দেশপ্রেমিক হায়দার, দেশান্তরী রিটন এবং চাটুকারিতা
মতামত

দেশপ্রেমিক হায়দার, দেশান্তরী রিটন এবং চাটুকারিতা

দেশপ্রেমিক হায়দার, দেশান্তরী রিটন এবং চাটুকারিতা

ফজলে এলাহী


গত দুদিন ধরে অনলাইনে দেখছি কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশের জনপ্রিয় ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন একটি স্ট্যাটাস নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষে অনেক আলোচনা চলছে ।

রিটন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হায়দার হোসেনের জনপ্রিয় গান ‘৩০ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি’ গানটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলেছেন । সেই প্রসঙ্গে আমি কিছু বলতে চাই।

রিটনের স্ট্যাটাস দেখে বুঝলাম যে উনি হায়দার হোসেনের গানটি বুঝতে গিয়ে একটু বেশি বুঝে ফেলেছেন যা সঠিকভাবে না বুঝারই একটি লক্ষণ। হায়দার হোসেন গানটি গেয়েছেন আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে যখন স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স ৩০ বছর পার হয়েছিল ।

যে স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবীদার সরকার শাসন করছে আর শত শত বিরোধী মতের মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে তাহলে এটাই কি স্বাধীনতা?এর জন্যই কি ৩০ লক্ষ শহীদ রক্ত দিয়েছিল ? এটাই কি শহীদদের স্বপ্ন ছিল ?

হায়দার হোসেন ৩০ বছরে স্বাধীন বাংলাদেশের আর্থসামাজিক রাজনৈতিক- সংস্কৃতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে গানটি তৈরি করেছিলেন যা আজো এই স্বাধীন বাংলাদেশে বিদ্যমান । যে গানটির মুল বাণী হলো ৩০ লাখ শহীদ যে কারণে,যে স্বপ্ন নিয়ে রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল তাদের সেই স্বপ্ন কী আজো পূরণ হয়েছে ? উত্তরটা একদম সহজ যে পূরণ হয়নি, যার জলজ্যান্ত উদাহরন লুৎফর রহমান রিটন নিজেই ।

কারণ এই দেশ যে তার নাগরিকদের জীবন ও উন্নত ভবিষ্যতের নিরাপত্তা আজও দিতে পারেনি যার ফলে রিটন নিজ জন্মভূমি ছেড়ে সুদূর কানাডায় পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করেছেন । তিনি উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছেড়ে কানাডায় আজ দেড় দশক অর্থাৎ বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেই (শেখ হাসিনা সরকারের প্রথম শাসনামল)। যে দলটিকে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ধারক ও বাহক মনে করেন সেই দলের শাসনামলেই তিনি উন্নত জীবনের লক্ষ্য দেশ ছেড়ে কানাডায় পাড়ি জমিয়েছেন । বাহ,কি দারুন! কানাডায় বসে বসে তিনি দেশের স্বাধীনতা খুঁজে পান! রিটন শুরুতেই আপনাকে জানিয়ে রাখি যে হায়দার সুদূর কানাডায় বসে ঐ গানটি লিখেননি; বাংলাদেশে বসেই বাংলাদেশের সমসাময়িক বাস্তবতাকে উপলব্ধি করেই ঐ গানটি লিখেছিলেন ।

এবার আসি গানটির কয়েকটি কথা প্রসঙ্গে ।
কি দেখার কথা কি দেখছি? কি শোনার কথা কি শুনছি?
কি ভাবার কথা কি ভাবছি? কি বলার কথা কি বলছি?
তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।…

যা নিয়ে রিটনের খটকা যে স্বাধীনতা কি হাতছাড়া হয়ে গেলো নাকি? রিটন আপনি কানাডার আরাম-আয়েশের জীবনে থেকে কখনই বুঝবেন না এই দেশের সাধারন মানুষ আজ কি অবস্থায় আছে।

গত পরশুদিনের দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’র প্রথম পৃষ্ঠায় দেখবেন ১৯ জন নিখোঁজ মানুষের স্বজনদের কান্না ও আকুতির কথা। যে ১৯ জন মানুষকে এই দেশের রাষ্ট্রীয় শক্তি ধরে নিয়ে গিয়েছিল তাঁরা আজও ফিরে আসেননি ।

যে স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবীদার সরকার শাসন করছে আর শত শত বিরোধী মতের মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে তাহলে এটাই কি স্বাধীনতা? এর জন্যই কি ৩০ লক্ষ শহীদ রক্ত দিয়েছিল ? এটাই কি শহীদদের স্বপ্ন ছিল ?

১৫ বছর আগের তৈরি করা গানের কথাগুলো আজও কত বাস্তবরুপে দেখা দিয়েছে রিটন আপনি সেটা উপলব্ধি করতে পারবেন না। আপনার কানাডায় গিয়ে বেঁচে থাকার সামর্থ্য হয়েছে কিন্তু এই দেশের সাধারন মানুষগুলোর সেই সামর্থ্য নাই । যদি থাকতো তাহলে দেখতেন এই দেশ ছেড়ে কত কোটি মানুষ বিদেশে আজ পাড়ি জমিয়েছে । তারা নির্যাতিত নিপীড়িত হতে হতেই এই দেশে মরবে আর আপনারা স্বাধীনতাকে খুঁজে পাবেন তাদের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে সেটাই কি আপনি বুঝাতে চেয়েছেন ? একজন মুক্তিযোদ্ধাও সেদিন এমন রাষ্ট্র পাওয়ার জন্য , দেখার জন্য জীবন দেয়নি, যুদ্ধ করেনি । তাই হায়দার হোসেন ভাইয়ের ঐ কথাগুলো সঠিক ।

‘স্বাধীনতা কি বৈশাখী মেলা, পান্তা ইলিশ খাওয়া?’ এই প্রসঙ্গে আপনি বলেছেন ‘জ্বী জনাব, এটা আমরা অর্জন করেছি। এটাকে বন্ধ করতে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ২০০১ সালে বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে বোমা ফাটিয়ে হত্যা করেছিলো নিরিহ বাঙালিকে। আমাদের হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতিকে স্তব্ধ করতে ওরা হামলা করেছিলো রমনায় ছায়ানটের পহেলা বৈশাখ উদযাপন অনুষ্ঠানে। বৈশাখী মেলার আয়োজন করা, ওখানে পান্তা-ইলিশ খাওয়া এবং রবিঠাকুরের ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানটি গাইতে পারাই আমার স্বাধীনতার প্রতিচ্ছবি।’

জনাব রিটন, রমনা বটমূলে যে বোমা হামলাটি হয়েছিল সেটা কোন সরকারের আমলে ঘটেছিল মনে আছে আপনার? সেই ঘটনাটা ঘটেছিল তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার অর্থাৎ একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের ধারক ও বাহকের শাসনামলে । সেই জঙ্গি হামলার সঠিক তদন্ত কি সেদিন হয়েছিল? হয়নি। সেই সময়কার জঙ্গি হামলার পেছনে যে জঙ্গি ছিলেন তার নাম শায়খ আব্দুর রহমান যিনি তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের একজন নেতার ভগ্নিপতি ছিলেন । শুধু তাই নয় তৎকালীন সময়ে উদীচী বোমা হামলার ঘটনারও কোন সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি যেখানে একজন প্রবীণ নাট্যকার উপস্থিত ছিলেন এবং যিনি মঞ্চ থেকে নেমে বের হওয়ার পরপরেই বোমা হামলা ঘটেছিল।একটি গোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য এই দেশকে সেদিন জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে ঐ হামলাগুলো চালিয়েছিল যে সত্যটা বলার সাহস আপনার নেই । সেই সময়কার একটি জঙ্গি হামলারও সঠিক তদন্ত হয়নি উপরন্তু ২০০৬ সালে যে সকল র্যাব কর্মকর্তারা শায়খ আব্দুর রহমান , বাংলা ভাইকে গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারিতে এক ভয়াবহ চক্রান্তে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে তাদের জীবন দিতে হয়েছে । স্বাধীন দেশে ৫৭ জন সেনা অফিসারকে মেরে ফেলার নামই কি স্বাধীনতা?

‘পান্তা ইলিশ খাওয়া’ বাঙ্গালী সংস্কৃতি নয় । এটা বুর্জোয়া শ্রেণির দিবস ভিত্তিক একটি ব্যবসার কৌশল । আপনি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন যে আপনার সন্তানদের ১লা বৈশাখের মেলা ছাড়া বছরের অন্য কোন দিনে বা উৎসবে বাসায় পান্তা ভাত আর ইলিশ খাওয়ান? অবশ্যই খাওয়ান না। তাহলে এটা বাঙ্গালির সংস্কৃতি হলো কিভাবে? পান্তা ভাত, কাচা মরিচ আর পেয়াজ দিয়ে খেয়ে বাংলার গরিব কৃষক, শ্রমিক, মজুরেরা আজও ঘর থেকে বের হয় । তারা তো একবেলার জন্যও ইলিশ মাছ খুঁজে পায়না পান্তার সাথে। সেই পান্তাভাতটাকে নিয়ে আপনারা সংস্কৃতির প্রসার সাজিয়েছেন অথচ নিজেরাই বছরের অন্য কোন দিন বা উৎসবে পান্তা খেতে চান না। আপনার সন্তানদের আগে পান্তা ইলিশ খাওয়ানো শেখান দেখেন বাঙ্গালী সংস্কৃতি ওরা গ্রহন করে কিনা ।

যে গুলশান বনানীর তরুনরা রমনার বটমুলে পান্তা ভাত খেয়ে বাঙ্গালী সংস্কৃতি উদযাপন করে তাদের জিজ্ঞেস করে দেখেন তো বছরে কতদিন কয়বেলা পান্তা ভাত খেয়েছে?

আমি আপনাকে এমন তরুন দেখাতে পারবো যে তরুন শাহবাগে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার গান গায় নিয়মিত কিন্তু পান্তা ভাত দুই চোখে দেখতে পারেনা/ মুখে দিতে পারেনা।

তাহলে আপনি কি বলবেন ঐ তরুনটি বাঙ্গালী সংস্কৃতি শিখেনি? পান্তা ইলিশ বাঙ্গালী সংস্কৃতি নয় এটাই সত্য তাই এটাকে পালন করার কিছু নাই । এই কিছুদিন আগে ১ লা বৈশাখে টিএসএসসিতে নারিদের কাপড় খুলে নেয়া হলো সেটাও কি স্বাধীনতা বিরোধীদের কাজ?

যদি তাই হতো তাহলে সেই অপরাধের সাথে যারা জড়িত তাদের কেন গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হলো না বলতে পারবেন ?

নাকি ১ লা বৈশাখে নারীদের কাপড় খুলে নেয়া স্বাধীনতা অথবা বাঙ্গালী সংস্কৃতির কোনটা? এসব অবক্ষয়, নষ্টামি দেখার জন্যই কি শহীদেরা রক্ত দিয়েছিল ? অবশ্যই না তাই হায়দার ভাইয়ের গানের কথাগুলো সম্পূর্ণ যৌক্তিক ।

‘স্বাধীনতা কি শহীদ বেদিতে পুষ্পের সমাহার?’ … এই প্রসঙ্গে আপনি বলেছেন ‘আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। শহীদ মিনার আমার স্বাধীনতার প্রতীক। একুশে ফেব্রুয়ারিতে, ছাব্বিশে মার্চে এবং ষোলই ডিসেম্বরে শহীদ মিনারে স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ আমার স্বাধীনতারই আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ।’ যা অবশ্যই সঠিক কিন্তু রিটন আপনি কি বলতে পারবেন ভাষা আন্দোলনের শহীদ সালাম ,রফিক ,বরকত,জব্বার, শফিউরের পরিবারের সদস্যরা আজ কে কোথায় কেমন আছে? আপনি কি বলতে পারবেন ৩০ লক্ষ শহীদদের পরিবারের সবাই কি ভালো আছে ? পারবেন না। কারণ এই রাষ্ট্র তাঁদের খোঁজ রাখেনি ,শুধুই দিবস ভিত্তিক তাঁদের মনে করে ফুল দিয়ে স্মরণ করা ছাড়া এই রাষ্ট্র সেইসব ভাষা শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পরিবারের প্রতি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি ।

শহীদরা শুধু দিবস ভিত্তিক ফুল দিয়ে তাঁদের স্মরণ করার জন্য জীবন দেয়নি। তাঁরা বাঁচার মতো বাঁচাটা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল । যে পাকিস্থানিদের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে সম্পূর্ণ স্বাধীন সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন তাঁরা দেখেছিল তাঁদের সেই স্বপ্নটা আজও পূরণ হয়নি । আজও এই দেশে লাখো লাখো মুক্তিযোদ্ধার পরিবার অভাবে অনটনে দিনযাপন করছে সেখানে আপনাদের ফুল দেয়াটা তাঁদের কাছে নিছক তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় ।

এই রাষ্ট্র শহীদ,পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারগুলোর সুখ দুঃখের খবর নেয়নি যা শহীদদের আত্মার সাথে সম্পূর্ণ বেঈমানি ছাড়া আর কিছুই নয় ।সেই কারনেই হায়দার হোসেন গানটিতে প্রশ্ন তুলেছিলেন ‘স্বাধীনতা কি শহীদ বেদিতে পুষ্পের সমাহার?’-যা সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং যে প্রশ্নগুলোকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই ।

রিটন, এভাবে লাইনের পর লাইন লিখেও শেষ করা যাবে না হায়দার হোসেনের জীবনমুখী গানটির কথাগুলোর সপক্ষে যা আজও এই দেশে ভয়াবহ সত্য ।

সক্ষেপিত এই লেখায় যুক্তি দিয়ে বোঝালাম যে হায়দার হোসেনের গানটিকে ভিন্নভাবে দেখার কোন অবকাশ নাই । গানটির কথাগুলো আজো এই দেশে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বারবার। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর লাখো শহীদের পরিবারেরা খুঁজে বেড়ায় কিন্তু পায় না । হায়দার ভাইয়ের ঐ প্রশ্নগুলো যদি অযৌক্তিক হতো তাহলে আপনি নিজেই আজ সুদুর কানাডায় না থেকে নিজ দেশে পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিতে সুখে থাকতে পারতেন । কানাডার শীতল বাতাসে বসে বসে অনেক চেতনার গান গাওয়া যায় কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম যা বাংলাদেশের মানুষেরা স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবীদার সরকারের আমলেই আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে । আপনি কি জানেন প্রতিদিন কত বাংলাদেশিকে বিএসএফ হত্যা করে ? আপনি জানেন স্কুল, কলেজ, গাড়ি, বাড়ী,অফিস , হাসপাতালে কোথাও আমাদের মা বোনেরা নিরাপদ নয়? আপনি জানেন এই দেশে ৩/৪ বছরের শিশু থেকে শুরু করে কোন নারী নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারেন না?

আপনি কি জানেন এই দেশের বিরোধী মতের মানুষেরা ঘর থেকে বের হলে বাড়ী ফিরবে কিনা সেই নিশ্চয়তা তাঁদের পরিবারের মানুষেরা পায় না?

আপনি কি জানেন এই দেশে কত শিক্ষিত তরুন বেকার হয়ে আছে শুধুমাত্র বিরোধী মত বা আদর্শের হওয়ার কারণে?

আপনি কি জানেন এই দেশে আজো পথে ঘাটে নালা নর্দমায় মানুষের কংকাল পাওয়া যায়? স্বজনদের লাশ ভেসে উঠে খালে বিলে নদীতে সেটা কি জানেন? স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকার পরেও আজ সারা বাংলাদেশ অনিরাপদ, অনিশ্চিত এক ভবিষ্যৎ নিয়ে এই দেশের মানুষেরা নীরবে দিন যাপন করছে সেটা কি জানেন ?

আপনি কি জানেন স্বাধীনতার এই ৪৪ বছর পরেও আজ এই দেশের মায়ের গর্ভে থাকা সন্তানটিও নিরাপদ নয় ? যদি জেনে থাকতেন তাহলে একজন শিল্পীর জীবনমুখী একটি অসাধারন সৃষ্টিকে এভাবে রাজনৈতিকভাবে বিচার করে প্রশ্নবিদ্ধ করতেন না।

এভাবে পান্তা ইলিশ আর শহীদ বেদিতে ফুলের মাঝেই স্বাধীনতার সুখ খুঁজে পেতেন না। ‘স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন ’ এই সত্যটি হায়দার হোসেনের গানটির প্রতিটি লাইনে লাইনে ফুটে উঠেছে যা আপনার মতো সুখী মানুষ বুঝবেন না ।

হায়দার হোসেনের ভাগ্য ভালো যে আপনি দাঁড়ি রাখার কারণে আবার ওনাকে স্বাধীনতা বিরোধী কিংবা কোন জঙ্গি গোষ্ঠীর কেউ ভাবেননি ।আপনার স্ট্যাটাসটি পড়ে আমার এটাই মনে হয়েছে যে আপনি গানের কথা ও বাস্তবতা বুঝেন না । আর যদিও বুঝে থেকে স্ট্যাটাসটি দিয়ে থাকেন তাহলে আপনার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি যে আপনি ‘ছড়াকার’ থেকে আজ ‘চাটুকার’ হিসেবে নিজেকে ভাবতে ভালোবাসেন ।

রিটন ‘ছড়াকার’ থেকে ‘চাটুকার’ হলেন কবে একটু বলবেন কি? আসলে সময়টাই হয়েছে এমন যে এই দেশে আজ ভালো থাকার জন্য সবাই নিত্য নতুন ভাবে ‘চাটুকার’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে চায় যা আমাদের দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছুই নয় ।

____________________________
শিরোনাম ডট কম পোর্টালে প্রকাশিত মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, যা পোর্টালটির সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নাও হতে পারে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *