নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকনের ইন্তেকাল

নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকনের ইন্তেকাল

নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকনের ইন্তেকাল বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম গুণী নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকন ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিঊন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

সোমবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

তার স্ত্রী জয়া ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, খোকনের এই কষ্ট আমরা সহ্য করতে পারছিলাম না। অনেক যন্ত্রণা নিয়ে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন।

রাজধানীর উত্তরা ৪ নাম্বার সেক্টরে বাদ জোহর শহিদুল ইসলাম খোকনের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর পরপরই গুণী এই নির্মাতার মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ও দ্বিতীয় নামাজে জানাজার তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল এফডিসিতে নিয়ে আসা হবে। এসময় চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন, নির্মাতা ও কলাকুশলীরা উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে সোমবার দুপুরে শহিদুল ইসলাম খোকনের মরদেহ উত্তরার বাসায় নেওয়া হয়েছে। এফডিসিতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে উত্তরার ৪ নং সেক্টরের কবরস্থানে দাফন করা হবে।

শহীদুল ইসলাম খোকনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও পরিবেশক এবং শিল্পীসমিতি। এ ছাড়াও শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি।

১৯৭৪ সালে মাসুদ পারভেজ পরিচালিত ‘দস্যু বনহুর’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন শহীদুল ইসলাম খোকন।

১৯৮৫ সালে ‘রক্তের বন্দী’ ছবির মাধ্যমে মূল পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টি ছবি পরিচালনা করেছেন তিনি।

এরপর তিনি রুবেলকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘লড়াকু’, ‘বীরপুরুষ’, ‘বজ্রমুষ্ঠি’, ‘বিপ্লব’, ‘অকর্মা’, ‘সতর্ক শয়তান’, ‘বিষদাঁত’, ‘টপ রংবাজ’, উত্থান পতন’ প্রভৃতি ব্যবসাসফল ছবি।

২০১৪ সালে মুখগহ্বরে মটরনিউরো ডিজিসে (এএলএস) আক্রান্ত হন তিনি। ওই বছরের ১০ই সেপ্টেম্বর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নেয়া হয়। সেখানে বেলভিউ হাসপাতালের চিকিৎসকরা এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই বলে তাকে দেশে ফেরত পাঠান।

এরপর গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে রাজধানীর উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *