কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। শুধু সরকারের নির্বাহী আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের আপিলের চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা না করলে তার রায় যেকোনো সময় কার্যকর করা যাবে। তবে ফাঁসির রায় কার্যকরের বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

 বুধবার দুপুরে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
 মাহবুবে আলম বলেন, “শুধুসময় ক্ষেপণের জন্যই কামারুজ্জমানের রায় রিভিউ’র কথা বলছে আসামিপক্ষ। রায় কার্যকর করতে আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের কোনো দরকার নেই।”
মাহবুবে আলম বলেন, “পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যুদ্ধাপরাধীদের একটি আদালতেই বিচার হয়, এখানেও ট্রাইবুনালে বিচার হচ্ছে, তারপর আপিল করারও সুযোগ পাচ্ছে আপিল বিভাগে। রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষার সুযোগও তারা পাবে। কিন্তু তারপরও তারা যে রিভিউয়ের কথা বলছে তা কেবলই সময়ক্ষেপণের জন্য।”
 ‘জেল কোডের বিধান অনুযায়ী রায়ের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য আসামি ৭ দিন সময় পান, কামারুজ্জামান সে সুযোগ পাবেন কি-না?’ এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “তা কামারুজ্জামান পাবেন না।”
‘আসামি যদি প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে চান সে ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপির প্রয়োজন আছে কি-না?’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সে সুযোগও নেই। সরকার যখন চাইবে তখনই তার ফাঁসি কার্যকর হবে।”
এর আগে বুধবার সকালে কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। পরিবারের নয় সদস্য প্রায় ৫০ মিনিট একান্তে কথা বলেন কামারুজ্জামানের সঙ্গে। সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কামারুজ্জামানের বড় ছেলে ইকবাল হাসান ওয়ামি। তিনি জানান, তার বাবা সবাইকে ধৈর্য ধারণের কথা বলেছেন।
এ সময় হাসান ইকবাল বলেন, “রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেলে ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ করা হবে। সেভাবেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, কামরুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য কারাগারের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থায়ী ফাঁসির মঞ্চ তৈরি ও ধোয়া-মোছার কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে সোমবার সকালে দুইবার ফাঁসির মহড়া দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও কমপক্ষে ২০ জন জল্লাদের তালিকা কারা কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জল্লাদ জনি, রাজু, পল্টু, আলমগীর, এরশাদ, সাত্তার ও রানা রয়েছেন। জনি মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরে সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেছেন। জল্লাদের তালিকায় তার নাম প্রথম স্থানে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। এর আগে ২০১৩ সালের মার্চে ট্রাইব্যুনাল তাকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *