীদের দিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করার কথা ঘোষণা করেছে। দলটি অভিযোগ করেছে, ঢাকায় দু’টি সিটি কর্পোরেশনে তাদের ত্রিশজন কাউন্সিলর প্রার্থী এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন।

বিএনপি নেতারা বলেছেন, সরকারি দলের তৎপরতার কারণে ঢাকায় এবং চট্টগ্রামে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে।

বিএনপির পক্ষে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থকরা কারচুপি এবং ভোট কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তারা আশংকা করছেন।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেছেন, “সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিএনপির নেতা কর্মীদের দিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হবে। এতে সরকার খুব একটা ক্ষতি করতে পারবে না।”

পরপর কয়েকদিন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার গাড়ির বহরে হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে একদিন বিরতি দিয়ে তিনি শুক্রবার আবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালান।

বিএনপি নেতা হান্নান শাহ আরও অভিযোগ করেছেন, ঢাকায় দু’টি সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি সমর্থিত ত্রিশ জন কাউন্সিলর প্রার্থী এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন।

শুক্রবার ঢাকার দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীকে প্রচারণা চালানোর সময় পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

তার বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে তিনটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল বলে পুলি জানিয়েছে। এর আগেও ঢাকায় বিএনপি সমর্থিত দুজন কাউন্সিল প্রার্থী গ্রেফতার হয়েছে।

পুরোনো মামলায় এ ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে বলে বিএনপি অভিযোগ করেছে।

তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতারের ঘটনাকে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাইছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচন বা ভোট গ্রহণ নিয়ে কোন রকম আশঙ্কার কিছু নেই।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *