গাজীপুরে কাল হরতাল, সারাদেশে বিক্ষোভ

গাজীপুরে শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।

গাজীপুরে শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।গাজীপুরে শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।

গাজীপুরে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত জনসভাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করায় সমাবেশের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শুক্রবার রাতে বৈঠকে বসেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সোয়া ৮টার দিকে সেখানে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। অতি জরুরি বৈঠক বলেই নিয়ম ভঙ্গ করে এদিন গুলশান কার্যালয়ে আসেন তিনি। কারণ শুক্রবার সাধারণত কার্যালয়ে আসেন না খালেদা জিয়া।

বৈঠক শেষে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন জেলায় শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

রাজধানীর গুলশানের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে শুক্রবার রাত ৮টা ২৫ মিনিটে এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, গাজীপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্ধারিত সমাবেশ ছিল ২৭ ডিসেম্বর। কিন্তু জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে তা বানচাল করে দিয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অনৈতিক ও অবৈধ এ সরকার ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে সমাবেশ বানচালের জন্য বেআইনিভাবে রাতের বেলায় গুলি চালায় এবং পুলিশের ছত্রছায়ায় সভাস্থল দখলে নেয়।

ফখরুল বলেন, আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, দেশনেত্রীর নেতৃত্বে আমরা সেখানে যাব। কিন্তু জেলা প্রশাসক ১৪৪ ধারা জারি করে। এর আগেও অবৈধ এ সরকার ঢাকা শহরে আমাদের সমাবেশ করতে দেয়নি। এতে প্রমাণ হয়েছে, সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, সমাবেশ করতে না দেওয়ায় সরকার গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করলো। পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আওয়াল মিন্টু, রুহুল আলম চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, জেলার সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও গাজীপুর জেলার নেতা হাসান উদ্দিন সরকার, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

এছাড়া গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন—যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, গাজীপুর জেলা বিএনপির নেতা সালাহ উদ্দিন সরকার, এসএম শাহান শাহ আলম, হেলাল উদ্দিন আহমেদ (ভিপি হেলাল) প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ২৭ ডিসেম্বর বিএনপির জনসভা ও একই স্থানে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে গাজীপুরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ ধারা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *