যে ১০টি খাবার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়
সাময়িকী

যে ১০টি খাবার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়

আমরা প্রতিনিয়ত যেসব খাবার খাই, তার অনেকগুলো ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। সুতরাং যেসব খাবার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, তা বর্জন করা স্বাস্থ্যের জন্য অতি প্রয়োজন। এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১০ ভাগ ক্যান্সারের মূল কারণ কোনো না কোনো খাবার। জেনে নিন যে ১০টি খাবার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

অর্গানিক নয় এমন খাবার খাওয়া থেকে সতর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। ফলমূল, শাকসবজি শরীরের জন্য অত্যাবশকীয় খাবার। শুধু আঁশ নয়, ফলমূল ও শাকসবজিতে রয়েছে অসংখ্য অত্যাবশকীয় উপাদান ও উপকরণ, যার অভাবে শরীর সুষ্ঠুভাবে কার্যসম্পাদন করতে পারে না। এসব উপাদানের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কিন্তু আজকাল শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদনে রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসব রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের কারণে খাবার শুধু খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে না, ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও আলুর চিপস খাওয়ার আগে একটু চিন্তা করুন। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও আলুর চিপস তৈরিতে ক্ষতিকর ও অস্বাস্থ্যকর স্ট্রান্সফ্যাট ব্যবহার করা হয়। ট্রান্সফ্যাটের সমস্যার কথা আমরা বহু আগে থেকে জানলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, এসব স্ন্যাকজাতীয় খাবারে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী অ্যাক্রাইলেমাইড নামের এক রাসায়নিক যৌগ উপস্থিত থাকে।

মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে আজকাল ঘরে ঘরে ভুট্টার খই তৈরি করা হয়। এক ধরনের বিশেষ থলেতে ভুট্টা রেখে মাইক্রোওয়েভে দিলে মিনিটের মধ্যে ম্যাজিক শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এ পদ্ধতিতে খই তৈরি করে খাওয়ার মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে। যে থলেতে ভুট্টা রেখে খই তৈরি করা হয়, তা থেকে পারফ্লোরোঅক্টানোয়িক অ্যাসিড নামের এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ উৎপন্ন হয়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, এ রাসায়নিক যৌগ লিভার, কিডনি, প্যানক্রিয়াসসহ আরও কয়েকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

লাল মাংস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। গরু, ছাগল, ভেড়া, শূকর ও অন্যান্য পশুর লাল মাংস সুষম খাবারের উৎস; যা শাক-সবজি ও ফলমূলে পাওয়া যায় না। অতিমাত্রায় লাল মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়- এ কথাটি পুরনো হলেও লাল মাংস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, এ কথাটি সম্প্রতি জানা গেছে। দ্য ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ড এবং অ্যামেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ক্যান্সার রিসার্চ প্রকাশ করেছে, যেসব মানুষের খাবারে লাল মাংসের আধিক্য থাকে, তাদের প্যানক্রিয়াস, পাকস্থলী, ফুসফুস, উওসোফেগাস, ব্রেস্ট ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। লাল মাংস রান্নার জন্য দীর্ঘক্ষণ ধরে উচ্চতাপ প্রয়োগ করতে হয়। অনেকে আবার পোড়া লাল মাংস খেতে পছন্দ করে। এসব পদ্ধতিতে লাল মাংস রান্না করার সময় মাংসে হেটারোসাইক্লিক অ্যামাইন তৈরি হয়, যা ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।

স্থূল মানুষ ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকে বেশি আক্রান্ত হয়। স্থূলতার ভয়ে আজকাল অসংখ্য মানুষ চিনির পরিবর্তে ডায়েট, জিরো ক্যালরি এবং লো-ক্যালরির কৃত্রিম চিনিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ক্যালরিবিহীন কৃত্রিম চিনি ওজন কমাতে বা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করলেও ক্যান্সার তৈরিতে ভূমিকা রাখে- এ কথাটি খুব কম মানুষই জানে।

রুটি, পেস্ট্রি, সাদা চাল, ময়দা, পেস্তা হল শর্করার প্রধান উৎস। এসব খাবার আমাদের প্রতিদিনের শক্তি জোগায়। কারণ এসব পরিশোধিত খাদ্যশস্য অতি সহজে ও অল্প সময়ে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয় এবং শরীরের কোটি কোটি কোষে পৌঁছার জন্য রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। এ দ্রুত সৃষ্ট গ্লুকোজ শুধু সাধারণ কোষের শক্তি জোগায় না, ক্যান্সার কোষের শক্তিও জোগায়। পরিশোধিত খাদ্যশস্য স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের একটি অন্যতম কারণ হলেও তা ক্যান্সার সৃষ্টি করে না। ক্যান্সার কোষ বা টিউমারের বয়োবৃদ্ধি ও সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে

সোডা অতি পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত পানীয়। সোডা শুধু তৃষ্ণা নিবারণ করে না, সোডা পান ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়। অন্যান্য মিষ্টি কোমল পানীয়র মতো সোডার মধ্যেও রয়েছে অ্যাসপার্টেমের মতো অনেক কৃত্রিম চিনি। আগেই বলা হয়েছে, অ্যাসপার্টেম অতি সুপরিচিত কারসিনোজেন (যা ক্যান্সার সৃষ্টি করে)। এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাসপার্টেম মস্তিষ্ক ক্যান্সার সৃষ্টির প্রবল ঝুঁকি বাড়ায়।

লবণে জারিত বা ধুমশোধিত শূকরের মাংস, হটডগ, সালামি, মিটলোফ এবং সসেজ বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের খাবার। এসব খাবার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় বেশ দ্রুত গতিতে। প্রক্রিয়াজাত মাংসে সোডিয়াম নাইট্রেটের মতো ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ থাকে। সোডিয়াম নাইট্রেটসহ অন্যান্য রাসায়নিক যৌগ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে। নাইট্রেট খাওয়ার পর এন-নাইট্রোসো যৌগে রূপান্তরিত হয়। এসব মেটাবলিক যৌগ শরীরে ক্যান্সার তৈরিতে সাহায্য করে।

মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে অ্যালকোহল পান ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে এক পরীক্ষায় দেখা গেছে। অ্যালকোহল শরীরের সুস্থ কোষকে ধ্বংস করে এবং পরবর্তী সময়ে ক্যান্সার কোষই শূন্যস্থান পূরণ করে নেয়। অ্যালকোহল অর্থাৎ ইথাইল অ্যালকোহল শরীরে বিশোধিত হওয়ার পর রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অ্যাসিটেলডিহাইডে রূপান্তরিত হয়। অ্যাসিটেলডিহাইড ডিএনএ ভেঙে দেয়ার মাধ্যমে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। এ ক্ষতিকর কারসিনোজেন অসুস্থ কোষকে মেরামতের মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সুযোগ দেয় না। ফলে ক্যান্সার কোষের বয়োবৃদ্ধি ও বিস্তারলাভ ঘটে অতি দ্রুত গতিতে।

১০

টমেটো সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম। টমেটোতে লাইকোপেন, লিউটিন, বিটা-কেরটিন ও কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়াও টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি ও কোলিক অ্যাসিড। কিন্তু টিনজাত টমেটো ক্যান্সারের জন্য ভালো নয়। সব টিনজাত খাবারের মতো টমেটোর টিনের অভ্যন্তরীণ দেয়ালে আস্তর হিসেবে ব্যবহৃত বিসফেনোল-এ নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের সংস্পর্শে আসে টমেটো। বিসফেনোলের কারণে স্তন ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। সুতরাং টিনজাত টমেটোর পরিবর্তে তাজা টমেটো খাওয়াই উত্তম।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *