চট্টগ্রামে নৌবাহিনী ঘাঁটির মসজিদে ককটেল বিস্ফোরণ
জাতীয়

চট্টগ্রামে নৌবাহিনী ঘাঁটির মসজিদে ককটেল বিস্ফোরণ

চট্টগ্রামে নৌবাহিনী ঘাঁটির মসজিদে ককটেল বিস্ফোরণচট্টগ্রামে নৌবাহিনী ঘাঁটির একটি মসজিদে গ্রেনেড হামলায় কর্নেলসহ ১২ জন আহত হয়েছে। বিএনএস ঈশা খাঁ ঘাঁটি ও নৌবাহিনীর হাসপাতাল এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আহত কর্নেলের নাম ডা. জাহিদ। এছাড়া আহতদের একজনের অবস্থা গুরুতর। শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় পতেঙ্গার ঈশা খা ঘাঁটিতে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, চট্টগ্রামস্থ নৌবাহিনী ঘাঁটি ঈসাখান মসজিদে শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।

চট্টগ্রাম থেকে পুলিশ কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ হাজারী জানিয়েছেন, নামাজ শুরু হওয়ার পর প্রথম রাকাতেই এই হামলা চালানো হয়।

‘সুরা ফাতিহা পড়ার পরই দুটো গ্রেনেড ছুঁড়ে এই হামলা চালানো হয়েছে’ বলে জানান তিনি। সেখান থেকে অবিস্ফোরিত তিনটি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ বলছে, হামলার সময় মসজিদে দুশো জনের মতো মুসল্লি নামাজ পড়ছিল। ঘটনাস্থল থেকেই মুসল্লিরা আটক করে নৌবাহিনীর দুই সদস্যকে। পুলিশ বলছে, তৃতীয় গ্রেনেডটি ছোড়ার সময় স্থানীয় মুসল্লিরাই তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। আটক করা ব্যক্তিরা হলেন- নৌবাহিনীর ব্যাটম্যান রমজান ও বলপিকার মান্নান। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (বন্দর) জাহেদুল ইসলাম।

তিনি জানান, ব্যাটম্যান রমজানের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। সে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাস করে এক বছর আগে নৌবাহিনীতে যোগ দেয়। এছাড়া বলপিকার মান্নানের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। সে ছয় মাস আগে নৌবাহিনীতে যোগ দিয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দু’জনই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে কি কারণে তারা হামলা চালিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। সেই সাথে তারা কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছে কি না আরো বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চলছে। এমনটাই জানিয়েছেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

ঘটনাস্থল থেকে জাহেদুল ইসলাম আগেই বলেছিলেন, ‘নৌবাহিনীর সংরক্ষিত এলাকায় দুটি মসজিদ রয়েছে। একটি ঈশা খাঁ ঘাঁটির কাছে, আরেকটা হাসপাতালের কাছে। দুটো মসজিদের ভেতরেই বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে। বেশকিছু বোমা অবিস্ফোরিত অবস্থায় বাইরে পাওয়া গেছে। ছয়জন মুসল্লি আহত। তারা সবাই নৌবাহিনীর বেসামরিক কর্মকর্তা।’

তিনি জানান, ঈশা খাঁ ঘাঁটির মসজিদে দু’টি এবং নৌবাহিনীর হাসপাতাল এলাকার মসজিদে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে পুলিশ কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ হাজারী বলেন, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার জন্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

মসজিদটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। র‍্যাব ওই এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। সেখানে আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে। পুলিশ বলছে, আটক ওই ব্যক্তি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের ভুয়া সার্টিফিকেট দেখিয়ে নৌবাহিনীতে চাকরি নিয়েছিলেন।

যে মসজিদটিতে হামলা চালানো হয়েছে সেটি অত্যন্ত সংরক্ষিত এলাকায়। সাধারণ লোকজনের সেখানে প্রবেশাধিকার নেই। সাধারণত কলোনির লোকেরাই সেখানে নামাজ পড়তে যান।

আহতদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আর যিনি গুরুতর আহত হয়েছেন তাকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *