ফ্রান্সকে কাঁদিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল
খেলা

ফ্রান্সকে কাঁদিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল

ফ্রান্সকে কাঁদিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালফ্রান্সকে কাঁদিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়ন রোনালদোর পর্তুগাল। প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুট জিতে নিল পর্তুগাল। নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকারপর অতিরিক্ত সময়ের ১৯ মিনিটে এডারের দূর পাল্লার শট লক্ষ্য ভেদ করলে শিরোপা চলে যায় পর্তুগালের ঘরে। ইউরোর ফাইনালের ইতিহাসে এবারই প্রথম নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল হলো না।

১০৮তম মিনিটে পরাস্ত হয়েছিলেন লরিস। তবে রাফায়েল গেররেইরোর ফ্রি-কিক ক্রসবারে লাগে। তবে পরের মিনিটেই আসে জয়সূচক গোলটি। বদলি হিসেবে নামা এদেরের প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া আচমকা নিচু শট ঝাঁপিয়ে পড়েও ঠেকাতে পারেননি লরিস। প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে এটাই এডারের প্রথম গোল! আর এ গোলেই স্বপ্ন ছুঁয়ে গেছে পর্তুগালের।

১৯৭৫ সালের পর ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নেই কোন জয়। পরিসংখ্যান, ইতিহাস সবই ছিল বিপক্ষে। আবার স্বাগতিক ফ্রান্সের মাঠেই খেলা। সব দিক থেকে পিছিয়েই ইউরোর ফাইনালে মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল। ২৫ মিনিটের মধ্যে আরও দুঃসংবাদ। ইনজুরির কারণে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের শিরোপা জয়ের আশা তখন অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন।

২০০৪ সালে ঘরের মাটিতে প্রথমবারের মতো ইউরোর ফাইনালে উঠে গ্রীসের কাছে হেরেছিল পর্তুগাল।

বিশ্বকাপ তো বটেই, মহাদেশীয় টুর্নামেন্টেও এতদিন বড় কোন ট্রফির দেখা পায়নি পর্তুগাল। এবার ফ্রান্সকে হারিয়ে সেই আরাধ্যের স্বপ্নটা পুরুণ হলো পর্তুগিজদের। সেরা হওয়ার পথে এগিয়ে গেলেন রোনালদোও।

নিষ্প্রাণ প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে উত্তেজনা ফেরে খেলায়। ৬৫তম মিনিটে কিংসলে কোমানের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন গ্রিজমান। কিন্তু বল একটুর জন্য ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। ১০ মিনিট বাদে আবারও পর্তুগালের গোলবারে গ্রিজমানের হানা। এ যাত্রায় পর্তুগালকে রক্ষা করে পাত্রিসিও’র বিশ্বস্ত গ্লাভস।

নির্ধারিত সময় শেষের মাত্র ১০ মিনিট আগে পর্তুগালে পক্ষে সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন ন্যানি। প্রায় গোল লাইন অতিক্রম করা বল ফেরান গোলরক্ষক লরিস। এরপর দু’দলের অব্যাহত চেষ্টার পরও খেলার নির্ধারিত সময় শেষ হয় গোলশূন্য ভাবে।

অতিরিক্ত সময়ের ১৯ মিনিটে পর্তুগালে জালে বল জড়িয়ে ইতিহাস গড়েন এডের। এডেরের ডি-বক্সের বাইরে থেকে দূর পাল্লার শট আচমকা নিচু হয়ে ফরাসি জালে জায়গা করে নেয়।

২০০৪ সালে নিজেদের মাঠে প্রথমবারের মতো ইউরো ফাইনাল খেললেও গ্রিসের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত থাকতে হয়েছিলো পর্তুগিজদের।

সময়ে সময়ে রঙ বদলানো ফাইনালের গল্পটা হতে পারতো রোনালদোময়। ম্যাচের প্রথমার্ধে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ইনজুরি খেলার রঙ কিছুটা কেড়ে নিলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপার হাসি হাসে পর্তুগাল।

ম্যাচের ১৬ মিনিটে দিমিত্রি পায়েতের অবৈধ ট্যাকলিংয়ের শিকার হন সি আর সেভেন।

ডাগ আউটে সতীর্থদের সঙ্গে কান্না ভেজা চোখে আনন্দে বিহ্বল যেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অন্যদিকে স্বাগতিক ফরাসি শিবিরে বেদনা আর হতাশার হাহাকার।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *