চীনের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাংলাদেশের রাজনীতি

চীনের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাংলাদেশের রাজনীতি

চীনের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাংলাদেশের রাজনীতিবশর সিদ্দিকী

চীনের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাংলাদেশের রাজনীতি শীর্ষক লেখার বিষয় প্রধানত দুইটা।

১.চীনের সামরিক উচ্চাকাংখা
২.তাতে বাংলাদেশের লাভ অথবা ক্ষতি

পিপলস রিপাবলিক অফ চায়নার সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে জানতে হলে আগে আপনাকে জানতে হবে তাদের সামরিক বাহিনী সম্পর্কে। চীন পৃথিবীর ইতিহাসে একটা আলাদা এবং স্বাধীনচেতা একটি জাতি ছিল একদম শুরু থেকেই। তাদের নিজস্ব অস্তিত্ব এবং চিন্তা চেতনা ছিল। আরও ছিল নিজেদের মত করে সবকিছু গড়ে তোলার আকাঙ্খা।

চীন ইতিহাস অনেক লম্বা। দেশটি মুলত আধুনিক বিশ্বের নজরে আসে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পরে। যখন মাও সেতং দেশটির হাল ধরেন এবং বিদ্রোহ শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে মাও সেতং এর বিদ্রোহী সামরিক সংগঠনকে ডাকা হত পিপলস লিবারেশন আর্মি নামে। খুব কমপ্লিকেটেড একটা ইতিহাস নিয়ে এই সেনাবাহিনীটির উৎপত্তি।

যদি কোনক্রমে কক্সবাজারের দিকে একটা বেইজ করতে পারে। তাহলেই কেল্লাফতে। যখন এই তিনটি সামরিক স্থাপনার থেকে চীনের জাহাজগুলো চলাচল করবে প্রায় প্রতিদিনই ভারতীয়দের জন্য একটা করে নাকে ক্ষতের মত হবে।

প্রাথমিকভাবে কমিউনিস্ট পার্টির উদ্দেশ্য ছিল চীনের রাজনৈতিকভাবে স্টাবলিশমেন্ট এবং ওভার পপুলেটেড দেশের অর্থনৈতিকে স্থিতিশীল করা। বিষয়গুলোতে তাদের সাফল্য এতটাই চমৎকার ছিল যে তারা সামরিক দিক দিয়ে এগোতে শুরু করে। এরই হাত ধরে তারা ১৯৬৪ সালে প্রথম পারমানবিক বোমার সফল পরীক্ষা চালায় এবং একরকম জোর করেই জাতিসংঘের স্থায়ী পরিষদে নিজেদের স্থান সুরক্ষিত করে নেয়।

পিপলস লিবারেশন আর্মির শাখাগুলোও একটু ডিফারেন্ট। তাদের সেনা, নৌ এবং বিমান শাখা ছাড়াও সেকেন্ড আর্টিলারি কোর নামক আলাদা একটা শাখা আছে। যেখানে এক লক্ষাধিক সদস্য আছে। এটি একটি মিসাইল এবং রকেট স্পেশালিষ্ট বাহিনি। এই কোরটাই মুলত পারমানবিক অস্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রন করে। ধারনা করা হয় এদের কাছে এত বিপুল পরিমানে মিসাইল আছে যে তা দিয়ে তারা আলাদা একটা যুদ্ধ করতে পারবে। আর কোন ফোর্সের প্রয়োজন হবে না। তাদের এই ফোর্স ৬ টা আলাদা ব্রিগ্রেডে ভাগ করে পুরো দেশে বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

উচ্চাকাঙ্ক্ষা বলতে যেটা বুঝানো হয়েছে সেটা পুরোটাই স্ট্রাটেজিক। চীনের সামরিক বাহিনীর এয়ার ফোর্স এবং নেভি ফোর্স পুরোটাই স্বনির্ভর। এয়ার ফোর্সের সামরিক ভিশন বলতে বর্তমানে তাদের নিজস্ব এয়ার সুপেয়রিয়রিটি ফাইটার, বোম্বার, ক্যারিয়ার, ড্রোন, ফাইটার ড্রোন এবং অবশ্যই সুপাল কোয়ালিটি ফোরথ এবং ফিফথ জেনারেশন Chengdu J-20। যা অলরেডি প্রোডাকশনে চলে গেছে। এয়ার ফোর্সের এই স্বনির্ভরতা তাদের আর্সেনাল বা বিমানের সাথে বহন করা বোমাগুলোর ম্যানুফ্যাকচারিং ক্যাপাবিলিটও আছে। অর্থাৎ কোন কিছুই বাইরে থেকে তারা কিনে না।

চীনের নেভির সামরিক ভিশনের মধ্যে আছে আরো পাচটি বিমানবাহী রণতরী নির্মান করা। অলরেডি তারা এটার কজা শুরু করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থা রিপোর্ট করেছে চীনের একটা গোপন সামরিক স্থাপনাতে এই রণতরীগুলোর নির্মান কাজ চলছে পুরো দমে। মুলত ফিফথ জেনারেশনের বিমানগুলোকে বহন করার জন্যই এই রণতরীগুলো। প্রত্যেকটি রণতরীর সাথে থাকবে একটি আলাদা ব্রিগ্রেট যেখানে ডেস্ট্রোয়ার থাকবে এবং থাকবে অত্যন্ত হাই কমব্যাট ক্যাপাবিলিটির সাবমেরিন। এবং এই সব জাহাজই থাকবে প্রথমেই বর্ননা করা মিসাইল ফোর্সের আওতায়। মানে তাদের বিচরন থাকবে সব স্থানে। এই পুরো পরিকল্পনাকে চীনের ব্লু ওয়াটার এমবিশান বলে। পুরো সাগরকে একাই নেতৃত্ব দেয়ার পরিকল্পনা।

চীনের আর্মি বা গ্রাউন্ড ফোর্সের মধ্যে আলাদা ট্যাংক ডিভিশন হচ্ছে আর একটা মারাত্মক ফোর্স। বাংলাদেশের ব্যবহৃত ট্যাংকগুলো চীনের নিজস্ব নির্মিত ট্যাংক। অত্যন্ত উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষমতার সম্পন্ন এই ট্যাংকগুলো আধুনিক বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। এছাড়াও সামরিক বাহিনীর প্রত্যেকটি অস্ত্র তারা নিজেরাই তৈরি করছে নিজেদের প্রযুক্তিতে। আর তাদের মিসাইল ফোর্সের কথা তো শুরুতেই বলেছি।

তাই সামরিক দিক থেকে সামনের দিকে চীন পৃথিবীর বুকে একটা অত্যন্ত পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। এতটাই ভয়ানক পরাশক্তি যে এই অঞ্চলে তাদের কাছে কৈফিয়ত বহির্ভূত কোন কাজ হবেও না বা তারা হতে দেবেও না।

এখন চলে আসি লেখার পরের ধাপে। প্রশ্ন আসতে পারে বাংলাদেশের সাথে চীনের সামরিক বাহিনীর কী সম্পর্ক?

এখানে চমৎকার একটি বিষয় আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের অবস্থান। এই দিক দিয়ে বাংলাদেশ ভারতের একেবারে পেটের মধ্যে একটা অঙ্গরাজ্যের মতন। কৌশলগত দিক দিয়ে ভারত-চীন যতই গলায় গলায় ভাব দেখাক বাস্তবে বিষয়টা অনেক কমপ্লিকেটেড।

১৯৬৭ সালের যুদ্ধে চীন ভারতের যে পরিমান যায়গা দখল করে নিয়েছে তার দুঃখ এখনও ভারত ভুলতে পারেনি। যে কোন বিষয়ে এই দুই দেশের মধ্যে ঝামেলা লেগে যায়। ভারত বর্তমানে এই অঞ্চলে চীনকে টক্কর দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রকে বলা যেতে পারে অনেকটা বলে কয়ে ডেকে এনেছে। এই পুরো অঞ্চল একক নিয়ন্ত্রনে চালানোর চেস্টা করছে। বিষয়টা আপনার আমার কেমন যেন লাগলেও মোটেই পছন্দ হচ্ছে না চীনের।

আর এখানেই বাংলাদেশের আগমন। চীনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতকে কোন একটি স্থানে আটকে ফেলা। তারা সেটা প্রথম করেছে পাকিস্তানের করাচি বন্দরে রিনোভেশনের কাজ করে পুরো গোয়েদার বন্দরকে নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে। ফলে সেখানে খুব সহজেই একটা নেভাল ইউনিট থাকতে পারবে। এর পরেই তারা শ্রীলংকার বন্দর নিয়ে নিয়েছে। খুব সুন্দর ভাবে সেখানে একটা নেভাল ফ্লিট থাকতে পারবে। তারা যদি কোন ক্রমে কক্সবাজারের দিকে একটা বেইজ করতে পারে। তাহলেই কেল্লাফতে। যখন এই তিনটি সামরিক স্থাপনার থেকে চীনের জাহাজগুলো চলাচল করবে প্রায় প্রতিদিনই ভারতীয়দের জন্য একটা করে নাকে ক্ষতের মত হবে।

বিষয়টা খুব একটা কমপ্লিকেটেড না। এটার জন্য আপনাকে শুধু বন্দরটা তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। তাও একটা কন্ট্রাকের মাধ্যমে পুরো বন্দরে তাদের ইনভেস্টমেন্ট এবং রক্ষনাবেক্ষন করতে দেয়ার সুযোগ দেয়া লাগবে। ফলে তারা পুরো এলাকাটিকে তাদের নৌবাহিনীর জন্য একা বেইজ করার সিস্টেমে রিনোভেশন করে নেবে এখন দেখার বিষয় হচ্ছে কী হতে পারে এটার আগের এবং পরের আফ্টারম্যাথ।

প্রথমত এটা করলে এই বন্দরের ভারতের জাহাজগুলোর অবাধ অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তাদের পুর্বের রাজ্যগুলোতে পন্য পরিবহনের সমস্যার কারনে উক্ত রাজ্যগুলোর অর্থনীতি বাংলাদেশের পন্য আমদানি নির্ভর হয়ে পরবে। এর পরে আছে বাংলাদেশের বন্দরের পন্যখালাসে বর্তমানের দীর্ঘসূত্রিতার অবসান হবে। ফলে খুব দ্রুত পন্যখালাস হলে দিলে অর্থনীতি আরো দ্রুত প্রসারিত হবে।

সামরিক দিক থেকে যেটা সুবিধা-আপনার পুরো উপকুলে একটা বিদেশি কিছু ঢোকার আগে পারমিশন নিয়া ঢুকবে। আগে জিজ্ঞেস করবে আসবো কিনা? অনুমতি দিলে ঢুকবে না হলে বাইরে দিয়ে চলে যাবে। ভিতরকার রাজনীতি পুরোপুরিভাবে ভারতবিরোধী শক্তির নিয়ন্ত্রনে চলে যাবে। কারন হচ্ছে রাস্ট্রক্ষমতা সাধারন সামরিক শক্তির উপরই ডিপেন্ড করে। যেটা হারে হারে টের পাচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের জোট।

সামরিক বাহিনীর প্রত্যেকটি অস্ত্র চীন থেকে আসবে। বর্ডারে একটা গুলি চললে ১০টা ফেরত দেয়ার মত গুলি আপনাকে চীনই দেবে। আর তখন বর্ডারে এমনিতেই গুলি করার আগে ভারতীয় সামরিক বাহিনী ১০ বার ভাবতে বাধ্য হবে। হতেই হবে। কেউই আপরাইজিং একটা সামরিক শক্তির সাথে সংঘর্ষের কথা ভাববে না। যেখানে স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্র যাদেরকে নিয়ে চিন্তিত সেখানে ভারত দৌড়ের উপরে থাকে। উত্তর কোরিয়ার মত দেশকে তারা একাই সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ তো সামান্যই মত তাদের কাছে।

বিগত ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের ভুলের স্থানটি বেশ খানিকটা স্পস্ট এখন। নিজেকে খুব বেশি সেল্ফ ডিপেন্ডেন্ট ভেবেছিলেন তারেক রহমান। বিষয়টা এখন সম্পূর্ণ ভুলবলেই প্রমানিত হচ্ছে। উনারে আশে পাশের লোকগুলোকেই ভারতীয়রা কিনে নিয়েছে অনেক আগেই। পঙ্গু করে দিয়েছে তাকে আর হত্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল আরাফাত রহমান কোকোর বিষয়ে। এর পরও যদি তার ফরেন পলিসিতে যদি কোন পরিবর্তন করার ইচ্ছা হয় তাহলে তারেক রহমানের প্রতি আমার উপদেশ থাকবে দয়া করে চীনের কাছে যান। আপনার জন্য ভাল কিছুই অপেক্ষা করছে বলেই আশা রাখি।

বশর সিদ্দিকী, প্রকৌশলী, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *