ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জিল্লার রহমান বলেন, গুলি করার যৌক্তিকতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সারাদেশ

কালিহাতীর ঘটনায় পুলিশের ৭ জনকে প্রত্যাহার

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জিল্লার রহমান বলেন, গুলি করার যৌক্তিকতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের ঘটনায় ৩ জন নিহত হওয়ার পর সেখানকার দায়িত্বরত পুলিশের ৭ জনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এর মধ্যে ৩ জন সাব ইন্সপেক্টর এবং ৪ জন কনস্টেবল রয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান আজ শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জিল্লার রহমান বলেন, গুলি করার যৌক্তিকতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে এই ঘটনা তদন্তে ও সেখানে দায়িত্ব পালনকারীদের দায়দায়িত্ব নিরূপণের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

পুলিশের ভারপ্রাপ্ত আইজি মো. মোখলেছুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত ডিআইজি (ডিসিপ্লিন) মো. আলমগীর আলমকে সভাপতি, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আক্তারুজ্জামান এবং টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসলাম খানকে সদস্য করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ধৈর্য ধারণ করে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পুলিশ ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মা ও ছেলেকে বিবস্ত্র করে ছেলের সামনেই মাকে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের বিচার দাবিতে শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে কালিহাতী উপজেলা সদরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে লাঠিপেটা ও পরে রাবার বুলেট ছোড়ে। ওই সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে বিজিবি ও র‌্যাব পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয়। এ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। গুলিবিদ্ধ হন আরো সাতজন।

এদিকে, শুক্রবারের ওই ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। উপজেলা সদর দিয়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করলেও শহরের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শহরে লোকজনের উপস্থিতি কম।

তবে পুলিশ ও বিজিবি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, মা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে তাদের ওপর নির্যাতন চালায় ঘটনায় গতকাল শুক্রবার এলাকাবাসী বিক্ষোভ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ও তাদের মধ্য সংঘর্ষে হয়। এ ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ২৫ জনের মতো আহত হয়।

আজ দুপুরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আশরাফ আলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ৩ জনই বুলেটবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

নিহতরা হলেন- উপজেলার কালিয়া গ্রামের শামীম (৩২), কুষ্টিয়া গ্রামের ফারুক (৩৫) ও সালেঙ্কা গ্রামের শ্যামল দাস (১৫)।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *