বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা চাষী নজরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন।
বিনোদন

চাষী নজরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন

বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা চাষী নজরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন।বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা চাষী নজরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন। রোববার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

চাষী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী শাহাদাত সেতু খবরের সত্যতা নিশ্চত করেছেন। মৃত্যুকালে জাতীয় চলচ্চিত্র ও একুশে পদকজয়ী এই চলচ্চিত্র পরিচালকের বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার সকাল নয়টায় মরহুমের লাশ কমলাপুরের ৯ নং জসীম উদ্দীন রোডের বাসভবনে নেওয়া হয়েছে। এখানে দুপুর একটা পর্যন্ত রেখে পরে আবারো ল্যাবএইড হাসপাতারের হিমঘরে রাখা হবে।

সোমবার সকালে এফডিসিতে এবং পরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধার জন্য লাশ রাখা হবে। বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম মসজিদে নামাজে জানাযা শেষে তার লাশ গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে।

বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বরেণ্য এই নির্মাতাকে দাফন করা হবে বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

বেশ কয়েক মাস ধরেই তিনি লিভার ক্যান্সারে ভুগছিলেন। হঠাৎ করে গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে চাষী নজরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে) নেওয়া হয়। এরপর গত বুধবার থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরেই চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে দূরে ছিলেন এই খ্যাতনামা পরিচালক। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে আলিশা-ইমনকে নিয়ে ‘অন্তরঙ্গ’ নামের সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই বছরের মে মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর চাষী নজরুল ইসলাম জানতে পারেন তার শরীরে ক্যান্সার বাসা বেধেছে।

দেশীয় চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র চাষী নজরুল ইসলাম। একজন দক্ষ নির্মাতা হিসেবে এ অঙ্গনে যার বিচরণ পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। চলচ্চিত্র পরিচালনা প্রধান ক্ষেত্র হলেও প্রযোজনা ও অভিনয়েও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য পদচারণা।

১৯৬২ সালে ফতেহ লোহানীর ‘আছিয়া’ সিনেমার সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে পদার্পন করেন চাষী নজরুল ইসলাম। তারপর প্রখ্যাত সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ওয়াহেদ-উল-হকের সঙ্গেও বেশ কিছুদিন সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন তিনি।

চাষী নজরুল ইসলাম নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। তারপর তিনি ‘সংগ্রাম’, ‘ভালো মানুষ’, ‘বাজিমাত’, ‘বেহুলা লক্ষ্মীন্দর’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘হাসন রাজা’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘শাস্তি’, ‘সুভা’র মতো সিনেমা নির্মাণ করেছেন।

১৯৮২ সালে বুলবুল-কবরী-আনোয়ারাকে নিয়ে ‘দেবদাস’ নির্মাণ করেছিলেন। ২০১৩ সাল এসে শাকিব খান-অপু বিশ্বাস-মৌসুমীকে নিয়ে আবারো বানান সিনেমাটি।

১৯৮৬ সালে ‘শুভদা’, ১৯৯৭ সালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ২০০৪ সালে পান একুশে পদক।

চাষী নজরুল ইসলাম ২২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ছাড়া দুই প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ মওলানা ভাসানী ও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর তিনটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম নির্মাণ করেছেন তিনি।

এদিকে, চাষী নজরুল ইসলামের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের সহকর্মীরা ছুটে গেছেন হাসপাতালে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *