ঘামাচি থেকে মুক্তির ৭ উপায়

ঘামাচি থেকে মুক্তির ৭ উপায়

অসহ্য ঘামাচির সমস্যায় ভোগেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। বিরক্তিকর এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই দামী পাউডার বা ক্রিমও ব্যবহার করেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই ডাক্তারের শরণাপন্নও হন। কিন্তু চাইলে ঘরে বসেই কিছু ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

ঘামাচি কেন হয়?
অতিরিক্ত ঘাম ঘর্মগ্রন্থি দিয়ে বের হয়ে ত্বকের নিচে এসে জমা হতে থাকে। কিছু সময় পরে ঘামভর্তি ছোট ছোট ফুসকুরিতে পরিণত হয়ে ফুলে উঠে। এটাই হচ্ছে ঘামাচি। ঘামাচি তিন ধরনের হয়।

ম্যালেরিয়া
কৃস্টালিনা ধরনের ঘামাচি দেখতে প্রায় স্বাভাবিক বলেই মনে হয়। সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না।

ম্যালেরিয়া রুবরার
এর ক্ষেত্রে ঘর্মনালীতে বদ্ধতা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে ত্বকের ওপরে ছোট ছোট অসংখ্য গোটা হতে দেখা যায়। গোটার মাথায় পানির দানা থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। ত্বক স্বাভাবিকের চেয়ে আপেক্ষিকভাবে লালচে রঙের দেখা যায়। এক্ষেত্রে প্রচণ্ড চুলকানি থাকে। শরীরের মূল অংশ অর্থাৎ বুক, পিঠ ও ঘাড়ে বেশি হতে দেখা যায়।

ম্যালেরিয়া প্রফান্ডা
এর ক্ষেত্রে ঘর্মনালীর বদ্ধতা থাকে ত্বকের অনেক গভীরে। ফলে ত্বক দেখতে অনেকটা স্বাভাবিক ধরনের বলে মনে হতে পারে।

ঘামাচি থেকে মুক্তির ৭ উপায়

১. মুলতানি মাটি
চার-পাঁচ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি, ২-৩ টেবিল চামচ গোলাপজল ও পরিমান মতো পানি মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। ঘামাচি আক্রান্ত জায়গায় পেস্টটি লাগান ও ২-৩ ঘণ্টা রাখুন। তারপর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

২. বেকিং সোডা
এক কাপ ঠান্ডা পানিতে ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা নিন। একটি পরিস্কার কাপড় এতে ভিজিয়ে নিংড়ে নিন ও ঘামাচি আক্রান্ত জায়গায় লাগান।

৩. এলোভেরা
এলোভেরার রস বের করে ঘামাচি আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে রাখুন না শুকোনো পর্যন্ত। এরপর ঠান্ডা পানিতে গোসল করে নিন।

৪. বরফ
ঘামাচি আক্রান্ত জায়গাটিতে খুব ভালোভাবে বরফ ঘষে নিন। দিনে দু থেকে তিন বার করুন। দেখবেন, খুব জলদিই সেরে যাবে ঘামাচি।

৫. ঠান্ডা পানি
ঠান্ডা পানিতে একটি পরিস্কার সুতি কাপড় ভেজান। তারপর সেটি তুলে আক্রান্ত জায়গায় লাগান যতক্ষণ না জায়গাটি পানি শুষে নিচ্ছে। এভাবে দিনে ২-৩ বার করুন। এতে ঘামচি দ্রুত সেরে উঠবে।

৬. নিম পাতা
নিমপাতা ভালোভাবে বেটে নিন। খানিকটা পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন এবং আক্রান্ত জায়গায় লাগান। সম্পূর্ণ না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। নিমপাতার এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ঘামাচির জীবানু মেরে ফেলে দ্রুত আপনাকে ঘামাচি থেকে মুক্তি দেবে। কিছুক্ষণ পর তুলে ফেলুন। ভালো ফলাফল পাবার জন্যে দিনে ৪-৫ বার এটি করতে পারেন।

৭. লেবুর রস
প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ গ্লাস লেবুর শরবত পান করুন একটু বেশি করে লেবু মিশিয়ে। এটি ঘামাচি নিরাময়ে কাজ করবে স্রেফ জাদুর মতই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *