খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পাশে বোমা হামলা

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পাশে বোমা হামলা

12
0
SHARE

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পাশে বোমা হামলাসর্বশেষ কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে রাত ৯টায় ‌রাজধানীর গুলশানের বাসভবনে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া

কক্সবাজার থেকে ত্রাণ বিতরণ শেষে ফেরার পথে ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পেছনে দুটি বাসে পেট্রোল বোমা হামলা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার গাড়ির ১০ গজ ও স্থানীয় র‌্যাব অফিসের ১০০ গজের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। তারা আরও জানান, ক্ল্যাসিক ও শান্ত পরিবহনের দু’টি বাস (নং- ১১-০০৯৬, ১১-১৮৯৬) স্থানীয় নাজির আহমেদের সিএনজি পাম্প থেকে গ্যাস নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল। এ সময় অজ্ঞাত ২০/২৫ জন দুর্বৃত্তরা গাড়ি দু’টি লক্ষ করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে এবং গুলি ছোঁড়ে। দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া পেট্রোল বোমা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরটি মহিপাল এলাকা অতিক্রম করার সময় ওই পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।

খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা অপেক্ষমাণ বিএনপি-যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়

বিএনপির চেয়ারপারসনের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, গাড়িবহরের পেছনের দিকে হামলা চালানো হয়। বিকেলে ঢাকায় ফেরার পথে বোমা হামলা, ভাঙচুর ও গোলযোগ সৃষ্টি করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফেনী জেলা বিএনপির সহসভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান জানান, সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালায়। তবে ছাত্রদলের কঠোর অবস্থানের কারণে এই হামলা সফল হয়নি। এ ঘটনাটি সরকার দলীয়দের পূর্বপরিকল্পিত বলেও দাবি করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার বহরের পেছনের গাড়িতে থাকা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ বলেন, চেয়ারপারসনের গাড়িবহর পার হওয়ার কিছুক্ষণ পর উল্টো পাশে দুটি বাসে আগুন জ্বলতে দেখি। এ সময় বহরে থাকা কিছু নেতাকর্মী দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা সিনিয়র নেতারা গাড়ি থেকে নেমে ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক পুরো রাস্তা অবরোধ করে ফেলি। এ সময় আশপাশের বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটে আসেন।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ সদস্য বলেন, আমরা একটু পেছনে ছিলাম। ঘটনার কয়েক মিনিট পরেই আমরা স্পটে ছুটে যাই। বাস দুটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

বিএনপির বহরে থাকা সহসাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান বলেন, দুর্বৃত্তরা দুটি বাসে আগুন দিলেও চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীতেই হামলার শিকার হয় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। ফেনী শহরের কাছে ফতেহপুরে মোহাম্মদ আল বাজার পার হওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা গণমাধ্যমের গাড়িসহ ১৫-১৬টি গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। হামলায় ১১ জন সাংবাদিকসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

বিক্ষোভ মিছিল থেকে ৪ জন আটক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ সময় বিক্ষোভ মিছিল থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়।

সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ওই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলে অংশ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সানাউল্লাহ মিয়া, এমএ মালেক, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনীর হোসেন প্রমুখ।

মিছিল থেকে পুলিশ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ফরহাদ, মহানগর পশ্চিমের মিজান ও শ্রমিক দলের মতিঝিল শাখার দেলোয়ারকে আটক করে।

Comments

comments