১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট

১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ করা হয়েছে।

১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ করা হয়েছে।১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ করা হয়েছে। ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’ নাম দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন। বেলা ১টা ৩৬ মিনিটে তিনি বাজেট পেশ শুরু করেন। এটি বাংলাদেশের দেশের ৪৬তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭তম এবং অর্থমন্ত্রীর একাদশ বাজেট।

যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা থেকে ২৬ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা থেকে আগামী বাজেটের আকার বেশি প্রায় ৮৪ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাথ ৯৩ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। মোট ঘাটতি ১ লাখ ৬ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে (এডিপি) ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরে যা ধরা হয় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে ঋণ ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ।

ঘাটতি ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা
২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। যা জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে।

২০১৫-১৬ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি ছিল ৫ শতাংশ। আর ২০১৩-১৪ এবং ২০১২-১৩ বছরে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল যথক্রমে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ও ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বাজেটের মোট আকার হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেট হচ্ছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে ৯২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ঘাটতি পূরণ করতে বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ ঋণের উপর নির্ভরশীল হয় সরকার।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে ৫ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ
পদ্মাসেতু প্রকল্পের জন্য ৫ হাজার ৫২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের (২০১৬-১৭) সংশোধিত এডিপিতে এ প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৬৭৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরের চেয়ে আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮৫০ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পদ্মাসেতুসহ উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দের কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছর পদ্মাসেতু প্রকল্পের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ সালের মধ্যে এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্য পূরণ করতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ইসির বরাদ্দ ১ হাজার ৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা
নতুন অর্থবছরের বাজেটে নির্বাচন কমিশনের জন্য ১ হাজার ৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে অনুন্নয়ন খাতে ৩০৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৭৬১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ছয় সিটি করপোরেশনের সাধারণ নির্বাচন এবং সংসদ ও স্থানীয় সরকারের নানা উপ-নর্বাচন ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক এ সংস্থার জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ২২০ কোটি টাকা কম।

নতুন অর্থবছরে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দের অর্থ দিয়ে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ, জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন, বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের সাধারণ ও উপনির্বাচন, উন্নত মানের (স্মার্ট) জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই অব্যাহত রাখা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন কার্যক্রম করতে হবে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে নতুন অর্থবছরে আপাতত বরাদ্দ রাখা হয়নি।

গত অর্থবছরে ডেটাবেজ সংরক্ষণে সার্ভার স্টেশন ভবন নির্মাণ, ইসি ভবন ও নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণের ব্যয় থাকায় বরাদ্দও বেশি ছিল। এ অর্থবছরে নতুন নির্বাচন ভবন ও ইটিআই ভবনের কাজ শেষ হয়েছে।

ব্যাংকে বেশি টাকা রাখলে করও বেশি
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত আগামী অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাবের সময় বলেছেন, এতদিন কোনো একাউন্টে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত রাখা হলে সেক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক আরোপ করা হতো না। এখন তা বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে।

তাই কেউ ব্যাংকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকে রাখলে কোনো আবগারি শুল্ক কাটা হবে না। তবে বছরের যে কোনো সময়ে একাউন্টে ১ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত রাখলে তার উপর ৮০০ টাকা আবগারি শুল্ক কাটা হবে। যা আগে ৫০০ টাকা ছিল।

১০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত রাখা হলে ওই হিসাবে আড়াই হাজার টাকা আবগারি শুল্ক কাটা হবে। যা আগে দেড় হাজার টাকা ছিল। ১ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত রাখলে শুল্ক কাটা হবে ১২ হাজার টাকা। যা আগে ছিল সাড়ে ৭ হাজার টাকা। আর ৫ কোটি টাকার বেশি রাখলে ২৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক কাটা হবে। যা আগে ১৫ হাজার টাকা ছিল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন এট অল লেভেলস’ নীতি ও দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি উন্নতির ফলে ব্যাংকিং খাতে লেনদেনের আকার ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। তাই রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর জন্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট অ্যাক্ট, ১৯৯৪ এ সংশোধনীর মাধ্যমে শুল্ক বৃদ্ধির এ প্রস্তাব করা হল।

রপ্তানিকারকদের উপর বাড়তি কর আরোপ করার প্রস্তাব
রপ্তানিকারকদের উপর বাড়তি কর আরোপ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। গার্মেন্টসসহ সব ধরণের রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎসে কর শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ (০.৭০%) থেকে বেড়ে তা এক শতাংশ (১%) হচ্ছে।

এর ফলে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করের উপর আরো প্রায় বাড়তি ৪৩ শতাংশ কর দিতে হবে। অবশ্য রপ্তানিকারকদের কর্পোরেট কর বিদ্যমান ২০ শতাংশ কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া যে সব স্বীকৃত গ্রিন কারখানার ক্ষেত্রে এই কর কমিয়ে ১৪ শতাংশ করা হচ্ছে।

গত বছরের বাজেটে রপ্তানির কর দশমিক ৬০ (০.৬০%) থেকে দেড়শ’ শতাংশ বাড়িয়ে এক দশমিক ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু গার্মেন্টস উদ্যোক্তাসহ রপ্তানিকারকদের জোরদার তদবিরে তা দশমিক ৭০ শতাংশে (০.৭০%) নামিয়ে আনা হয়। অবশ্য বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩ (বিবি) ধারায় রপ্তানির কর এক শতাংশ নির্ধারিত রয়েছে। গত বছর বিশেষ আদেশের (এসআরও) মাধ্যমে তা এক বছরের জন্য ০.৭০ শতাংশ করা হয়। চলতি অর্থবছর শেষে তা যথারীতি এক শতাংশ হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩ হাজার ৭শ’ কোটি মার্কিন ডলার। তবে বছর শেষে রপ্তানি আয় ৩ হাজার ৬শ’ কোটি ডলার হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সেই হিসেবে চলতি অর্থবছর রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎসে কর বাবদ দুই হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি আদায় হতে পারে। এর উপর দশমিক ৩০ শতাংশ কর বাড়ানো হলে আরো ৮শ’ কোটি টাকা বাড়তি কর পেতে পারে সরকার।

দেশের মোট রপ্তানির ৮২ শতাংশই আসে গার্মেন্টস খাত থেকে। গার্মেন্টস রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ইতিমধ্যে নানামুখী সংকটের কথা তুলে ধরে রপ্তানির কর বিদ্যমান ০.৭০ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। রপ্তানির প্রণোদনাও বাড়িয়ে যে কোন বাজারের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছিল। এছাড়া স্থিতিশীল কর কাঠামোও দাবি তাদের। তারা বলছেন, বছর বছর কর কাঠামো পরিবর্তন হওয়ার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গার্মেন্টস খাতের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করব। নিশ্চয়ই এ খাতের স্বার্থবিরোধী কোন সিদ্ধান্ত তারা নেবেন না। তিনি বলেন, যে কোন কর কাঠামো অন্তত পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ী হওয়া দরকার। তাতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

রপ্তানির মূল্যের উপর (এফওবি) উৎসে কর ধার্য করা হয়ে থাকে। বর্তমানে রপ্তানি ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে মোট প্রায় ৬০টি খাত থেকে উৎসে কর কর্তন করা হয়ে থাকে। মোট আহরিত করের ৫৭ শতাংশ আসে উৎসে কর্তনের মাধ্যমে।

আড়াই লাখ টাকাই থাকছে করমুক্ত আয়ের সীমা
২০১৭-১৮ অর্থবছরেও ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ২লাখ ৫০ হাজার টাকাই থাকছে। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তৃতায় এ কথা জানিয়েছেন।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটকে ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’ নাম দিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ধরা হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। বর্তমান অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা। নারী ও ৬৫–ঊর্ধ্ব করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা। এছাড়া অঞ্চলভিত্তিক ন্যূনতম করের হার ৫ হাজার, ৪ হাজার ও ৩ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৪ শতাংশ
২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হারের (জিডিপি) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য যে বাজেট পেশ করেন, তাতে তিনি প্রবৃদ্ধির এই আশা প্রকাশ করেন।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিলেন, এ বছর প্রবৃদ্ধির হার হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।এবার তার সালফ্যও তিনি পেয়েছেন। বিবিএস যে সাময়িক হিসাব দিয়েছে তাতে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রাক্কলন করেছে।

অর্থমন্ত্রী তাই আগামী অর্থবছরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদী।

এক লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার নতুন এডিপি
ফাস্ট্র ট্রাকভুক্ত মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন অগ্রগতি বাড়াতে বেশি বরাদ্দ দেওয়ায় বড় হয়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) আকার। আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (জুন ১) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় উন্নয়ন বাজেটের সঙ্গে নতুন এ এডিপিও উপন্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

যদিও মূল এডিপির আকার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর সঙ্গে সায়ত্ত শাসিত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা যোগ হয়েছে। মূল এডিপির মোট বরাদ্দের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ও বৈদেশিক উৎস থেকে ৫৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

চলতি মাসে শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরে মূল এডিপির আকার ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সে তুলনায় আগামী অর্থবছরে ৪২ হাজার ৬৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ হচ্ছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৫৫২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, মেট্রোরেল প্রকল্পে ৩৪২৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পে ৭৬০৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৬৭৭৯ কোটি ৪ লাখ টাকা, মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ারড বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২২২০ কোটি টাকা। দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মায়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পে ১৫৬১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

নতুন এডিপিতে খাত ভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ
আগামী অর্থবছরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। এ খাতে বরাদ্দ ৪১ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ বিদ্যুৎ খাতে ১৮ হাজার ৮৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষা ও ধর্ম খাতে ১৬ হাজার ৬৭৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা। চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে ১৪ হাজার ৯৪৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা এবং পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ১৪ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। কৃষি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার ৬ কোটি টাকা। পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ১৫৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। পানি সম্পদ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। শিল্প খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। যোগাযোগ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। গণ সংযোগ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫২৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৭২৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। নতুন এডিপিতে স্থানীয় সরকার বিভাগে বরাদ্দ ২১ হাজার ৪৬৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে বিদ্যুৎ বিভাগ ১৮ হাজার ৮৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১৬ হাজার ৮২০ কোটি ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
১৩১১টি প্রকল্প

আগামী অর্থবছরে ৯০টি নতুন প্রকল্পসহ মোট প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৩১১টি। এর মধ্যে বরাদ্দসহ মোট প্রকল্প সংখ্যা হচ্ছে ১ হাজার ১৯৫টি। (এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ৭৯টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১১২টি এবং জেডিসিএফ অর্থায়িত প্রকল্প রয়েছে ৪টি)। ৯০টি নতুন প্রকল্পের মধ্যে মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৭৭টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১২টি এবং জেডিসিএফ একটি।

কৃষিখাতে বরাদ্দ ২৪ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা
আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কৃষি খাতে ২৪ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ মোট বাজেটের ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭) এ বরাদ্দ ২০ হাজার ৩৩ কোটি টাকা, যদিও প্রস্তাবিত বাজেটে তা ছিল ২২ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। এবার বরাদ্দ বেড়েছে এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে বরাদ্দ মোট বাজেট বরাদ্দের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন। এবার উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলে জাতীয় বাজেটের আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা।

২৩৫টি কৃষক সেবা কেন্দ্র করা হচ্ছে
বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় মিলে কৃষি খাত।

বাজেটের তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলে কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এক হাজার ৯২৯ কোটি টাকা, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে এক হাজার ১২০ কোটি টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয়ে এক হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৫ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চলতি বাজেটে এ বরাদ্দ কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১৩ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এক হাজার ৮০১ কোটি টাকা, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে এক হাজার ৩৩ কোটি টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয়ে এক হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৪ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘কৃষি গবেষণালব্ধ ফলাফল, কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি এবং কৃষি সেবা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সারাদেশে ২৩৫টি কৃষক সেবা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও আমরা গ্রহণ করেছি।’

যেসব পণ্যের দাম কমছে

দেশীয় মোবাইল, ল্যাপটপ, আইপ্যাড
আইসিটি খাত রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান হিসেবে শুল্ক-কর প্রণোদনা এবং নীতিসহায়তা প্রদানের জন্য মোবাইল, ল্যাপটপ, আইপ্যাডের স্থানীয় সংযোজন ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ খাতের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য উপকরণ আমদানিতে শুল্ক রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হবে।

দেশীয় মোটরসাইকেল ও হাইব্রিড গাড়ি
মোটরসাইকেলের স্থানীয় উৎপাদন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ খাতের জন্য শর্তসাপেক্ষে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করে বিগত অর্থবছরে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। মোটরসাইকেল শিল্পে অগ্রসরমান দেশসমূহে অনুসৃত পদ্ধতি পর্যালোচনা করে ওই প্রজ্ঞাপনটিকে আরো যুগোপযোগী ও বিনিয়োগবান্ধব করে নতুনভাবে জারির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে অতি দ্রুত মোটরসাইকেলের স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করি। একই সঙ্গে হাইব্রিড যানবাহন বৃদ্ধি করতে শুল্কহার পুনঃনির্ধারণ করা হচ্ছে।

দেশীয় ব্যাটারি
দেশে উৎপাদিত ব্যাটারি দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানিও হচ্ছে। ইতিমধ্যে তৈরি পণ্যের আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক এবং কাঁচামালে নিম্ন শুল্কহার রয়েছে। আগামী বাজেটে এই সেক্টরের কাঁচামাল জিংক ক্যালট, আর্সেনিক, এন্টিমনির শুল্কহার হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কৃষি যন্ত্রপাতি
কৃষিকাজে আধুনিক পদ্ধতি অর্থাৎ যান্ত্রিক পদ্ধতির ব্যবহার পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কম খরচে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা যায় সে লক্ষ্যে বিদ্যমান ১ শতাংশ আমদানি শুল্কের আওতায় আরো কিছু কৃষি উপকরণ যোগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে কৃষি যন্ত্রপাতির মূল্য কমতে পারে।

সিরামিক
বর্তমানে দেশে সিরামিক শিল্পের ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। বাজেটে এই শিল্পের প্রতিরক্ষণ সুবিধা অধিকতর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ট্যাল্ক, মাইকা, অ্যালুমিনা লাইনার ইত্যাদি কাঁচামালের শুল্ক আরো হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ক্যান্সার প্রতিরোধক ঔষধসহ অন্যান্য ঔষধ
বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশের ঔষধ রপ্তানি হচ্ছে। প্রচুর সম্ভাবনাময় এই খাতকে আরো বিকাশিত করার জন্য এই শিল্পে ব্যবহৃত বেশ কিছু কাঁচামালে শুল্ক রেয়াত সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধক ঔষধের কাঁচামালও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কৃষি, মৎস্য, পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতে পণ্য
কৃষিখাতের আরো উন্নতিতে বিভিন্ন ধরনের চারাগাছের পরিচর্যায় ব্যবহৃত মালচ (Mulch) এবং গ্রিন হাউস প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত শেডিং নেটের ওপর শুল্কহার হ্রাস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে কৃষিপণ্যের বেশকিছু পণ্যের দাম কমতে পারে। একই সঙ্গে কৃষির অন্যতম উপখাত মৎস্য, পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পের খাদ্যসামগ্রী ও নানাবিধ উপকরণ আমদানিতে প্রয়োজনীয় আরো কতিপয় পণ্যে শুল্ক সুবিধা তথা প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চামড়াজাত শিল্প যন্ত্রপাতি
চামড়া দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি শিল্প এবং এক্ষেত্রে কাঁচামালের সিংহভাগ দেশেই উৎপন্ন হয়। এই খাতে ব্যবহৃত সব রাসায়নিক পণ্যকে অনেক আগে থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে এই শিল্পের প্রতিষ্ঠানসমূহকে বিদেশি ক্রেতাদের বিভিন্ন শর্ত অনুযায়ী নিরাপদ কারখানা স্থাপন করতে হচ্ছে। সে কারণে এই শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় Busbar trunking system এবং Electrical Panel কে মূলধনী যন্ত্রপাতির রেয়াতি সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

যেসব পণ্যের দাম কমছে
নতুন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ ঘোষণা দেন।

নতুন আইনে আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত প্রায় তিন হাজারের অধিক পণ্য ও সেবা ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। ফলে ওইসব পণ্যের দাম কমবে।

ভ্যাট অব্যাহতি পাওয়া পণ্যগুলো হলো- জীবন্ত ঘোড়া, গাধা, খচ্চর ও ঘোটক। জীবন্ত গবাদি পশু, ভেড়া ও ছাগল; জীবন্ত পাখিসমূহ। আড়াই কেজি পর্যন্ত গবাদি পশুর মাংস, শূকরের মাংস, ভেড়া বা ছাগলের মাংস, ঘোড়া, গাধা, খচ্চরের মাংস, হাঁস-মুরগির মাংস (টিনজাত ব্যতীত); জীবন্ত মাছ, আড়াই কেজি পর্যন্ত তাজা, টিনজাত অথবা হিমায়িত মাছ; আড়াই কেজি পর্যন্ত মোড়ক বা টিনজাত ব্যতীত কাঁটা ছাড়ানো মাছ ও মাছের মাংস, শুকনা, লবণাক্ত মাছ; খোলসযুক্ত বা খোলস ছাড়ানো শামুকজাতীয় প্রাণী।

প্যাকেটকৃত তরল দুধ, পনির, মাঠা; পাখির ডিম, মধু, আলু, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন, লিকস এবং অন্যান্য এ জাতীয় শাকসবজি; বাঁধাকপি, ফুলকপি, মাথাযুক্ত ব্রকলি, কোহিলাভি, কেইল; লেটুস, চিকোরি, গাজর, শালগম, সালাদ বিটমূল, স্যালসিফাই, সেলেরিয়াক, মুলা, শিম্বারকার শাকসবজি, সব ধরনের শাকসবজি, নারিকেল, কাজু বাদাম, সুপারিসহ ৫৪৯টি পণ্য।

সব প্রকার কলা, খেজুর, ডুমুর, আনারস, পেয়ারা, আম, গাব, লেবুজাতীয় ফল, আঙ্গুর, তরমুজ, আপেল, নাশপাতিসহ যেকোনো ফল; গোলমরিচ, ভ্যানিলা, দারুচিনি, লবঙ্গ, জায়ফল, জৈত্রী, এলাচ, মৌরী, ফেনেল, ধনিয়া, জিরা, আদা, জাফনার, হলুদ, তেজপাতা, কারি, মসলা, গম, মেসলিন; রাই, বার্লি, জই, ভুট্টা, ধান, সব প্রকার চাল, মুড়ি, সোরঘাম শস্য, বাজরা, ক্যানারাই বীজ।

ময়দা, আটা, চাল, গম, ভুট্টার তৈরি সুজি, সয়াবিন। চীনা বাদাম, তিসি, স্বর্ষপ, সূর্যমুখী ফুলের বীজ, অন্যান্য তেল, লেকোস্ট সীম, সামুদ্রিক আগাছা এবং অন্যান্য সমুদ্র শৈবাল, আখ, চালের কুড়ার তেল, চিনি ও আঁখের গুড়, চোলাইন, সব ধরনের লবন ইত্যাদি। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনকে নতুন মূসক কোনোভাবেই প্রভাবিত করবে না।
দেশের অভ্যন্তরে সকল অস্থায়ী হোটেল, রেস্তোরাঁয় খাদ্যদ্রব্য সরবরাহে মূসক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেসব হোটেল, রেস্তোরাঁয় খাওয়া দাওয়া করে তাতেও মূসক দিতে হবে না। ফলে এসব হোটেলে খেলে খরচ বাড়বে না।

জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণের মধ্যে রয়েছে- Ciplatin BP, Pxaliplatin BP, Carboplatin BP, 5-Fluorouracil BP, Methotrexate BP, Capecitabine USP, Temozolomide INN, Anastrozole USP, Erlotinib HCI INN, Gemcitabine HCI USP, Iphosphamide BP, Cyclophosphamide BP, Insulin and its salts, Desogestrel ethinyloestradiol and lynestrenal, Etoposide BP, Vincristine Sulfate USP, Doxorubicin HCL USP, Paclitex USP, Docetaxel USP, Sineprevir sodium, Lepipasvir, Sofobuvir, Ombitasvir, Partiaprevir, Ritonavir, Dasabuvir.

প্রোভিটামিনস ও ভিটামিন, সকল প্রকার জন্মনিরোধক, ভ্যাকসিন ফর হিউম্যান মেডিসিন, লিভার সিরোসিস, হেপাটাইটিস সিনিরাময়কারী, হোমিওপ্যাথিক, আয়ুবের্দিক, ইউনানী ও ভেষজ ওষুধসামগ্রী, কিডনি ডায়ালাইসিস, ক্যান্সার নিরোধক ওষুধ, ম্যালেরিয়ানিরোধক ও কুষ্ঠরোধ নিরোধক ওষুধ, থেলাসেমিয়া, প্রাথমিক চিকিৎসার জিনিস। ২০-৩০ ধরনের মেডিকেল ইক্যুপমেন্ট, হাসপাতালশয্যা।

দেশের মধ্যে (সরবরাহ) অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যানবাহনের মাধ্যমে পরিবহন সেবা, ভাড়াকৃত পরিবহন ছাড়া ট্যাক্সি, বাস, মিনিবাস, লঞ্চ, স্টিমার, ফেরির মাধ্যমে পরিবহন সেবা। এয়ারলাইন্স (চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়া প্রদানকারী সংস্থা ব্যতীত), খাদ্যশস্য পরিবহনকারী পরিবহন সেবা।

সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম মূসকের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। যেমন জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যসেবা, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ব্যতীত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সকল প্রশিক্ষণ (আগের আইনে শুধু সরকারি প্রশিক্ষণ মূসক অব্যাহতি ছিল), শিশু পালন কার্যক্রম, বয়স্ক, অক্ষম, দরিদ্র বা অক্ষম লোকদের আবাসিক সেবা (আগের আইনে অব্যাহতি ছিল না)। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমের জন্যপাঠ্যপুস্তক সরবরাহ কার্যক্রমে (আগের আইনে ৫% ভ্যাট ছিল)।

কৃষি কাজে ব্যবহৃত সকল উপকরণ যেমন বীজ, সকল প্রকার সেচ সেবা, বীজ সংরক্ষণ সেবা, মৎস্য, জলজপ্রাণী ও জলজ সম্পদ আহরণ ওসংরক্ষণ সংক্রান্ত সেবা, সকল প্রকার সার, কীটনাশক, যন্ত্রপাতি ইত্যাদিতে মূসক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। ডেইরি, ফাউন্ড্রি, পাটশিল্পেরকাজে ব্যবহৃত সকল যন্ত্রপাতিতে মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
খালি জমি বিক্রয়, হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে পণ্য উৎপাদন পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সরকারের ফাস্ট ট্রেক তালিকাভুক্ত সকল প্রকল্পে সরবরাহ, নির্মাণ, ইন্টারনেট ইত্যাদি সেবাকে মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

পিপিপি এর আওতাভুক্ত সকল প্রকল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছু প্রকল্পে মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সকল প্রকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিককর্মকাণ্ড, রেডিও ও টেলিভিশনে সম্প্রচার, শিল্পকর্ম, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, অপেশাদারি খেলাধুলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, লাইব্রেরি, সকল প্রকার জাদুঘর, আর্টগ্যালারি, চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশ মূল্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান, শ্যুটিং ক্লাব, সকল প্রকার সামাজিক সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলা, কৃষিপণ্য, উদ্যান বা পশু-পাখির মেলায় প্রবেশ মূল্য, ব্যাংকিং ও বীমা খাতের কমিশন ব্যতীত সকল বিষয় (ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত, সঞ্চয়), জীবন বীমা ও অগ্নি বীমা, স্টক মার্কেট ও তার সকল কাজ, কম্পিউটারও কম্পিউটার যন্ত্রাংশে মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

দেশে উৎপাদিত এলপিজি সিলিন্ডার, ফ্রিজ, টিভি, এসি ও মোটরসাইকেলে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহতি দেয়া আছে, তা বলবৎথাকবে। দেশীয় সফটওয়্যার উৎপাদন ও সরবরাহে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১০ হাজার ফ্ল্যাটের ঘোষণা
অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নত আবাসন সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে সারাদেশে ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রস্তাবিত বাজেট বক্তিতায় এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে নতুন অর্থ বছরের ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করছেন। এটা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের চতুর্থ বাজেট।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সরকার, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সরকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণ, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেয়া এবং মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পরবর্তী প্রজন্মের কল্যাণে আমাদের চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালে গণহত্যা-নির্যাতন, বধ্যভূমি, গণকবর চিহ্নিতকরণ, এ সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার তৈরি, প্রদর্শনী এবং প্রকাশনার লক্ষ্যে গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও আমরা গ্রহণ করবো।

শেখ হাসিনা যা চান, বাজেট তাই: খালেদা জিয়া
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘এ বাজেট হলো লুটপাটের বাজেট। অর্থমন্ত্রী কিছু করতে পারেন না। এ বাজেটও তৈরি হয় হাসিনার কথামতো। কাজেই হাসিনা যা চান, বাজেট তাই।’

আজ বৃহস্পতিবার ২০১৭-১৮ সালের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ইফতার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে ওই ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দুপুরে জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ বাজেট কি আর বাজেট থাকবে নাকি। পরে দেখবেন যে প্রকল্পে এখন আছে ১০-২০ হাজার কোটি টাকা, সেটাকে ৩০ হাজার কোটি বানাবে। তারপর আবার ৪০ হাজার হবে।’

খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে চুরি করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়: ড. সালেহউদ্দিন
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। তার মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু গাণিতিক হিসাবই প্রধান্য পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত বাজেট প্রসঙ্গে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী অর্থবছরের জন্য ধার্যকৃত ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বাজেটের যে গাণিতিক হিসাব রয়েছে, তা থেকে এবারের বাজেটও ভিন্ন কিছু নয়। এই বাজেট হচ্ছে সরকারের টাকা আয়ের বাজেট। সরকার টাকা আয় করবে আর সরকারই ভোগ করবে।

তিনি আরো বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগের কোনো ক্ষেত্র তৈরি হবে না। শিল্পের উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নেই। এক পোশাক শিল্পের উপরেই বাজেটে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে অন্য শিল্প গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে।

শিল্প-বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থানের বাড়বে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, বিশাল বাজেটের জন্য সাধারণ মানুষের পকেট কেটে টাকা আদায় করা হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বাজেটে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।

উল্লেখ্য, ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের’ নাম দিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি মুহিতের একাদশ বাজেট। আর বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে টানা নবম বাজেট। এর আগে মুহিত ১৯৮২-৮৩ এবং ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে দু’বার বাজেট পেশ করেছিলেন।

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা থেকে ২৬ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা থেকে ৮৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *