আলো’র ক্ষুদে চিত্রশিল্পী তৈরির পাঠশালা

আলো’র ক্ষুদে চিত্রশিল্পী তৈরির পাঠশালা

171
0
SHARE

আলো’র ক্ষুদে চিত্রশিল্পী তৈরির পাঠশালাতাহসিন আহমেদ
আলো আর্ট স্কুল ২০১২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে যাত্রা শুরু করে। মাত্র ৬ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। দক্ষিণ শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনীর সমাজকল্যাণ পরিষদ ভবনের মাত্র একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আলো আর্ট স্কুলের ক্ষুদে চিত্রশিল্পী তৈরির পাঠশালার স্বপ্নযাত্রার সূচনা করেন বশীর উল্লাহ মজুমদার আলো।

পাশাপাশি ঢাকার আরামবাগে রয়েল একাডেমী কিনডারগার্ডেন স্কুলে দ্বিতীয় শাখা পরিচালিত হচ্ছে। শাহজাহানপুর শাখায় ক্লাস হয় বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার এবং আরামবাগে শুক্র ও শনিবার ক্লাস হয়।

আলো আর্ট স্কুলে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলার ইতিহাসের প্রভাষক সঞ্জয় চক্রবর্তী।

মজার ব্যাপার হল সুবিধাবঞ্জিত শিশুদের এখানে বিনামূল্যে ছবি আঁকা শেখানো হলেও এদের মধ্যে একজনও কোনদিন অনৈতিক কোন কাজ করেনি।

বিভিন্ন দিবসে আলো আর্ট স্কুলের পক্ষ থেকে চিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় যেখানে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে চিত্রকলা বিষয়ক বই উপহার হিসেবে দেয়া হয়।

বিআরটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট মোসাম্মদ জোহরা খাতুন আলো আর্ট স্কুলের আসবাবপত্র কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করেন।

এছাড়া অন্যান্য পৃষ্টপোষক হিসেবে রয়েছে- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ব্রাইট আর্ট পাবলিকেশন্স ও শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনীকেন্দ্রিক সমাজসেবামূলক সংগঠন সকালের সূর্য।
বাক্তিগতভাবে নাসির উদ্দিন সোহাগ শিশুদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বই সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে দিয়ে থাকেন।

আলো আর্ট স্কুল কাগজ দিয়ে মোড়া বানানোর মত মণ্ডের শিল্প, ফুলদানী তৈরি, ঈদ কার্ড তৈরি বিষয়ক ওয়ার্কশপ এবং একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলা বর্ণ বিতরণ ও নগ্ন পায়ে প্রভাতফেরির অনুষ্ঠানে শিশুদের শহীদ মিনারে প্রভাতফেরির নিয়ে যাওয়া হয়।

আলোর প্রথম চিত্র প্রদর্শনী হয় ২০১৩ সালে ঢাকা আর্ট সেন্টার ধানমণ্ডিতে।

বশীর উল্লাহ মজুমদার আলো শাহজাহানপুর রেলওয়ে স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর নারায়ণগঞ্জ চারুকলা থেকে চারু কলায় প্রি-বিএফএ ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন তিনি। এর পাশাপাশি ঢাকার সরকারি তিতুমির কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস কোর্স সম্পন্ন করেন আলো। ১০ জানুয়ারি ১৯৮৭ সালে জন্ম নেয়া আলোর স্থায়ী ঠিকানা কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোর্টের বাইয়ারা গ্রামে। বাবা রেলওয়ের কর্মকর্তা হাবিব উল্লাহ মজুমদার চাকরির সুবাদে পরিবারসহ শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনীতে থাকার সময়ই আলো স্বপ্ন দেখতেন চিত্রশিল্পী হবার। বাবা ২০০৪ সালে ইন্তেকাল করার পর ৩ ভাই ৪ বোনের সংসারে ভাইদের মধ্যে সবার ছোট হবার সুবাদে চিত্রকর্ম করে অর্থ উপার্জনকে পেশা হিসেবে নিয়ে নিয়েছিলেন আলো। ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিয়ে করেন তিনি। অবসর সময় কাটান ছবি আঁকার কাজ করে। বর্তমানে আলো আর্ট স্কুলের শাহজাহানপুর শাখায় ৮০ জন ও আরামবাগ শাখায় ৩৫ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী রয়েছে। এর পাশাপাশি মূল পেশা হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে মতিঝিল কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ে চারু ও কারুকলার চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি।

বশীর উল্লাহ মজুমদার আলো মতিঝিল কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ে চারু ও কারুকলার চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে সপ্তাহে ২ দিন- শনি ও রোববার ক্লাস নেন। জাতীয়করণ না হবার কারণে চাকরি স্থায়ী না হবার কারণে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশে ২৪ হাজার চারু ও কারুকলার শিক্ষকের প্রয়োজন হলেও সরকার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পেরেছে মাত্র ১২ হাজার জনকে। একটি বিদ্যালয়ে মাত্র একজন চারু ও কারুকলার শিক্ষক থাকায় শিক্ষকদের ওপর অনেক বেশি চাপ থাকায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

Comments

comments