খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলাসর্বশেষ দীর্ঘ সাড়ে ১১ ঘণ্টা যাত্রা শেষে রাত সোয়া ১০টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে রাত্রি যাপন শেষে আগামীকাল রোববার বেলা ১১টায় কক্সবাজার সার্কিট হাউজের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে তার।

কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীতে একাধিক স্থানে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা পাঁচ সাংবাদিকসহ বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

শনিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে মোহাম্মদ আলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।

বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি ফেনীর সার্কিট হাউসে পৌঁছে। বহরের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের গাড়ি মোহাম্মদ আলী বাজার অতিক্রম করার সময় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন ব্যারিকেড দিয়ে সাংবাদিকদের গাড়ি ভাংচুর করে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এদের কারও কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গেছে। হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন ফেনীর শর্শদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনী রিয়েল। ঘটনার সময় তোলা ছবি, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং রিয়েলের ফেসবুক একাউন্ট থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার সময়ের ছবিতে দেখা যায়, সবুজ টি-শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা রিয়েল হাতে ইট নিয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আহত সাংবাদিকরাও পরে ছবি দেখে রিয়েলকে চিহ্নিত করেছেন।

বিএনপি বলছে, প্রায় ৩০ জনের মতো লোক লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় উঠে এসে হঠাৎ করেই হামলা চালায় এবং ৪০ থেকে ৪৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িসহ বহরের ৩০টির মতো গাড়ি ফতেহপুর রেলক্রসিং অতিক্রমের পরপরই ৪০-৫০ যুবক লাঠিসোটা নিয়ে সড়কে উঠে আসে। কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগদলীয় মেয়র হাজি আলাউদ্দিনের মালিকানাধীন স্টার লাইন পেট্রোল পাম্পের কাছ থেকে গাড়িবহরে হামলা শুরু হয়।

৭১ টিভি, বৈশাখী টিভি, ডিবিসি টিভি, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের গাড়ি ও ক্যামেরাসহ অর্ধশত গাড়ি ভেঙে চুরমার করে দেয়া হয়েছে। অন্য সাংবাদিকরা রাস্তা পরিবর্তন করে কোনোভাবে বেঁচেছেন।

ফেনী থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে এনটিভিসহ বেশ ক’টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে সাংবাদিকদের ক্যামেরাও।

এসব হামলা এছাড়াও জেলার লালপুলে বিএনপি নেত্রীর গাড়িবহরে থাকা নেতা-কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা একটি হোটেলেও ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা হামলা চালিয়েছে বলে বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে ।

দলীয় সূত্র জানায়, ফেনী দেবীপুরের হামলায় যুবদল-ছাত্রদলের ১০ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম জানা যায়নি।

মিডিয়ার কয়েকজন সাংবাদিককে বহনকারী একটি গাড়ি খাবার গ্রহণের জন্য মহীপালের একটি রেস্তোরাঁয় দাঁড়ানো মাত্র শতাধিক ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডার এসে কোনও কথা না বলেই গাড়িটির সামনের ও পাশের কাঁচ ভেঙে ফেলে। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরেও তাদের রেহাই দেয়া হয়নি। খাবার খেতে না দিয়েই তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়।

বিএনপি নেত্রীর গাড়িবহর মহীপাল এলাকা অতিক্রম করার সময় সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়িতে প্রথম হামলার ঘটনাটি ঘটে । সেখানে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডাররা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ঢিল ছুড়লে সেটি এসে লাগে বহরে থাকা বৈশাখী টেলিভিশনের গাড়িতে। এতে গাড়িটির গ্লাস ভেঙে যায় এবং এর ভাঙা কাচ লেগে হাত কেটে যায় বৈশাখীর সিনিয়র রিপোর্টার গোলাম মোরশেদ বিজুর। একই গাড়িতে থাকা ৭১ টিভির বিশেষ প্রতিনিধি শফিক আহমেদও এ সময় আহত হন। সেখানে ৭১ টিভির ক্যামেরাও ঢিলের আঘাতে ভেঙে যায়।

ফেনী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন মিস্টার অভিযোগ করেন, ফেনীতে চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানাতে টাঙানো একাধিক ব্যানার ফেস্টুন ভেঙে আগুন দিয়েছে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডারেরা।

শনিবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবীপুরের বিসিক রাস্তা ও মহীপাল এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে এ ঘটনা ঘটায় তারা । নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের অনুষ্ঠানে যোগদান থেকে মানুষকে বিরত রাখতেই এ ধরনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছাড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এর আগে দুপুর একটায় কুমিল্লায় খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য আসা বিএনপি নেতা কর্মীদের ওপর হামলা করে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ওই বিকেল ৪টার দিকে অতিক্রম করে।

এর আগে সকাল বেলা সাড়ে ১০টার পরে গুলশানের বাসভবন থেকে তাকে বহনকারী গাড়িবহর রওনা হয়।

ফেনীতে প্রবেশের সাথে সাথে হাজার হাজার নেতাকর্মী খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান। সার্কিট হাউজে পৌঁছানোর পরপরই সেখানে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। শ্লোগানে শ্লোগানে সার্কিট হাউজের আশপাশ মুখরিত হয়ে উঠেছে।

নেতাকর্মীদের ভিড়ে চট্টগ্রামমুখী মহাসড়কের অর্ধেক ছিল তাদের দখলে। প্রায় ১ কিলোমিটারের বেশি স্থান জুড়ে কুমিল্লা ও আশেপাশের এলাকার নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, ব্যানার নিয়ে স্লোগান দেয়।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে তাদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দিবেন।

এই কর্মসূচি সফলে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে ফখরুল সকালে বলেছিলেন, ‘আমরা আশা করি, পথিমধ্যে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা পাব। পুলিশ মহাপরিদর্শক আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, তারা দেশনেত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন এবং তার সফর যাতে সুন্দরভাবে হয়, তাতে সহযোগিতা করবেন।’

বিএনপি মহাসচিব জানান, খালেদা জিয়ার এই সফরে ১০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *