গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ প্রশাসনিক কার্যক্রম

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ প্রশাসনিক কার্যক্রম

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ প্রশাসনিক কার্যক্রমবিধান মুখার্জী, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসন (বিবিএ) বিভাগের অনুমোদনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২৩ মে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরণের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

২০১১ সাল থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসার পর হঠাৎ করেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএসহ সাতটি বিভাগের অনুমোদনের ব্যাপার অস্বীকার করার পর থেকেই বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

প্রশাসনিক ভবনে তালা দেবার পর বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রদক্ষিণ করে এবং একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনে ঢুকতে না পারা একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থানরত রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেনকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকে। এসময় রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা ‘আর কোন আশ্বাস নয়, সমাধান চাই’ বলে সমস্বরে স্লোগান দিতে থাকেন।

বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা জাহান কনক জানান, ‘ বিবিএ বিভাগের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। সাতবছর ধরে শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলতে দেবার পর হঠাৎ করে আমাদের পাঁচশত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে ফেলা যাবে না’।

বিবিএ বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের ক্রীড়া সম্পাদক রনি বলেন, ‘ আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীত। আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় বিবিএ বিভাগের অনুমতি দিতেই হবে। আমরা আমাদের দাবি অবশ্যই আদায় করব’।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেনের কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ২০১১ সাল থেকে বিবিএ বিভাগের কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। ভর্তির জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দিলে এত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে কিভাবে? আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েই শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়েছি। ইউজিসি তখন কিছু না জানিয়ে এখন জানাচ্ছে। আমরা নিয়ম মেনেই সব কিছু করেছি। নতুন সিলেবাস প্রণয়নের জন্য আবেদন এবং বরাদ্দ ফি-ও দিয়েছি। ১৯৯৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুমোদন দেবার সময় বলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাখিলকৃত পাঠ্যসূচী, শিক্ষক তালিকা সুষম ও নিবিড়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এইসব কোর্স কারিকুলাম পাঠ্যসূচী অনুমোদন করেছে। এরপরও আমাদের অনুমতি নেই এটা একেবারেই অযৌক্তিক’।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পদক্ষেপ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই অনুমোদন নেই ব্যাপারটি নিয়ম বহির্ভূত । আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি এবং আমাদের সপক্ষের সমস্ত প্রমাণাদি আদালতে পেশ করেছি’।

পাঁচশত ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *