'গুম হওয়াদের ফিরিয়ে দিলে মা-বোনেরা শান্তি পাবে'
জাতীয়

‘গুম হওয়াদের ফিরিয়ে দিলে মা-বোনেরা শান্তি পাবে’

'গুম হওয়াদের ফিরিয়ে দিলে মা-বোনেরা শান্তি পাবে'রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘দ্রুত খুনি-ডাইনি সরকারকে বিদায় করা হবে’— এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী হতে হবে, সংগঠিত হতে হবে। তাহলে অতিদ্রুত এই অত্যাচারী, খুনি, ডাইনিকে (শেখ হাসিনা) বিদায় করে দেশে উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। গুম হওয়াদের ফিরিয়ে দিতে পারলে মা-বোনেরা শান্তি পাবে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শুধু সন্ত্রাসী, স্বৈরাচারী নয়; এরা ডাইনি, রক্তপিপাসু। রক্তের প্রতি তার (শেখ হাসিনা) নেশা হয়ে গেছে। রক্ত দেখলে এরা থাকতে পারে না।’

প্রায় ৫০ মিনিটের বক্তব্যে খালেদা জিয়া সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচন, সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেনে। এছাড়া দেশে বিদেশি বিনিয়োগ, উন্নয়ন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি ক্ষমতায় থাকাকালে নিজেদের উন্নয়নের ফিরিস্তিও তুলে ধরেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ভেদাভেদ ভুলে দলকে শক্তিশালী করতে এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার করতে প্রস্তুতি নেওয়ারও আহ্বান জানান।

দেশ গণতন্ত্রহীন অবস্থায় রয়েছে— এমন দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র এখন নির্বাসিত। গণতন্ত্রের দরকার নেই, সরকার উন্নয়নের কথা বলছে। কিন্তু আমরা তো উন্নয়ন দেখি না। ঢাকা শহরে ফ্লাইওভার বানানো হচ্ছে। কারণ এ থেকে বড় বড় কমিশন পাওয়া যায়। অথচ গ্রামগঞ্জে হাহাকার চলছে। তাই মানুষ ঢাকা ছুটছে। কুইক রেন্টালের মাধ্যমে লুটপাট হচ্ছে। অথচ বিদ্যুৎ নেই।’

তিনি বলেন, ‘সুষম উন্নয়ন হয়নি বলে রাজধানীর ফুটপাতে বসে মানুষ কিছু করে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তাই এদের দোষ দেব না। গ্রামে উন্নয়ন হলে মানুষ শহরে আসত না।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, গণতন্ত্র তো নেই, স্বৈরতন্ত্রও নেই; হয়েছে রাজতন্ত্র কায়েম। এক ব্যক্তি যা ইচ্ছা করবেন, তার ইচ্ছাই সব। তাকে সালামি দিয়ে ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। এটাই হলো আজকের সত্যিকারের গণতন্ত্র।’

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘কারচুপি, ভোট ডাকাতি আর ছিনতাই করে আনন্দ করার কিছু নেই। ভোট ডাকাতি করে জেতার মধ্যে আনন্দ নেই। মনে মনে ভাবেন কারা আপনাদের সহযোগিতা করেছে, কারা সিল মেরেছে।’

তিনি বলেন, ‘পরশুদিন যে নির্বাচন হয়ে গেল তাতে আমরা সকল স্থানীয় নির্বাচনের মতো এতে অংশ নিয়েছি। আপনারা দেখেছেন উপজেলা, সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে এটা শুরু হয়েছে। ওই নির্বাচনেও সন্ত্রাস হয়েছে। আওয়ামী লীগ চেয়েছিল তাদের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। তারা তলে তলে সব ঠিক করে রেখেছিল। কিন্তু মানুষ ভোট দিতে আসতে পারায় পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়েছিল। তারা বুঝতে পারেনি যে বিএনপি জিতে যাবে।’

ফেনীতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র ও প্রায় সব কাউন্সিল প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সবগুলো নিয়ে গেছে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ফেনীতে বিএনপির কী এতই আকাল পড়েছে যে, নমিনেশনই সাবমিট করতে পারেনি তারা!’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হাসিনা-রকিব মার্কা নির্বাচন অচল। তাদের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, হতে পারে না- এটা পৌরসভা নির্বাচনে আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে। তাই বলে কি দেশে নির্বাচন হবে না? অবশ্যই হবে। আমি বিশ্বাস করি, যারা এত মানুষ হত্যা, গুম, খুন করেছে; এত মা-বোনের চোখের পানি বৃথা যাবে না। আগামীতে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। জনগণ সুযোগ পেলে ঠিক জায়গায় তাদের ভোট দেবে।’

‘নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নষ্ট করা হয়েছে, তাদের দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করা হয়েছে’— এমন দাবি করে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারাও এ দেশের সন্তান। আপনাদের যতদিন চাকরির বয়স আছে চাকরি করবেন। যদিও আপনাদের ভয় দেখানো হয়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চাকরি থাকবে না। আমরা জানি চাকরি বাঁচাতে আপনারা বাধ্য হচ্ছেন। আমরা অভয় দিচ্ছি, আপনাদের চাকরি যাবে না।’

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এরা অথর্ব, মেরুদণ্ডহীন। আমরা সেনা মোতায়েনের দাবি করলেও তারা বলেছেন সব ঠিক আছে। আর কত অনিয়ম হলে তারা সেনা মোতায়েন করবেন।’

ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসানসহ ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তাদের মুক্তি দিতে হবে। সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।’

পরে অবশ্য তিনি বলেন, ‘কার কাছে মুক্তি দাবি করব। এই অবৈধ সরকারের কাছে? এরা তো আরও মামলা দেবে। আগামী দিনে গণতান্ত্রিক সরকার ফিরে এলে তবেই না এই দাবি হবে। তাই বিচারপতিদের কাছে দাবি করতে পারি, এদের মিথ্যা মামলা যেন প্রত্যাহার হয়ে যায়। কারণ তারা তো একটা প্রতিষ্ঠান।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘ইলিয়াস আলীকে কীভাবে গুম করা হয়েছে, সেটা দেশের মানুষ দেখেছে। ইলিয়াস আলী ছিল রাজপথের একজন পরীক্ষিত নেতা। ছাত্র রাজনীতিতে তার অবদান অনস্বীকার্য। ছাত্রদলের সাবেক নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুর কোনো দোষ ছিল না। তাকে জেলে রাখা হলো। তাকে সাজা দেওয়া হলো। জেলে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেল ছেলেটি। ছাত্রদলে তার অবদান কোনো অংশে কম ছিল না। কিন্তু রক্তপিপাসু সরকার তাকে বাঁচতে দিল না।’

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে সরকার। অথচ গুলশান, বনানীর মতো জায়গায় বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে দেশ চলতে পারে না।’

ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের বয়স হয়েছে। আমরা চলে যাব। তোমরা যাতে আমাদের জায়গা পূরণ করতে পার সেভাবে তোমাদের তৈরি হতে হবে। আমরা সবাইকে মূল্যায়ন করতে চাই। সবাই আমার সন্তানের মতো। কিন্তু আমাদের জায়গা কম। তাই সবাইকে বলব, পদ না পেলে কেউ গ্রুপিং করবে না। বড় ভাই পদ দেয়নি তাই বলে তার বিরুদ্ধে কিছু করা ঠিক হবে না। যারা ছাত্রদলে থাকবে না তাদের অন্য সংগঠনে সুযোগ দেওয়া হবে। তাই সবাইকে যা দেওয়া হবে তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ সব দখল করে নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পরিবেশ নেই। শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। কিন্তু ছাত্রলীগ শিক্ষকদের অসম্মান করছে। সেখানে তোমরা যারা ছাত্রদলের নেতাকর্মী আছ তোমাদের প্রতিবাদ করতে হবে। সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে তোমাদের প্রতিবাদ শুরু করতে হবে।’

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আকরামুল হাসানের সঞ্চালনায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রদলের সাবেক নেতা শামসুজ্জামান দুদু, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শফিউল বারি বাবু, শিরিন সুলতানা, সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ। এছাড়া ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

দর্শক সারিতে দলের সিনিয়র নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র সমাবেশ শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *